রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি এবং কালাই রুটির বৈশিষ্ট্য
আরো পড়ুনঃ আধুনিক উপায়ে করলা চাষ পদ্ধতি বিস্তারিত জানুন
আমের শহর,রেশমের শহর, কিংবা শিক্ষার নগরী হিসেবে রাজশাহীর খ্যাতি তো আছেই। তবে শীতকালে রাজশাহীর পরিচয় যেন হয়ে ওঠে কালাই রুটির শহর। ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা তীরবর্তী গ্রাম গুলোতে প্রথম কলায় রুটির প্রচলন শুরু হয়েছিল।
পদ্মার উজান থেকে প্রতিবছর বানের পানির সঙ্গে প্রচুর পলিমাটি আসে। শীতের শুরুতে নদীতে জেগে উঠে চর। সেই চরের উর্বর পলি মাটিতে প্রায় পরিচর্যা ছাড়াই ফলে মাসকলায়। এই কালাই দানা পিসে আটা করে তার সঙ্গে চালের আটা মিশিয়ে কালাই রুটি তৈরি হয়। এ রুটি ৬ থেকে ৭ ঘন্টা পেটে থাকে। সেজন্যই সমাজের খাবার হিসেবে এটি জনপ্রিয়তা পায়।
পোষ্ট সুচিপত্রঃ রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি এবং কালাই রুটির বৈশিষ্ট্য
- রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি
- কালাই রুটির বৈশিষ্ট্য
- কেন বিখ্যাত রাজশাহীর কালাই রুটি
- কালাই রুটির উপকরণ
- কালাই রুটির পুষ্টিগুণ
- কালাই এর রুটির স্বাদ
- কালাই রুটির রেসিপি
- কালাই রুটি পরিবেশন
- কালাই রুটির জনপ্রিয়তা
- কালাই রুটির দাম
- শেষ কথা
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি হলো মাসকালায় এবং চালের গুড়ের মিশ্রণে এক ধরনের
রুটি, যা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। এটি একসময় রাস্তার ধারের খাবার হলেও এখন এটি
শহরের রেস্তোরাতেও পরিবেশন করা হয়, এবং এটি শীতকালে ভর্তা ও হাঁসের মাংসের সাথে
একটি জনপ্রিয় খাবার।
এক সময় ফুটপাতের খাবার হিসেবে প্রচলন ছিল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের
ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটির। কিন্তু ভজন রসিকদের পছন্দের কারণে কালাই রুটি এখন
রাজশাহীর রেস্তোরাঁর নিয়মিত খাবারে পরিণত হয়েছে। এতে করে কালাই রুটির কারিগরদের
চাহিদা তৈরি হয়েছে। ক্রেতাদের রুচির পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান
ও।
গত ১০ বছর ধরে রাজশাহী নগরীতে কালাই রুটির জনপ্রিয়তার কারণে বেশ কিছু দোকান গড়ে
উঠেছে। এর মধ্যে নগরীর উপশহর এলাকায় রয়েছে পাশাপাশি তিনটি দোকান। এই
দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পরপরই অসাধারণ স্বাদের কালার এর রুটি খেতে অনেকে ছুটে আসেন
দূর-দূরান্ত থেকে।
কালাই রুটির বৈশিষ্ট্য
কালাই রুটি হল মাসকলাইয়ের ডালের আটার সাথে তালের আটা মিশিয়ে তৈরি একটি
ঐতিহ্যবাহী এবং পুষ্টিকর খাবার। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো হল এটি প্রোটিন,
ভিটামিন বি, এবং আয়রনের ভরপুর। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও এতে প্রচুর
পরিমাণে ফাইবার থাকায় হজম শক্তি ভালো হয়, এবং এটি শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি
যোগায়। কালাই রুটির কিছু বৈশিষ্ট্য আছে নিচে সেগুলো দেওয়া হল:
১। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ: এতে ২০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট আমিষ বা প্রোটিন থাকে। যার শরীর
গঠন ও শক্তি জগতের সাহায্য করে।
২। ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ: ভিটামিন বি এবং বিভিন্ন ধরনের মিনারেল (যেমন আয়রন
এর একটি চমৎকার উৎস)।
