তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
আরো পড়ুনঃ ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা ও ৫ টি অপকারিতা
আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারবেন, তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত। তুলসী পাতা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে কেননা তুলসী পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক যৌগ। যার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
এ পোস্টটি থেকে আপনারা আরো জানতে পারবেন তুলসী পাতার ব্যবহার, তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম, খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা। তুলসী পাতার অনেক ঔষধি গুনাগুন রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তুলসী পাতা খেলে আমাদের শরীরে দাদার সমস্যা দূর হয়ে যায়। এটা তো আমাদের নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়া উচিত।
পেজ সূচিপত্রঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
তুলসী পাতার উপকারিতাঃ তুলসী পাতার অপকারিতা
এই প্রাচীন কাল থেকেই তুলসীপাতা বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
তাই ওষুধ হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার বেশ পুরনো। এজন্য বলা হয় তুলসী পাতার
উপকারিতা অনেক। এই পাতায় এন্টি ইনফর মেটরি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান
রয়েছে। এটি মারাত্মক সব রোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এটি
ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ,জ্বর ,সর্দি ,কাশি ,ইত্যাদি রোগের অনেক উপকারী।
এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার করে থাকে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক তুলসী
পাতার উপকারিতা সমূহ ।
১।জ্বর সর্দি কাশিতেঃ তুলসী গাছ অনেক পরিচিত একটি গাছ। এই গাছের পাতা খুবই
উপকারী। এটি সর্দি কাশি সারাতে খুব দ্রুত কাজ করে থাকে। কারো বুকে কফ বসে গেলে
প্রতিদিন সকালে তুলসীপাতা রস আদা ও চা পাতা ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে তাতে মধু ও
লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তাহলে খুব দ্রুতই কফের সমস্যা দূর হয়ে
যাবে।
২। গলা ব্যথা দূর করতেঃকারো গলা ব্যাথার সমস্যা থাকলে নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার
অভ্যাস করেন। তাহলে গলা ব্যথা সমস্যার সম সহজে দূর হয়ে যাবে। কেননা করো না
মহামারীর সময় অনেকেই নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলেছিল।
৩। ওজন কমাতেঃ ওজন কমাতে তুলসী পাতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ
হচ্ছে তুলসী পাতা রক্তে থাকা কোলেস্টরেল ও সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে
সাহায্য করে। তাই এটি শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমাতে নিয়মিত তুলসী
পাতা খেতে পারেন।
৪। দাঁতের জন্য উপকারীঃ দাঁত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং শক্ত সবল রাখতে তুলসী পাতা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুলসী পাতার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোবিয়াল ও এন্টি
ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আমাদের দাঁত শক্ত করে দাঁতের মাড়ি শক্ত করে এবং মুখের
দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
৫। ত্বক পরিষ্কার রাখতেঃ তুলসী পাতা ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ এবং ত্বক পরিষ্কার
রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুলসী পাতায় রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক
উপাদান, ত্বকের ব্যাকটেরিয়া এবং আর্থাশীল দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
৬। মাথাব্যথা কমাতেঃ তুলসী পাতা মাথা ব্যাথা কমাতে দূর করতেস কার্যকর একটি
উপাদান। মাথা ব্যথা দূর করতে তুলসী পাতার উপকারিতা গুণ অনেক বেশি। যার কারনে
আপনারা চাইলে নিয়মিত তুলসী পাতা খেয়ে মাথা ব্যথা পুরোপুরি দূর করতে
পারেন।
৭। কিডনি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে তুলসী পাতাঃ কিডনি সুস্থ ও স্থাপন রাখতে
ছাড় দারুন কার্যকরী। একটি উপাদান। তুলসী পাতা রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান
ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে
এবং কিডনি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং সচল রাখতে সাহায্য করে। তাই কিডনি সুরক্ষায়
নিয়মিত তুলসী পাতা খেতে পারেন।
৮। হার্টের সুরক্ষায় তুলসী পাতাঃ রক্ত জমাট বাঁধা দূর করতে সাহায্য করে এবং
পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহযোগিতা করে। যার ফলে হার্ট সুস্থ ও সরল রাখার
জন্য তুলসী পাতার উপকারিতা অনেক তাই আপনারা চাইলে নিয়মিত তুলসী পাতা
