কলার মোচার 15 টি উপকারিতা ও অপকারিতা
আরো পড়ুনঃ কোয়েল পাখির ডিমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
কলার মোচা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী একটি তরকারি। ফল হিসাবে কলা যেমন উপকারিতা তেমন সবজি হিসেবেও কলার মোচা অনেক উপকারী। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, আইরন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান। বারোমাসি সবজিটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমন পুষ্টিকর।
কলার মোসাকে ইংরেজিতে বলা হয় ব্যানানা ফ্লাওয়ার। কমবেশি আমরা কলার মোচা সকলেই চিনি। তবে আজকে আমরা আমাদের আর্টিকেলে আপনাদের সাথে শেয়ার করব কলার মোছার পনেরটি উপকারিতা ও অপকারিতা এবং এর পুষ্টি গুনাগুন সম্পর্কে। তাহলে বিস্তারিত জানতে সম্পন্ন পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ কলার মোচার 15 টি উপকারিতা ও অপকারিতা
কলার মোচার ১৫ টি উপকারিতা
কলার মোচা রান্না করে খেতে খুবই মজাদার ও সুস্বাদু একটি তরকারি। কলা বা কলার মোচা
কয়েক রকম ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। কলার মোচার জীবন অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে,
এতে অনেক উপকারিতা ও রয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক কলার মোচার কার্যকরী ১৫ টি
উপকারিতা সম্পর্কে।
- রক্তস্বল্পতা দূর করে
- মন ভালো রাখে
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে রাখে
- হিমোগ্লোবিনের উৎস
- শরীর গঠন করে
- আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে
- পলিসিস্টিকি ওভারিয়ান সমস্যা কমায়
- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে
- ব্লাড প্রেসার কমায়
- হজম ক্ষমতা বাড়ায়
- আমাশা রোগের ওষুধ
- বুকের দুধটা দিতে সাহায্য করে
- মেয়েদের পিরিয়ড জনিত সমস্যা দূর করে
- ক্যান্সার প্রতি হত করে
- ভিটামিনের উৎস
চলুন কলার মোচার উপকারিতা গুলো সম্পর্কে একটু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করিঃ
১। রক্তস্বল্পতা দূর করে: রক্তের মূল উপাদান হিমোগ্লোবিন কে শক্তিশালী করতে কলার
মোছার তুলনা হয় না। দেহের রক্তের পরিমাণ ঠিক রাখতে এবং রক্তশূন্য তাই ভোগ আর
রোগীদের জন্য কলার মোচা খুবই উপকারী একটি তরকারি। আপনি যদি রক্তস্বল্পতায় ভুবেন
তাহলে অবশ্যই খাবারের তালিকায় কলার মোচা রাখুন।
আরো পড়ুনঃ
টমেটোর পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা
২। মন ভালো রাখেঃ কোথায় আছে শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে, কলার মোচায় রয়েছে
ম্যাগনেসিয়াম যা উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে। যার ফলে শরীর সুস্থ থাকে এবং
মন মেজাজ ভালো থাকে।
৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ ডায়াবেটিস নিয়ম রোগীদের জন্য কলার মোচা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কলার মোচা খেলে রক্তে থাকা চিনির মাত্রা কমে এবং ইনসুলিনের
মাত্রা ঠিক রাখে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের রাখতে কলার মোচার ঊর্ধ্বে কিছু নেই।
আপনি যদি ডায়াবেটিসের আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে কলার মোচা খেয়ে দেখুন অবশ্যই
উপকার পাবেন।
৪। হিমোগ্লোবিনের উৎসঃ মোচাই রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, আর উচ্চমাত্রার লৌহ
উপাদান, যা লোহিত কণিকার উপাদান বাড়ায়। যার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে
সাহায্য করে।
৫। শরীর গঠন করেঃ কলার মোচা কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় আপনার
শরীরের গঠন উন্নত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শক্তিশালী করে তোলে। শরীরের গঠন ঠিক
রাখতে অবশ্যই নিয়মিত কলার মোচার খেতে হবে।
৬। আইরনের ঘাটতি পূরণ করেঃ মোচাই রয়েছে অনেক রকমের ভিটামিন, পটাশিয়াম, ফসফরাস,
লৌহ যা শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। যাদের শরীর অল দুর্বল বা অল্পতে অসুস্থ
হয়ে পড়ে তাদের জন্য কলার মোচা ভীষণ উপকারী একটি কার্যকারী তরকারি। যার ফলে
আপনার বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন পড়বে না।
