ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়

নারীদের থেকে পুরুষের ত্বক সাধারণত পুরু হয়। যে কারণে পরিচর্যার ধরনও আলাদা। ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পুরুষের কথা বাদ পড়ে যায়। তবে স্বাস্থ্যকর তারুণ্যময় দেখাতে পুরুষদেরও ত্বকের যত্ন প্রয়োজন। 

ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়

অথচ ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং সাজগোজ একেবারেই আলাদা। কারণ, ছেলেদেরও ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, এ বিষয়ে অনেকেই এখন অনুধাবন করতে পারেন। অনেকেই ধীরে ধীরে আরো বেশি সচেতন হয়ে উঠছেন। কারণ ছেলেদের তো এমনিতেই বেশি রুক্ষ। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়

ছেলেদের ত্বক ভালো রাখতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করা

মুখ ধুতে সাধারণ সাবানের পরিবর্তে ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। এখন বাজারে ছেলেদের জন্য আলাদা ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। কারণ, সাধারণ সাবানে অনেক বেশি রুক্ষ উপাদান থাকে; যার মুখের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর । যারা বাইরে অনেক বেশি সময় থাকেন এবং ওয়ার্ক আউট করেন, তাদের মুখ ধোয়ার জন্য ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর অল্প গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে এবং সপ্তাহে অন্তত দুই দিন স্ক্রাব করানো উচিত। ফেব্রুয়ারির সমস্যা ও সমাধান হবে। 

ছেলেদের ত্বক ভালো রাখতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করা জরুরী; এটি ময়লা, তেল ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং ত্বকের ধরন (তৈলাক্ত ,শুষ্ক ,ব্রণ প্রবন) অনুযায়ী স্যালিসিলিক এসিড (ব্রণের জন্য), চারকোল বা নিমের মতো উপাদান যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত, যা দিনে দুইবার (সকাল ও সন্ধ্যায়) এবং ব্যায়ামের পর হালকা গরম জল দিয়ে পরিষ্কার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল থাকে, শুধু সাধারণ সাবান ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত ।

সঠিক পদ্ধতিতে সেভ করা

যারা নিয়মিত সেভ করেন, তাদের কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। যেমন সঠিক পদ্ধতিতে সেভ না করলে রেজার বার্ন বা রেজার বাম্পের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় রাতে মাল্টি ব্লেড রেজাল্ট ছেড়ে সিঙ্গল বা ডাবল ব্লেড রেজার ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সাধারণ সেভিং ক্রিমের বদলে ময়শ্চারাইজিং বেছে নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবার রেজাল্ট টানার পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে। যাদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল, তারা ৩ থেকে ৫ বার শেভের পর ব্লেড বদলে ফেলুন এবং সেন্ডেট আফটার শেভ ব্যবহার না করাই ভালো। 

ত্বকের ময়শ্চারাইজার ধরে রাখুন 

ত্বকের ধরন যেমনই হোক, মশ্চারাইজার এর ব্যবহার নিয়মিত হওয়া জরুরি। ত ভেতর থেকে কোমল, মসৃণ রাখতে মশ্চারাইজার ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নাই। তাই দিনে অন্তত একবার হলেও ময়শ্চেরাইজার ব্যবহার করুন। তবে পুরুষদের ব্যান্ড দেখেই কিনুন।ত্বক শুষ্ক হতে দিবেন না। এতে সহজেই বয়সের ছাপ পড়ে যায়। এজন্য তোকে নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরী। মশ্চারাইজার ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে গোসলের পরে এবং সেভ করার পরে। সে ক্ষেত্রে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে  হবে।


মশ্চারাইজিং প্রতিটি পুরুষের স্কিন কেয়ার রুটিনের নিয়মিত অংশ হওয়া উচিত। কখনো কখনো পরিষ্কার করা বা সেভ করার ফলে ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে। তাই তোকে সুস্থ এবং ভালো রাখার জন্য হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরিয়ে আনা খুব জরুরী।

সাধারণত ত্বক শুষ্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ত্বকের নানা সমস্যা বাড়তে থাকে। এজন্য মশ্চারাইজার ব্যবহার খুবই জরুরী। এটি যে শুধু তোকে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল রাখে ,তা নয়, ত্বকে বয়সের ছাপও পড়তে দেয় না। মশ্চারাইজার ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় গোসল ও সেভ করার পর। 

ছেলেদের ত্বকে ও সানস্ক্রিন জরুরী

মেয়েরা রোদে বেরোনোর সময় যতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করে, পুরুষেরা ততটা করে না। বরং বলা যায়, বেশিরভাগ ছেলেরা সানস্ক্রিন ব্যবহারই করেনা। সানস্ক্রিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্নি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখে। সহজে কালো দাগ ছোপ পড়ে না। তাই সানস্ক্রিনের ব্যবহারে খেয়াল রাখলে ভালো হয়।

নগরায়নের ফলে বাড়ছে দূষণ। আর প্রখর রোদে বেশি সময় থাকলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে বাইরে বেরোলেই চাই সানস্ক্রিন। ব্রড-স্পেকট্রাম, ওয়াটার- রেজিস্ট্যান্ট, এসপিএফ থারটি রয়েছে। এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। 