খেয়ে আপনাদের সুস্থ সবল হার্ট ভালো রাখতে পারেন।
৯। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে তুলসী পাতা খুবই উপকারী। কেননা
তুলসী পাতা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায়, এবং সেইসাথে তুলসী পাতা
এন্টি ডায়াবেটিক ওষুধের মত কাজ করে থাকে। তাই আপনারা চাইলে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে তুলসী পাতা নিয়মিত খেতে পারেন।
১০। পেট পরিষ্কার রাখতেঃ পেট পরিষ্কার রাখতে এবং পেটের সমস্যা বিভিন্ন সমস্যা দূর
করতে তুলসী পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেট ব্যথা থাকলে তুলসী পাতা
গরম পানিতে ফুটিয়ে খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা এবং পেট ব্যথা সহজেই ভালো হয়ে
যায়।
১১। লিভারের সমস্যা দূর করতেঃ তুলসী পাতায় রয়েছে হেপাটো প্রটেকটিভ উপাদান যা
লিভার ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ও লিভার কোন প্রকার বিষক্রিয়া
থাকলে তুলসী পাতা সেটা দূর করতে সাহায্য করে। লিভার যেহেতু আমাদের একটা
গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সেক্ষেত্রে লিভারের সমস্যা হলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
তারপর তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারেন।
১২। চোখের সমস্যা সমাধানেঃ চোখের সমস্যা সমাধানে তুলসী পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
একটি উপাদান। কারণ তুলসী পাতা রয়েছে অ্যান্টি ইনফরমেটরি উপাদান যা আমাদের চোখের
সমস্যা সমাধানের কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। তাই চোখের কোন সমস্যা থাকলে তুলসী
পাতার রস খেতে পারেন।
তুলসী পাতার পরিচিতি
তুলসী পাতার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে (ocimum basilium Linn)। তুলসী পাতা সাধারণত
একটি হলে শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট ছোট্ট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।
এই গাছটি সাধারণত থেকে জন্মায়। সারা বছরের পাতার সংগ্রহ করা যায়। তুলসী পাতা
বিভিন্ন রকম ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর পাতা
চিবিয়ে খাওয়া যায়, বাবা একটা রস করে রস খাওয়া যায়। তুলসী পাতার চা বেশ
সুস্বাদু। আপনারা চাইলে তুলসী পাতার রস করে চায়ের সাথে মিশে খেতে পারেন।
এটি সেই প্রাচীনকাল থেকে এখন পর্যন্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহার
হয়ে আসছে। এছাড়া সর্দি-কাশি কৃমিও নাশক বায়োমাসক হজম কারক ও এন্টি হিসেবে
ব্যবহার হয়। এছাড়াও এর এর অনেক ব্যবহার রয়েছে।
তুলসী পাতার অপকারিতাঃ তুলসী পাতার উপকারিতা
১।গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপান করার সময়ঃ গর্ভাবস্থায় বা মা হওয়ার পর স্তন্যপান
করার সময় তুলসী পাতা ব্যবহার না করাই উত্তম, কারণ এর সময় তুলসী পাতা খেলে নানা
রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় তুলসী পাতা না খাওয়াই ভালো। তাছাড়া
তুলসী পাতা বেশি পরিমাণে খেলে এটি বন্ধুত্বের কারণ হতে পারে। এইজন্য তুলসী পাতা
বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো এর সময়ে এটি অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত।
২। রক্তপাতের সমস্যা হতে পারেঃ তুলসী পাতা বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের রক্তের
প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা
একেবারেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যার ফলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্ভাবনা দেখা দিতে
পারে। আবার কোনরকম সার্জারি বা অপারেশন কাটা ছাড়া ইত্যাদি হলে তুলসীপাতা এড়িয়ে
চলবেন। কারণ এ সময়ে খেলে শরীরে অনেক ক্ষতি হতে পারে।
৩। নিম্ন রক্তচাপঃ তুলসী পাতায় অতিরিক্ত পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় উচ্চ রক্তচাপ
কমে যেতে পারে। তাই আপনারা যদি চান নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তুলসী
পাতা না খাওয়াই ভালো।
তুলসী পাতার ব্যবহার
তুলসী গাছ হচ্ছে একটা ঔষধি গাছ। তাই এই তুলসী পাতার ব্যবহার বলে শেষ করা যায় না।
তুলসী পাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তুলসী পাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে
ব্যবহার হয়ে থাকে এই পাতা যে শুধু সর্দি কাশিতে ব্যবহার হয় এমনটা না এটি
রূপচর্চা সাথেও এ পাতার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এজন্য বলা হয়ে থাকে যে তুলসী
পাতার উপকারিতা অনেক। চলুন জেনে নেয়া যাক তুলসী পাতার ব্যবহার সম্পর্কে।
১। তুলসী পাতা পানিতে মিশিয়ে তাপ ফুটিয়ে পান করতে পারেন, তাহলে এর থেকে আপনি
অনেক উপকার পাবেন।
২। তুলসী পাতার রসের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে পান করলে এর অনেক উপকার
পাওয়া যায়।
