ফুলকপি না ব্রকলি-- পুষ্টিগুনে কে এগিয়ে ? জেনে নিন

 

শাক-সবজি পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এসব সবজি রয়েছে নানা গুন। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ফুলকপি। সাদা ধবধবে এই সবজি বহু যুগ ধরেই বাঙালির মন জয় করে আসছে।

ফুলকপি না ব্রকলি-- পুষ্টিগুনে কে এগিয়ে ? জেনে নিন

ডালনা,ভাজা, শিঙাড়া বা রোস্ট-ফুলকপির অবাধ বিস্মরণ রান্নাঘরের সর্বত্র । কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে হুবহু এমনই এক সবজি। যদিও এর রং অনেকটা গাড় সবুজ। সবুজ রঙের এই ব্রকলি রীতিমতো স্বাস্থ্য সচেতনদের রান্নাঘরে ভাগ বসিয়েছে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ফুলকপি না ব্রকলি পুষ্টিগুনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে জেনে নিন

ফুলকপি না ব্রোকলি কে কোথায় দাঁড়িয়ে

দরজার বাইরে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে শীত। করা নাড়বে নাড়বে। শহরে অতটা টের পাওয়া না গেলেও গ্রামের রাতে ঠিক ওই টের পাওয়া যাচ্ছে আঁচ। বাজারে ইতিমধ্যে দেখা মিলছে শীতের তুমুল জনপ্রিয় সবজি ফুলকপির। একটু খুঁজলে ফুলকপির' মাসতুতো ভাই' ব্রুকলীরও দেখা মিলবে। এই ব্রোকলি ও ফুলকপি দুইটি বেশ স্বাস্থ্যকর। পুষ্টিগুণে কোনটি বেশি এগিয়ে? 

১  কাপ কাঁচা ব্রকলিতে যা থাকেঃ
  • শক্তি: ৩০ ক্যালোরি 
  • প্রোটিন:২.৫ গ্রাম 
  • ফ্যাট:০.৩ গ্রাম 
  • ফাইবার:২.৩ গ্রাম 
  • ভিটামিন সি: ৮১ মিলিগ্রাম ( চাহিদার ৯০ শতাংশ)
  • ভিটামিন কে : ৯২ মাইক্রগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ৭৫ শতাংশ) 
  • ফোলেট: ৫২ মাইক্রগ্রাম 
১ কাপ কাঁচা ফুলকপিতে যা থাকেঃ 
  • শক্তি :২৭ ক্যালোরি 
  • প্রোটিন :২ গ্রাম 
  • কার্বোহাইড্রেট: ৫ : গ্রাম 
  • ফ্যাট: ০.৩ গ্রাম 
  • ফাইবার:২ গ্রাম 
  • ভিটামিন সি: ৫১ মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ৫৭ শতাংশ) 
  • ভিটামিন কে :১৭ মাইক্রগ্রাম 
  • ফোলেট: ৬১ মাইক্রগ্রাম 
যদি পুষ্টির দিক থেকে বিচার করা হয়, তবে ব্রকলি সামান্য এগিয়ে থাকবে। ব্রকলি কে বলা হয় 'সুপারফুড'। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এবং ভিটামিন এ। একটা ব্রকলি দৈনিক ভিটামিন সি- র চাহিদার প্রায় ১৩৫% এবং ভিটামিন কে র ১১৬% পূরণ করতে পারে। এই দুটি ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্রকলিতে রয়েছে সালফোরাফেন ,নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ফুলকপি ও কিন্তু গুনের  ভান্ডার। এতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে রয়েছে, যদিও ব্রকলির তুলনায় কিছুটা কম। তবে ফুলকপির একটি বিশেষত্ব হলো এতে, কোনদিন, নামক একটি পুষ্টি উপাদান থাকে। যা মস্তিষ্কে স্বাস্থ্য রক্ষা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত জরুরী। এছাড়া ফুলকপিতে রয়েছে ইন্ডোল- ৩ কার্বিনাল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষ কে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।

কোনটি স্বাস্থ্যকর, ব্রকলি নাকি ফুলকপি?