৭। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ কলার মোচায় থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ করে। অকালে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ভয় থাকে না এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে
সাহায্য করে। তাই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে অবশ্যই মোচার তরকারি খাবেন।
৮। ব্লাড প্রেসার কমায়ঃ কলার মোচায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, যা আপনার
শরীরে থাকা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে এবং উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা কমায়। যারা
ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারা নিয়মিত খাবারের তালিকায় মজার
তরকারি রাখুন। ব্লাড প্রেসার এর সমস্যা দূর হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
৯। ত্বক ভালো রাখেঃ মোচায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যার ফলে আপনাকে অকালে বৃদ্ধ হওয়া ও বয়সের ছাপ করা কমায়
এবং ত্বকক কোমল ও মসৃন রাখতে সাহায্য করে। তাই চেষ্টা করবেন নিয়মিত কলার মোচা
রান্না করে খাওয়ার। এটা আপনার ত্বক ভালো রাখতে ভীষণ কার্যকারী ভূমিকা পালন
করে।
১০। হজম শক্তি বাড়ায়ঃকলার মোচায় প্রচুর পরিমাণে আশ পাওয়া যায় যা হজম শক্তি
বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যই যদি ভুগে
থাকেন তাহলে নিয়মিত পরিণত পরিমাণে কলার মোচা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
১১। আমাশয় রোগের ওষুধঃ কলার মোচাকে তো অনেকেই আমসা রোগের ওষুধ হিসেবে বলে থাকে।
কেননা আপনার যদি আমাশয় হয় বা ডায়রিয়া তাহলে কলা এবং কলার মোচা রান্না করে
খান। এই তরকারি টি এতই উপকারী আমাশয় রোগের জন্য যে আলাদাভাবে ওষুধ খাওয়ার
প্রয়োজন পড়বে না।
১২। বুকের দুধ তৈরিতে সাহায্য করেঃ কলার মোচায় রয়েছে প্রাকৃতিক
গ্যালাকটাগাগ । যা স্তন্যদানকারী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
তাদের ছোট বাচ্চা রয়েছে বা বাচ্চা বুকের দুধ খায় তারা নিয়মিত সবজি তরকারি
হিসেবে কলার মোচা খাবেন। এটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখবে এবং বুকের দুধ বৃদ্ধি
করতে সাহায্য করবে।
১৩। মেয়েদের পিরিয়ড জনিত সমস্যা দূর করেঃ মেয়েদের পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায়
বেশি রক্তপাতের সমস্যায় ভুগেই থাকেন অনেকে। এতে শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং ব্যথা
অনুভব করে। এর সহজ সমস্যার সমাধান হলো পিরিয়ড চলাকালীন প্রতিদিন নিয়মিত কলার
মোচা তরকারি রান্না করে খান। এতে আপনার শরীরের দুর্বলতা কমবে এবং রক্তস্বল্পতা
দূর করবে।
১৪। ক্যান্সার প্রতিহত করেঃ শরীরে ফ্রি ও রেডিক্যাল এর উপস্থিতি বিভিন্ন রকম
রোগের কারণ হতে পারে। কলার মোছার নির্যাস এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে
শরীরে ক্যানসার প্রতিহত করতে সাহায্য করে। কলার মোচা প্রাথমিকভাবে ক্যান্সার কে
দূর করতে সাহায্য করে।
১৫। ভিটামিনের উৎসঃ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ইত্যাদি ভিটামিন এ ভরপুর
কলার মোচা। সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কলার মোছা রাখুন। তাহলে
আপনার শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করবে এবং সুস্থ থাকবেন।
কলার মোচার পুষ্টিগুণ
আরো পড়ুনঃ
বয়লার মুরগির পুষ্টিগুণ ও ৮টি ক্ষতিকারক দিক
কলার মোচাতে পুষ্টি উপাদান থাকে সবচেয়ে বেশি। কলার মোচা দেখতে যেমন সুন্দর তেমন
খেতেও সুস্বাদু। পুষ্টিতে অতুলনীয় হওয়ায় গলার মোচা সবার কাছে অনেক মজার একটি
তরকারি। আজকে আমরা জানবো কলার মোচায় কি কি পুষ্টি উপাদান থাকে এবং কি পরিমান
থাকে সেই সম্পর্কে। প্রতি 100 গ্রাম কলার মোচায় রয়েছে:
পুষ্টি উপাদান ও পরিমাণঃ
১। প্রোটিন ১.৭ গ্রাম
২। ক্যালসিয়াম ৩২ মিলিগ্রাম
৩। পটাশিয়াম ১৮৫ মিলিগ্রাম
৪। ফসফরাস ৪২ মিলিগ্রাম
৫। ভিটামিন এ ২৭ মিলিগ্রাম
৬। ভিটামিন সি ৪২০ মিলিগ্রাম
৭। ফ্যাট ৩.৭ গ্রাম
৮। লৌহ ১.৬ মিলিগ্রাম
৯। কার্বোহাইড্রেট ৫.১ গ্রাম
১০। আঁশ ১.৩ গ্রাম
কেন খাবেন কলার মোচা
কলা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও বহুল চাষকৃত ফল। কাঁচা কলা থেকে শুরু করে পাকা
কলা, কলার থোর, এমনকি কলার মোচাও আমাদের খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল
করে আছে। কলার মোচা কৃষিজ উপজাত হিসেবে গণ্য হলেও, বিশ্বের বহু দেশে এটি সুস্বাদু
ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়।।
এটি অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর এক ধরনের ফুল। কলার মোচা বহু বছর ধরে গ্রামীণ সমাজে
বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া হয়। তবে শুধু স্বাদের জন্য নয়, আধুনিক গবেষণায়
দেখা গেছে যে কলার মোচা এক অনন্য ভেষজ খাদ্য যা শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে
কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
কলার মোচার অপকারিতা
কলার মোচার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। পরিমাণের চাইতে
বেশি খেলে অবশ্যই উপকারের চাইতে ক্ষতি হবে। তাই যে কোন জিনিস পরিমাণ মতো খাবেন
উপকার পাবেন এটাই স্বাভাবিক। অতিরিক্ত পরিমাণ কলার মোচা খেলে কি কি ক্ষতি হয়
আজকে আমরা সেই সম্পর্কে জানব। চলুন তাহলে কলার মোচার অপকারিতা সম্পর্কে একটু জেনে
নেই।
১। কলার মোচায় অতিরিক্ত আয়রন থাকায় বেশি পরিমাণ খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য
হতে পারে।
২। যাদের বাথরুমের সমস্যা রয়েছে তারা কলার মোচা কম খাবেন।
৩। কলার মোচা বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ তাই অতিরিক্ত খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে
পারে।
৪। যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কলার মোচা খাবেন।
কারণ কলার মোচাই রয়েছে ফেনোলিক এসিড যা এলার্জি রোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য
করে।
কলার মোচা রান্নার রেসিপি
কলার মোচা অনেক সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি তরকারি তা আমরা অনেকেই জানি। তবে
রান্নার রেসিপিটি হয়তো অনেকেই জানেন না, তাই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব কলার
মোচা কিভাবে রান্না করবেন তার কার্যকারী পদ্ধতিগুলি। চলুন তাহলে রান্নার রেসিপিটি
জেনে নিন।
- কলার মোচা ২টি
- রসুন বাটা ১ চা চামচ
- আদা বাটা ১ চা চামচ
- পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
- মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
- হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
- জিরার গুড়া আধা চা চামচ
- ধনে গুড়া আধা চা চামচ
- লবন স্বাদ মত
- সরিষার তৈল ৩ টেবিল চামচ
- শুকনো মরিচ দুইটি
- দারচিনি কয়েক টুকরো
- এলাচ তিন থেকে চারটি
- কাঁচা মরিচ দুই থেকে তিনটি
- তেজপাতা দুইটি
প্রস্তুত প্রণালীঃ
মোচার ওপরে বড় পাপড়ির মতো অংশ একটা একটা করে খুলে ভেতরের অনেকগুলো ফুল পাওয়া
যাবে। ফুল গুলোর ভিতরে একটি লম্বা চিপস থাকে সেটি ফেলে দিয়ে, ভেতরে একটি লম্বা
সিট থাকে সেটি ফেলে দিয়ে ফুলটি নিয়ে নিতে হবে। এভাবে মচার ওপরের পাপড়ির অংশ
খুলতে খুলতে ভেতরের একদম নরম একটি অংশ পাওয়া যাবে। সবগুলো এভাবে বেছে নেবার পরে,
বটি দিয়ে খুব চিকন চিকন করে কেটে নিতে হবে।
এরপর ভালোমতো ধুয়ে নিয়ে রান্নার পাতিলে অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে নিন, পানিটা
ফুটে ফুটলে হলুদ, মরিচের গুঁড়া, ধনে গুড়া, লবণ দিয়ে দিন। এরপর ধুয়ে রাখা কলার
মোচাগুলি দিয়ে দিন। এখন ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। কলার
মোচার সাথে চাইলে আপনি কাঁচা কলা বা কুচি কুচি করে আলু দিতে পারেন। এরপর সিদ্ধ
হয়ে গেলে রান্নার পাতিল থেকে ঢেলে তাতে থাকা পানিটুকু ছেঁকে ফেলে দিন।
এরপর আবার একটি পাত্র বসান। এখন পাত্রে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, রসুন, আদা বাটা,
দারচিনি, তেজপাতা, শুকনো মরিচ, এলা এই উপকরণগুলি দিয়ে ভালোমতো ভেজে দিন।
মসলাগুলো ভালো মতো ভাজা হয়ে গেলে, সিদ্ধ করা কলার মোচা দিয়ে দিন। কলার মোচাই
থাকা পানি মরে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এখন ভালোমতো ভাজা হয়ে গেলে জিরা
গুড়া দিয়ে নামিয়ে নিন।
গর্ভাবস্থায় কলার মোচা খাওয়ার উপকারিতা
কলার মোচা এবং কাঁচা কলার তরকারি আমাদের অনেক পছন্দের একটি তরকারি। এই সবজিটি
রান্না করলে খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি অনেক ভিটামিন আইরন পটাশিয়াম, আরো অনেক
পুষ্টিগুণে ভরপুর। আর বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই তরকারি গর্ভবতী মায়ের জন্য খুব
উপকারী ও স্বাস্থ্যকর। আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে কলার মোছার ঊর্ধ্বে কিছু নেই।
