সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা

 

আরো পড়ুনঃ  সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা 

সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে এটি প্রোটিন, ফাইবার,আয়রন, ক্যালসিয়াম, এবং ভিটামিন বি, এর মত প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে, যা হজম শক্তি বাড়াতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, ওজন কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। 

সকালে-খালি-পেটে-কাঁচা-ছোলা-খাওয়ার-পুষ্টিগুণ-ও-দশটি-স্বাস্থ্য-উপকারিতা

সকালে খালি পেটে ভেজানো ছোলা খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা হলো: রক্তস্বল্পতা দূর করা, হজম শক্তি বৃদ্ধি করা, কোলেস্টরেল কমানো, হৃদরোগের ঝুকিয়ে রাস করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা, রক্তে সরকারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, হাড় মজবুত করা, এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তির যোগানো।

পেজ সূচিপত্রঃ সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ

কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ অনেক। আমরা অনেকেই সাধারণত কাঁচা ছোলা খাওয়ার চাইতে সিদ্ধ ছোলা খাওয়াই পছন্দ করি। আবার অনেকে আছেন সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে রেখে খায়। আমাদের জানা উচিত কাসাসোলার কত পরিমান পুষ্টিগুণ আছে। পুষ্টিগুনে ভরপুর, এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, আইরন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ২, এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে । এটি হজম শক্তি বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 

১। প্রোটিনঃ এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, যার শরীর কে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করে। 

২। ফাইবারঃ ছোলার উচ্চ ভাইবার উপাদান হজমের সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে পারে। 

৩। আয়রন ও ক্যালসিয়ামঃ এতে থাকা আইরন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়, যার রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়ামও থাকে। 

৪। ভিটামিন ও খনিজঃ কাঁচা ছোলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১,বি২, এবং ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ লবণ থাকে।

উপকারিতাঃ সোলার ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। ইতি শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। সলাতে থাকা আইরন রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। কমফ্যাট যুক্ত হওয়ায় এটি ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। ছোলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে। নিয়মিত ছোলা খেলে হৃদরোগের ঝুকি কমে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিদিন রাতের বেলা ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া। তাহলে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে ইনশাল্লাহ। 

খাওয়ার পদ্ধতিঃ 

১।ছোলা খাওয়ার আগে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা উচিত। এদের রাসায়নিক পদার্থ দূর হয় এবং হজম সহজ হয়।

 ১।ভিজিয়ে রাখা ছোলা খোসা ছাড়িয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরো বেশি পাওয়া যায়।

 ৩।রান্না করা সোলার চেয়ে কাঁচা বা সেদ্ধ ছোলা বেশি উপকারী, কারণ রান্না করলে কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য তালিকায় অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা ছোলা খাওয়া উপকারী হতে পারে। আপনি যদি এটি আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করার কথা ভাবেন, তবে একজন পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা ভালো। 

কাঁচা ছোলা খেলে কি হয়

কাঁচা ছোলা খেলে হজম শক্তি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং শরীরের শক্তি যোগায়। এটি আইরন, প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের একটি চমৎকার উৎস, যা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া বা হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতাঃ 

১।ছোলাই থাকা ফাইবার হজম তন্ত্র কে সুস্থ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদ্ধ জমির মতো সমস্যা দূর করে। 

২। ছোলাতে থাকা ক্যালরী দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরের শক্তির যোগান দেয়, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। 

৩। ধোলাই আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় পেটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করে। 

৪। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ও অন্যান্য উপাদান হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। 

৫। ছোলা এবং প্রোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস, যার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মানুষের চাহিদা মেটায়। 

৬। নিয়মিত ছোলা খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। 

৭। সোলার ভিটামিন বি স্নায়ু দুর্বলতা এবং মেরুদন্ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

সিদ্ধ ছোলা খেলে কি হয়

আমরা অনেকেই আছি যারা কাঁচা ছোলার চাইতে সিদ্ধ করা ছোলা খাইতে বেশি পছন্দ করি। সিদ্ধ করা ছোলা খেলে শরীরের পুষ্টি পায়, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এটি হজম শক্তি উন্নত করে, হার্ট ভালো রাখে, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সর্কারার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

সিদ্ধ করা ছোলা প্রোটিন ফাইবার এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের একটি ভালো উৎস। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকা তথ্য দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। সিদ্ধ করা ছোলা দীর্ঘক্ষন পেট ভরা রাখে এবং উচ্চ ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ভেজানো ও সিদ্ধ ছোলায়  গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। সিদ্ধ করা ছোলা শক্তির একটি ভালো উৎস, যার শরীরকে সতেজ রাখে।