ব্রুকলি এবং ফুলকপি অনেক দিক থেকেই তুলনামূলক, কারণ উভয়েরই কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ একই রকম। পুষ্টির দিক থেকে, ব্রকলি কিছুটা স্বাস্থ্যকর, যদিও ফুলকপিতে ফলেট এবং পটাশিয়াম বেশি থাকে। উভয়ে নিয়মিত খাওয়া উচিত কারণ এতে পুষ্টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউটিয়েন্টের ভারসাম্য কিছুটা ভিন্ন এবং অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

উভয় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, শুধু কিছু ভিন্ন জাত

কিছু ছোটখাটো পুষ্টিগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ব্রুকলি এবং ফুলকপি একই সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আপনি হয়তো, কুরুসি ফেরাস, সবজি শব্দটি শুনেছেন, যা তারা। এগুলি প্রাইস কাল সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হলেও শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এবং আসলে বন্য সরিষা গাছের বিভিন্ন রূপ, যা বর্ণ বাধাকপি নামেও পরিচিত। এই পারিবারিক ঐতিহ্য তাদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তিক্ত স্বাদের জন্ম দেয়। যদিও ফুলকপি অনেক শুকনো সংস্করণ।

তবে, তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকা শর্তেও, এগুলিতে থাকা অনেক পুষ্টি উপাদান তুলনামূলক, যার অর্থ পুষ্টি গবেষণার ক্ষেত্রে এগুলি প্রায়ই একত্রিত হয়। বিশেষ করে একবার গবেষণায় সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, পুরুষি ফেরার সবজি বয়স্ক ব্যাক্তিদের রক্তনালীর ক্যালসিফিকেশন বা শক্ত হওয়ার সাথে বিপরীতভাবে সম্পর্কিত। এর ফলে এর অর্থ হল আপনি যত বেশি খাবেন, আপনার রক্তনালী গুলি তত ভালো অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলি সম্ভবত আমরা ইতিমধ্যেই যে পোস্টটির সুন্দর মহা সমাহারগুলি অন্বেষণ করেছি তার ওপরে নির্ভরশীল। ফাইবারের উপাদানও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারন আমরা আরো কিছুটা অনুসন্ধান করব এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণভাবে অন্যান্য এন্টিঅক্সিডেন্টের ইতিবাচক দিক রয়েছে। এই অন্যান্য সালফারযুক্ত যোগ গুলি অত্যন্ত উপকারী এবং যদিও ফুলকপির তুলনায় কিছুটা বেশি চিত্তাবর্ষক প্রোফাইলে রয়েছে তবে উভয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা স্পষ্ট।
 
দাম ও সহজলভ্যতা
আমাদের দেশে ফুলকপি প্রায় সর্বত্র এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। বিশেষত শীতকালে এর দাম থাকে একেবারে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। সেই তুলনায় ব্রকলির দাম অনেকটাই বেশি এবং সব বাজারের সহজলভ্য ও নয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে রাখার জন্য ফুলকপি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। 

রান্নার ধরন

ফুলকপি আমাদের রান্নার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঝোল, অম্বল থেকে শুরু করে পরোটার পুর হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। ব্রকলি মূলত সুপ,সালাদ বা সটার - ফ্রাইয়ের মত আধুনিক রান্নায় বেশি ব্যবহৃত হয়। যদিও এখন অনেক বাঙালি রান্নাতেও ব্রকলি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও ফুলকপির মত এর জনপ্রিয়তা এখনো তৈরি হয়নি। 
ফুলকপি না ব্রকলি-- পুষ্টিগুনে কে এগিয়ে ? জেনে নিন