যারা সন্তান ও মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে চিন্তিত, তারা বেশি বেশি কলার
মোচার তরকারি রান্না করে খাবেন। এটি মা ও বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধির উন্নতি ঘটাতে
সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় কলার মোচা খাওয়ার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিচে আপনাদের
সুবিধার্থে কিছু বর্ণনা প্রদত্ত হলোঃ
১। কলার মোচায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ইত্যাদি যা পেটের
বাচ্চার মস্তিষ্কের গঠন সুস্থ করতে সাহায্য করে।
২। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন যা বাচ্চার হার মজবুত করতে সাহায্য
করে।
৩। শিশু ত্বক ও চুলের গঠন ঠিক রাখে এবং ত্বককে কোমল মসৃণ করতে সাহায্য করে।
৪। কলার মোচাই অনেক রকম ভিটামিন থাকার কারণে গর্ভবতী মায়ের গর্ভে থাকা বাচ্চার
দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়।
৫। বাচ্চা গর্বে থাকাকালীন বেশি বেশি গলার মোচা খেলে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি পায়।
৬। কলার মোচায় থাকা ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম শিশুর দৈহিক গঠনে উন্নতি ঘটায়।
সুস্থ স্বাভাবিক শিশু জন্ম দানের জন্য অবশ্যই গর্ভবতী মাকে বাচ্চা গর্ভে
থাকাকালীন কলার মোচা খেতে হবে। এতে গর্ভবতী মায়ের আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক এর
ঘাটতি পূরণ করে এবং সুস্থভাবে বাচ্চা প্রসবের সাহায্য করে। আপনার শরীরে পর্যাপ্ত
পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, আইরন থাকলে নরমাল ডেলিভারিতে সমস্যা হবে না।
কলার মোচার ১৫ টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত প্রশ্নঃ
প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় কলার মোচা খাওয়া যাবে কি?
উঃ নারীদের জন্য শিশু সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কলার মোচা
খাওয়া যাবে। কলার মোচা অনেক স্বার্থপর একটি খাবার। মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য
ভালো রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ কলার মোচায় কি অ্যালর্জি আছে?
উঃ যাদের শরীরে এলার্জি আছে তাদের কলার মোচা সাবধানে খাওয়া উচিত। কলার মোচায়
থাকা ফিনলিক এসিড এলার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ কলার মোচা খেলে কি হয়?
উঃ কলার মোচা উৎসব ফাইবার ও আয়রন সমৃদ্ধ যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের সাহায্য
করে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়।
প্রশ্নঃ কলার মোচায় কি কি ভিটামিন আছে?
উঃ কলার মোচায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ইত্যাদি।
এছাড়াও পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আস উপাদান বিদ্যাবন আছে।
প্রশ্নঃ কলার মোচা খেলে কি কি সমস্যা দূর হয়?
উঃ কলার মোচা অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারে যেমন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
রাখে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে, হিমোগ্লোবিন মাত্রা বাড়ায়,
কেন রোগ সারায়, শরীরের গঠন ঠিক রাখে, আমাশার রোগ সরাতে সাহায্য করে
ইত্যাদি।
আরো পড়ুনঃ সোনা পাতা কি ওজন কমায়
শেষ কথা
কলার মোচা আমাদের সবজি বাজারে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। শরীর সুস্থ রাখতে
এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অবশ্যই আজ থেকে নিয়মিত কলার মোচা খাওয়ার
অভ্যাস তৈরি করুন। নিয়মিত শরীরের দুর্বলতা কমাতে এবং আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে
ভীষণ কার্যকারী কলার মোচা। দামে কম তাই এটা খাবার জন্য আপনাকে ব্যয়বহুল খরচ করতে
হবে না। আমার অনেক পছন্দের একটি সবজি, এটা খেতে যেমন সুস্বাদু তেমন
স্বাস্থ্যকর।
প্রিয় পাঠক, আশা করি কলার মোচার ১৫ টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে এতক্ষণ জেনে
গেছেন। তাহলে আর দেরি না করে পরিবারের সবাইকে করার মোচা খাওয়ার জন্য উৎসাহিত
করুন ।এবং আমার আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এতক্ষণ
ধৈর্য ধরে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

.webp)
.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url