ছোলা রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো। এতে হজম সহজ হয়। সাধারণত আমরা সিদ্ধ করা ছোলা এমনি খেয়ে থাকি। কিন্তু যদি সিদ্ধ করা ছোলা সালাত, স্যুপ, বা অন্যান্য খাবারের সাথে মিশে খাই, তাহলে খেতেও যেমন সুস্বাদু লাগবে, সেরকম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারও ভালো পাবো। তেলে রান্না করার পরিবর্তে সিদ্ধ বা কাঁচা খাওয়া ভালো এতে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হয় না। 

কাঁচা ছোলার দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোলা আমাদের সকলেরই পছন্দ। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা ভাজা ছোলা খেতে খুব পছন্দ করে। স্কুলের টিফিনে কিংবা বিকেলের নাস্তা হিসেবে। ছোট বাচ্চারা যেরকম পছন্দ করে আমরা বড়রাও খুব পছন্দ করি। ছোলা দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করে আমরা খেতে পারি। ছোলার প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকায় ক্যালরি থাকায় আমরা সবাই তা খেতে পছন্দ করি। 

কাঁচা ছোলার দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো: ওজন নিয়ন্ত্রণ , হজম শক্তি বৃদ্ধি, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তস্বল্পতা দূর করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, রক্তের সরকারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখা। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কাঁচা ছোলার দশটি স্বার্থের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত: 

১। ওজন নিয়ন্ত্রণঃ এতে থাকা ভাইবার ও প্রোটিন পেট ভরা রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক ।

২। হজম শক্তি বৃদ্ধিঃ ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি হজম শক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য গ্যাসটিকের সমস্যা দূর করে ।

৩। হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়ঃ হাস্যকর ফ্যাট ও ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদয় যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। 

৪। রক্তস্বল্পতা দূর করেঃ এতে থাকা আইরন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে। 


৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হয় এটির শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে ।

৬। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়ক, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৭। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৮। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করেঃ এতে থাকা ভিটামিন কে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক। 

৯। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিঃ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এটি সাহায্য করে। 

১০। ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার কি কি উপকারিতা রয়েছে

খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, এবং মিনারেল থাকে। যার শরীরের জন্য খুবই উপকারী। খালি পেটে কাঁচা ছোলা বিশেষ করে সারারাত ভিজিয়ে রাখা ছোলা খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি পুষ্টি গুণে ভরপুর একটি খাবার। এর প্রধান উপকারিতা গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো: 

১। কাঁচা ছোলা প্রোটিন এবং ডায়েটারি ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস। প্রোটিন পেশী গঠনে এবং শরীরের টিস্যু মেরামতের সাহায্য করে। আর ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। 

২। সোলার ফাইবার পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাড়া রাখে, যার ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, এবং এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

৩। সোলার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম। ফলে এটি খাওয়ার পর রক্তের শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে, দ্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। 

৪। এতে থাকা ভাইবার, পটাসিয়াম, এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্ত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

৫। শোলাতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। 

৬। কাঁচা ছোলাই আইরন থাকে, যা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। 

৭। এতে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মত খনিস উপাদান রয়েছে, যা হার মজবুত করতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। 

সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য, এক মুঠো কাঁচা ছোলা সারারাত পরিষ্কার পানিতে ভিজিয় রাখুন
, এবং সকালে খালি পেটে ভালো করে চিবিয়ে খান। এটি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে।

কাঁচা ছোলা কাদের খাওয়া উচিত নয়

কাঁচা ছোলা যাদের হজম শক্তি কম থাকে, কাঁচা ছোলার সহজে হজম করতে পারে না। এছাড়াও যাদের কিডের সমস্যা রয়েছে। যাদের রক্তের ডায়ালসিস চলছে, যাদের শরীরে ক্রীটেনিন ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি রয়েছে তারা যে কোন রকমের ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিডনি বা পেটে ব্যথা, বমির সমস্যা এবং উচ্চ ইউরিক এসিড বা পটাশিয়ামযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত। এমন ব্যক্তিদের কাঁচা ছোলা খাওয়া উচিত নয়। এছাড়াও কাঁচা ছোলা খাওয়ার আগে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। 
সকালে-খালি-পেটে-কাঁচা-ছোলা-খাওয়ার-পুষ্টিগুণ-ও-দশটি-স্বাস্থ্য-উপকারিতা

কাঁচা ছোলা যাদের কিডনির সমস্যা, যেমন ইউরিক অ্যাসিড বা পটাশিয়াম এর মাত্রা বেশি থাকলে কাঁচা ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এতে পটাশিয়াম থাকে এবং জমা হয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। পেটে ব্যথা বা হজমের সমস্যা থাকলে কাঁচা ছোলা না হয় ভালো। যাদের বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য কাঁচা ছোলা উপযুক্ত নয়।