৩। শুধু তুলসী পাতা পরিষ্কার করে এটি চিবিয়ে খাওয়া যায়।
৪। তুলসী পাতা ত্বক ও মুখের জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তুলসী
পাতার রসের সাথে বেসন মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে তা মুখে মাখলে মুখের অনেক দাগ
দূর হয় এবং ত্বক অনেক সুন্দর হয়।
৫। হাত পায়ের কালো দাগ দূর করতে তুলসী পাতার রস দুধ কাঁচা হলুদ মিশে হাতে পায়ে
মাখলে এর কালো দাগ সহজেই দূর হয়ে যায়।
৬। তুলসী পাতার রস টাই এর সাথে মিশিয়ে খেলে এটি কাশির জন্য অনেক উপকার করে
থাকে।
৭। ফুটন্ত গরম পানিতে তুলসী পাতা মিশিয়ে এই পানের ভাব নিলে ব্রণের সমস্যা থেকে
মুক্তি পাওয়া যায়।
তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন তুলসী পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু জানেন কি
তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম। সঠিক নিয়মে তুলসী পাতায় খেতে পারলে এর অনেক উপকারিতা
পাওয়া যায় এবং অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তুলসী পাতা আয়ুর্বেদ ওষুধ
তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই জানা উচিত তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
সম্পর্কে, তাহলে এর থেকে আমরা অনেক উপকৃত হব। চলুন তাহলে জেনে নেই তুলসী পাতা
খাওয়ার নিয়ম।
১। প্রথমে কয়েকটা তুলসী পাতা নিয়ে তা পরিষ্কার করে নিতে হবে, তারপর এই পাতার রস
করতে হবে এবং সেই রস গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করতে হবে। তাহলে শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে এবং ত্বকের অনেক সমস্যা দূর হবে।
২। তুলসী পাতা আপনি চাইলে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এই তুলসী
পাতার গুড়ো আপনি মধুর সাথে মিশেও খেতে পারেন অথবা চায়ের সাথে মিশে খেতে পারেন।
এতে আপনার শরীরে অনেক উপকার হবে ।
৩। তুলসী পাতার রস করে আপনি এই রস এমনিতেও খেতে পারেন, আবার মধুর সাথে মিশিয়ে
খেতে পারেন, এতে আপনার কাজের জন্য অনেক উপকারী।
শিশুদের তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
তুলসী পাতা, টিস্যু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের তুলসী পাতা অনেক উপকার করে
থাকে। তুলসী পাতার উপকারিতা অনেক। এজন্য শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সে মানুষের
জন্য এটি অনেক উপকার করে থাকে। পেটে ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য
করে। হ্যাঁ বিশেষ করে ঠান্ডা লাগার ফলে সর্দি কাশি ও জ্বর হতে পারে এর সময়
শিশুদের কার্যকরী ওষুধ হিসেবে তুলসী পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই শিশুদের
ক্ষেত্রে তুলসী পাতা একটি কার্যকারী উপাদান।
বাচ্চাদের সর্দি কাশি হলে তাদেরকে তুলসী পাতার রস করে এর সাথে সামান্য মধু
মিশিয়ে সকালেও বিকেলে খাওয়াতে পারেন, তাহলে সহজেই শিশুদের কাশি ও সর্দি লাগা
সহজে সেরে যাবে। শীতকালে দেখা যায় অনেক বাচ্চাদেরই বুকে কফ জমে যায় তখন
বাচ্চাদের অনেক সমস্যা হয় শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে তুলসী পাতার রস
গরম পানির সাথে মিশিয়ে অথবা মধু মধুর সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ালে এর থেকে
অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। তুলসী পাতার রসে থাকায় অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং অন্যান্য রোগ নিরাময়
কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা
আমরা অনেকেই জানি তুলসী পাতার অনেক গুনাগুন রয়েছে। তুলসী পাতা আমাদের শরীরের
জন্য অনেক উপকারী। তুলসী পাতার সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের
প্রতিটা হিন্দু বাড়িতেই তুলসী গাছ পাওয়া যায়। কারণ হচ্ছে হিন্দুরা তুলসী গাছের
পূজা করে থাকেন। যার ফলে যার জন্য অনেকেই তুলসীপাতার সাথে পরিচিত। তাহলে চলুন
জেনে নেয়া যাক খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা।
১। আপনি যদি প্রতিদিন খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন তাহলে আপনার
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন। এমন কি আপনার যদি সর্দি কাশি সমস্যা
থাকে থেকে থাকে বা অনেকেই আছেন বুকে কফ জমে থাকে, তারা যদি নিয়মিত রোজ সকালে
খালি পেটে তুলসী পাতা খেতে পারেন এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
২। অনেকে আছেন যাদের মুখে দুর্গন্ধ বের হয়, দাঁতের সমস্যা হয়, মাড়ি ফুলে যায়
তাদের ক্ষেত্রে তুলসী পাতা অনেক উপকারী। তারা তুলসী পাতা খেলে মুখের ব্যাকটেরিয়া
দূর হয়ে যায় এবং মুখের যাবতীয় সমস্যা সহজে দূর হয়ে যায়।
৩। তুলসী পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান রয়েছে যার কারণে
এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই আপনারা যদি খালি পেটে তুলসী পতা
চিবিয়ে খেতে পারেন তাহলে আপনাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং শারীরিকভাবে