প্রোডাক্টের লেভেল দেখে নেওয়া

ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়

নিজের ত্বকের ধারণ অনুযায়ী যথাযথ পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। ব্রণ- অ্যাকনের সমস্যা থাকলে, ওয়েল ফ্রী ক্লিনজার ও মাস্টারাইজার ব্যবহার করাই ভালো। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অবশ্যই কোমল, সুগন্ধহীন পণ্য নির্বাচন করতে হবে। মেয়েদের ত্বকের যেমন নানা ধরনের রয়েছে, তেমনি পুরুষের ও। তাই যে কোন সৌন্দর্যপূর্ণ কেনার আগে বুঝতে হবে আপনার ত্বকের ধরন। সেনসিটিভ, শুষ্ক, তৈলাক্ত বা কম্বিনেশন ত্বকের ধারণা অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে হবে।

বেশি করে পানি পান করলে ত্বক ভালো থাকে

যত বেশি পানি খাবেন, ত্বক তত সতেজ থাকবে। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে বেশি করে পানি খাওয়া জরুরি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দিনে কম করেও তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানি জরুরী।

বেশি করে পানি পান করবে তো ভালো থাকে কারণ, তোকে আর্দ্র ও কোমল রাখে। উজ্জ্বলতা বাড়ায়, স্থিতি ব্যাপকতা বজায় রাখে, টক্সিন দূর করে এবং ব্রণ ও বলিরেখার মত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে, তবে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়, সঠিক পরিচর্যা ও জরুরী।

তোকে আর্দ্রতা ও সতেজতা ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি করা জরুরী। চিকিৎসকেরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের বেশি দিলে সাড়ে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে ডায়াবেটিস বা অন্য কোন রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পানি পান করা উচিত।

ছেলেদের চুলের যত্ন

পুরুষেরা অনেক সময় খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই সমস্যা সমাধানে নারিকেল বা অন্য যে কোন তেলে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি কয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন। চুলের নিয়মিত যত্নে সপ্তাহে দুই বা তিনবার কিংবা এক দিন পর পর শ্যাম্পু করতে পারেন। ভেজা চুল হালকা করে ঘষে মুছে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিতে পারেন। সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুইদিন তেল দিতে পারেন।

ত্বক ভালো রাখতে হলে শরীর ও মনও ভালো রাখতে হবে। হেলাগো এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষের খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, বাদামের মত পুষ্টিকর খাবার থাকা উচিত। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা করা বা ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই সবকিছুর পাশাপাশি মানুষিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা যাবে না। অবশ্যই নিয়মিত ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

মুখ ভালো করে ধুয়ে নেওয়া 

প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বকে জমে থাকা ময়লা, মৃত কোষ এবং অতিরিক্ত তেল যা ত্বকের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো পরিষ্কার করার এটি উল্লেখযোগ্য উপায়। এতে আপনার টক সতেজ ও পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মৃত ও ত্বকের পোস্ট থেকে মুক্তি পেত সাহায্য করে। 

এক্সফলিয়েশন

প্রত্যেক ছেলের সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এক্সফলিয়েটে করা উচিত। এতে ত্বক মুসলিম হয়। এবং তোকে পরিষ্কার দেখানোর জন্য উপরের দিকের মৃত পোষ সরাতে সাহায্য করে। এছাড়া লুকিয়ে থাকা চুল পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে। তবে খুব শক্ত স্ক্রাব বা ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত এক্সফলিলেট করবেন না। প্রতিদিন এক্স ফলিয়েট করলেও চুলকানি বা জ্বালা হতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

প্রতিদিন ডায়েটে এমন খাবার রাখুন, যাতে আন্টি অক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বেশি। কারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে নমনীয় করে ও অকাল বার্ধক্যের সমস্যাকে সহজেই প্রতিহত করে। ডায়েট রাখুন বেলপেপার, ব্রকলি, গাজর, সবুজ শাকসবজি। আর রস অন্তত বেদনা ব্লুবেরি, অ্যাভোকাডো জাতীয় যে কোন ফল খান। দিনের মধ্যে অন্তত একবারে গ্রিন টি খেতে পারেন। 

পুষ্টিকর খাবার মানে বিভিন্ন ধরনের খাবার, যেমন শাকসবজি, ফলমূল, শস্য, ডাল, বাদাম, মাছ, মাংস ,ডিম দুদ্ধজাত খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া, যার শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যেখানে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনা জরুরী। এর জন্য পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো ঘুম ও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম

রাত জেগে থাকেন? এমনটা করলে ত্বক কিন্তু বয়সের ছাপ পড়তে বাধ্য । কারণ ঘুমানোর সময় ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। জাতক কে বলে দেখার হাত থেকে বাঁচায়। তাই প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কম ঘুমালে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বাড়ে। এর ফলে অচিরেইজাগাতে পারে বার্ধকের ছাপ।
ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়


পর্যাপ্ত ঘুম মানে একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা নিরব উচ্ছন্ন, মানসম্মত ঘুম, যার শরীর ও মনকে সাথে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের বর্জ্য পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ঘুম কম হলে মনোযোগের অভাব ক্লান্তি বিরক্তি বাড়ে, এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থলতা ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে, তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা উচিত। 

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি, ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায়, সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আশা করছি উপরের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লেই আপনারা কিছুটা হলে উপকৃত হবেন। এমন তথ্যমূলক আরো আর্টিকেল পড়তে আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন এবং কোন প্রশ্ন মনে জাগলে লাইক কমেন্ট এর মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করুন। যথাসম্ভব আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url