কাঁচা ছোলা কখন খাওয়া উচিত

কাঁচা ছোলা সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খাওয়া উচিত। সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং সারা দিনের জন্য শক্তি যোগায়। এটি সারারাত বা অন্তত 8 থেকে 10 ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। দিনের শুরুতেই ভেজানো ছোলা খেলে হজম তন্ত্র ভালো থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার আগে সারারাত পা অন্তত 8 থেকে 10 ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, এতে ছোলা নরম ও সহজে হজম যজ্ঞ হয়।  ছোলা খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে নিলে ভালো, কারণ এটি হজমে আরও সাহায্য করে। ভেজানো ছোলার সাথে সামান্য লবণ, কাঁচা মরিচ বাপ পেঁয়াজ মিশিয়েও খেতে পারেন। 

কাঁচা ছোলা খেলে কি গ্যাস হয়

হ্যাঁ কাঁচা ছোলা খেলে গ্যাস হতে পারে, বিশেষ করে যদি হজম দুর্বল হয়। ছোলায় থাকা লেটিন ও ফাইটিং এসিড হজম হতে বেশি সময় নেয়। যা পেটে গ্যাস এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। গ্যাস এ রাতে অল্প পরিমানে খান বা ছোলা ভিজিয়ে বা সিদ্ধ করে খান। কাঁচা ছোলার অলিগোস্যাকারাইড নামক উপাদান সহজে হজম হয় না। যখনন্ত্রে এটি পুরোপুরি শোষিত হয় না, তখন ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে গ্যাস তৈরি হয়। 
গ্যাস হওয়ার কারণঃ 

১। কাঁচা ছোলার অলিগোস্যাকারাইড নামক উপাদান সহজে হজম হয় না। যখন অন্তরে এটি পুরোপুরি শোষিত হয় না তখন ব্যাকটেরিয়া প্রভাবে গ্যাস তৈরি হয়। 

২। ছোলার ডাল, মোটর, কাবলি ছোলার মতো খাবারের থাকা লেকটিনস ও হাইটিক এসিডের কারণেও হজমে সমস্যা এবং গ্যাস হতে পারে। 

গ্যাস এড়ানোর উপায়ঃ 

১। একসাথে বেশি কাঁচা ছোলা খাবেন না। 

২। রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খান। এতে হজম প্রক্রিয়ার সহজ হয়। 

৩। কাছে ছোলা হজম না হলে সিদ্ধ করে খেতে পারেন, কারণ এটি সহজে হজম হয় এবং গ্যাস্টিকের ঝুঁকি কমায়।

৪। হজমের সমস্যা এড়তে সন্ধ্যায় বা রাতে খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা

কাঁচা ছোলা খাওয়া নানা উপকারিতা এবং কিছু অপকারিতা রয়েছে। উপকারিতার মধ্যে আছে প্রোটিন ও আয়রনের উৎস হওয়া, হজম শক্তি বাড়ানো, হার্ট ভালো রাখা, ওজন কমানো এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করা। অন্যদিকে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে থাকা লেকটিনস ওফাইটি ক্যাসিড গ্যাস এবং হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 

উপকারিতাঃ

১। প্রোটিন ও আয়রনের উৎসঃ কাঁচা ছোলা প্রোটিন ও আয়রনের ভালো উৎস। যার রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। 

২। হজমশক্তি বৃদ্ধিঃ এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে পারে। 

৩। হার্টের স্বাস্থ্যঃ এটি রক্তনালীর যত্ন নেয়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

৪। ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়কঃ উচ্চ প্রোটিন এবং ফাইবারের কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় খাওয়া কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৫। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ সোলার প্রোটিন ও ভাইবার সরকারের শোষণ দিয়ে করে এবং ভিটামিন বি ও ম্যাগনেসিয়াম এর মত উপাদান টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় ।

৬। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ নিয়মিত কাঁচা ছোলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

অপকারিতাঃ

১। হজম ও গ্যাসঃ যাদের হজম শক্তি কম, তারা কাঁচা ছোলা সহজে হজম করতে পারে না। এতে থাকা লোকটিনস ওফাইটিক এসিড এর কারণে গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা হতে পারে। 
সকালে-খালি-পেটে-কাঁচা-ছোলা-খাওয়ার-পুষ্টিগুণ-ও-দশটি-স্বাস্থ্য-উপকারিতা

২। কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকরঃ যাদের কিডনির সমস্যা আছে, বিশেষ করে যাদের রক্তে ক্রিওটিনিন ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি, তাদের ছোলা খাওয়া উচিত নয়। 

৩। বমির সমস্যাঃ বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যা থাকলে কাঁচা ছোলা না খাওয়াই ভালো।

শেষ কথা

আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা। আশা করি আপনারা উপরের আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন যে সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলার খাওয়ার পুষ্টি কোন দশটি সার্থক উপকারিতা। 

আশা করি সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পড়ে আপনাদের ভালো লেগেছে। এরকম আরো পোস্ট করতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url