সুস্থ থাকতে পারবেন।
৪। প্রতিদিন সকালে আপনি যদি তুলসী পাতা খেতে পারেন তাহলে আপনার রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং মানসিক চাপও অনেকটা কমে যাবে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই সকালে
খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়া উচিত।
৫। তুলসী পাতা হার্ট ভালো রাখতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনি
যদি প্রতিদিন সকালে তুলসী পাতা খেতে পারেন তাহলে আপনার হার্ট ভালো থাকবে এবং
হার্ট অ্যাটাক ফেসবুকে অনেকটাই কমে যাবে।
৬। অনেকে আছেন যাদের পেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় পেট ব্যথা হজমের সমস্যা
ইত্যাদি। এসব সমস্যা দূর করতে চাইলে আপনি নিয়মিত প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তুলসী
পাতা খেতে পারেন। তাহলে পেটের সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
৭। তুলসী পাতা একটি আয়ুর্বেদিক উপাদান পূজা ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা
পালন করে। যদি রোজ সকালে তুলসী পাতা খাওয়া যায় তবে ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি
অনেকটাই কমে যায়।
গর্ভাবস্থায় তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা
তুলসী পাতা অনেক উপকারী একটি উদ্ভিদ। তুলসী পাতার ঔষধি গুন সম্পর্কে জানা নেই এমন
কম লোক আছেন। সেই প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন চিকিৎসায় ঘরোয়া প্রতিশোধক হিসেবে
ব্যবহার করা হয়ে থাকে তুলসী পাতা। এটি সর্দি কাশি ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে
কার্য করে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয় গর্ভাবস্থায় এর সুফল
ব্যাপক। গর্ভাবস্থায় তুলসী পাতা খেলে এর অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় তবে গর্ব
অবস্থায় এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক
গর্ভাবস্থায় তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা সমূহ।
১। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধেঃ তুলসীপাতা প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই বলা যায়
আয়রনের এক বড় একটা উৎস হচ্ছে তুলসী পাতা। আয়রন রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা
ও হিমোগ্লোবিন বাড়ায় এবং রক্তস্বল্পতায় ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই বলা হয়
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে তুলসী পাতা ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, জিংক ,
ম্যাঙ্গানিজ, কপার ফসফরাস, ও ম্যাগনেসিয়াম এর মত খনিজ পদার্থ রয়েছে। এছাড়াও
রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই,। তাই এটি গর্ভাবস্থায় খেলে গর্ভবতী মায়েদের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভে শিশুকে বিভিন্ন সংক্রামক থেকে রক্ষা করে
থাকে।
৩। ভ্রূণের বিকাশ ঃ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি গর্ভের শিশুর হাট
চোখ মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের কেউ ঠিক রাখতে দারুন ভাবে সাহায্য করে। এটি গণতন্ত্রের
সঠিক বিকাশ ও সহায়তা করে থাকে।
৪। ভ্রণের হার গঠনের সহায়তাঃ তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে মেঘা ম্যাগনেসিয়াম
রয়েছে যা শিশুর হাড় গঠনে সহায়তা করে থাকে। তুলসী পাতায় থাকে ম্যাঙ্গানিজ যা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটা ভালো উপাদান এটি গর্ভবতী নারীদের অক্সি অক্সিডেটিভ
স্টেট কমাতে সাহায্য করে। এতে করে কোষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে
যায়।
আরো পড়ুনঃ কলার মোচার ১৫ টি উপকারিতা ও অপকারিতা
শেষ কথা
আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা আপনাদের জানাতে পেরেছি তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
সম্পর্কে। আরো জানাতে পেরেছি তুলসী পাতার ব্যবহার তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম খালি
পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা ইত্যাদি বিষয়। তবে তুলসী পাতা যেভাবে খান না
কেন তুলসী পাতার উপকারিতা অনেক। তুলসী পাতা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি
উপাদান
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা তুলসী পাতা সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক কিছু জানতে
পেরেছেন। এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যদি আপনার কিছু জানার থাকে বা আপনাদের কোন মতামত
থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এবং এরকম তথ্যমূলক
পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং আমাদের
সাথেই থাকুন।

.webp)
.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url