হজম শক্তি

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রকলি হজম করা ফুলকো পিছে কঠিন হতে পারে এবং গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফুলকপি তুলনামূলক ভাবে সহজ প্রাচ্য। সব মিলিয়ে পুষ্টিগুড়ার নিরিখে ব্রকলি সামান্য এগিয়ে থাকলেও আমাদের জন্য ফুলকপিকে কোনভাবেই খাটো করে দেখা উচিত নয়। দাম, সহজলভ্যতা ও রান্নার ধরনের বিচারে ফুলকপি এক কথায় অসাধারণ একটি সবজি। 

পুষ্টি বিদদের মতে, সেরা উপায় হল কোন এক থেকে বেছে না নিয়ে দুটিকেই খাদ্য তালিকায় রাখা। যখন পকেট ভারি, তখন ব্রকলি কিনতেই পারেন। কিন্তু প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আপনার রান্না ঘরের বিশস্ত সৈনিক হতেই পারে সহজলভ্য ফুলকপি। আসল কথা হলো, তালিকায় সবুজ বা সাদা যাই রাখুন না কেন এই ক্রুসিফেরাস পরিবারের সবজি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হয়েই থাকবে।

যেখানে এগিয়ে ব্রকলি

  • ব্রকলিতে  ফুলকপির চেয়ে বেশি ভিটামিন সি ,ভিটামিন কে, ও ক্যালসিয়াম থাকে।
  • এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এক কাপ রান্না করা ব্রুকলিতে ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। অন্যদিকে এক কাপ রান্না করা ফুলকপিতে থাকে তিন গ্রাম ফাইবার। ফাইবার হজমের সাহায্য করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ক্ষুধা কমাতে সহায়ক। তন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। 
  • ব্রকলিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট ফুলকপির চেয়ে বেশি, যার শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। 
  • ব্রকলির সবুজ রঙে থাকা লুটেইন চোখ, ত্বক, মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। 
  • প্রোটিনেও ব্রকলি ফুলকপির থেকে সামান্য এগিয়ে। 

যেখানে এগিয়ে ফুলকপি

  • এতে ব্রকলির তুলনায় কার্বোহাইড্রেট কম। তাই ওজন কমাতে চাইলে শীতকালীন ডায়েট ফুলকপির বিকল্প নেই। 
  • ফোলেটের ভালো উৎস। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গর্ব অবস্থায় এটি বেশ উপকারী। 
  • ফুলকপিতে ক্যালরির তুলনামূলকভাবে কম। 
  • ফুলকপিতে কলিন বেশি থাকে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা মাংস কম খান। তাদের খলিলের চাহিদা পূরণ করতে পারে ফুলকপি। 

ফুলকপি নাকি ব্রকলি

ফুলকপি না ব্রকলি-- পুষ্টিগুনে কে এগিয়ে ? জেনে নিন

সর্বোচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চাইলে ব্রকলি বেশি ভালো। কার্বোহাইড্রেট কম খেতে চাইলে ফুলকপি ভালো বিকল্প। গ্যাসের সমস্যা থাকলে ফুলকপির তুলনায় ব্রুকলি খাওয়া বেশি নিরাপদ হতে পারে। কারণ, ফুলকপি খেলে অনেকের গ্যাস বা এসিডিটির সমস্যা হয়। মনে রাখবেন ব্রোকলি ও ফুলকপি ক্রুসি ফেরার সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, কিছু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা মূলক ভূমিকা রাখে। উভয় সবজি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। তাই, ফুলকপি নাকি ব্রকলি, বরং, ফুলকপি এবং ব্রকলি আপনার খাদ্য  তালিকায় রাখুন।

শেষ কথা 

পিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি ফুলকপি না ব্রকলি , পুষ্টিগুণের লড়াইয়ে কে এগিয়ে আছে সেই সম্পর্কে। আশা করি আজকের আর্টিকেল পড়ে আপনাদের ভালো লেগেছে। আমি আশা করছি,উপরের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকারে আসতে পেরেছি। এমন আরো তথ্য মুলক আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট এর সঙ্গে থাকুন, এবং লাইক কমেন্ট শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।
 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url