৩। হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে: উচ্চ ফাইবার উপাদানের কারণে এটি হজম প্রক্রিয়াকে
উন্নত করে ।
৪। শক্তি দায়ক: এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে শক্তিশালী করে এবং বিভাগীয়
ক্রিয়া-কলাপ সঠিক রাখে।
৫। প্রস্তুত প্রণালী: এটি মাসকালাই ও চালের আটার মিশ্রণে তৈরি হয় এবং
ঐতিহ্যগতভাবে কোন বেলনা বাপিরা ছাড়াই শুধু হাতে তৈরি করা হয় ।
৬। ঐতিহ্যবাহী খাবার: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ও
ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটি।
কেন বিখ্যাত রাজশাহীর কালাই রুটি
আমের শহর, রেশমের শহর কিংবা শিক্ষার নগরী হিসেবে রাজশাহীর খ্যাতি তো আছেই, তবে
শীতকালে রাজশাহীর পরিচয় যেন হয়ে ওঠে কালাই রুটির শহর।
মূলত কালাই রুটি হলো বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী
খাবার। এটি সংরক্ষণযোগ্য খাবার যা মাসকালাই ও আতপ চালের আটা বা ময়দা, লবণ এবং
পানি দিয়ে তৈরি করা হয়।
বাংলাদেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালাই রুটির উৎপত্তি বলা যায়। এই অঞ্চলে মাছ-ভাত
-ডালের মতোই বহুল পরিচিত খাবার। শহরের প্রায় সকল জায়গায় চোখে পড়বে কালাই
রুটির দোকান। এই জেলা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, নওগাঁ এবং ঢাকাতেও কালাই রুটি
দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কালাই রুটি চাপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাবার হলেও তার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
রাজশাহী নগরে। আপনি ভোজন রসিক, রাজশাহী নগরেও গিয়েছেন, অথচ একবার হলেও কালাই
রুটি পাতা নিয়ে বসেননি-দুঃখিত পাঠক, আপনার জন্য আফসোস হচ্ছে।
বর্তমানে রাজশাহী নগরে কালাই রুটির অন্তত ১০০ টি দোকান গড়ে উঠেছে। দোকান গুলোর
নামও বেশ চমৎকার। কালাই ঘর, কালাই বাড়ি, হারগে কালাই, এমন বাহারি সব দোকান
রয়েছে নগরীর মোড়ে মোড়ে। সকাল থেকে রাত দুপুর অবদি খোলা থাকে এসব দোকান।
কালাই রুটির উপকরণ
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি ঝাল ঝাল ভর্তা দিয়ে খেতে খুবই সুস্বাদু।
বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই রুটি।
উপকরনঃ
- মাসকলাইয়ের ডালের আটা ১ কাপ
- চালের গুড়া ১/৩ কাপ
- গমের আটা ১/৪ কাপ
- লবন আধা চা চামচ
- পানি পরিমাণ মতো
প্রস্তুত প্রণালীঃ
মাসকলাইয়ের ডালের আটা, চালের গুড়া, গমের আটা ও লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। অল্প
অল্প করে পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ড বেশি শক্ত করবেন না। একটি ভেজা কাপড় দিয়ে
ঢেকে রাখুন পনের মিনিটের জন্য। রুটি বানানোর আগে হাতে সামান্য পানি লাগে আবারো
মথে নিন। কালায় রুটি বানাতে আটা বা ময়দা ব্যবহৃত হয় না। হাতের সাহায্যে এটি
বানানো হয়। রুটি বানানোর কাঠের পীড়িতে সামান্য পানি লাগিয়ে নিন। ২ থেকে একটি
অংশ নিয়ে হাতের সাহায্যে চেপে চেপে গোল করুন। দুই হাত দিয়ে টেনে চেপে বড় করে
রুটি বানান।
কালাই রুটির পুষ্টিগুণ
কালাই রুটি প্রোটিন, আইরন এবং ফাইবার এর মত পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ একটি
স্বাস্থ্যকর খাবার। এতে থাকা প্রোটিন (প্রায় ২০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট) ফাইবার, এবং
ভিটামিন বি হজম সহায়ক এবং শরীরকে শক্তি যোগায়। এছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম,
ফসফরাস, ও জিংক এর মত খনিজ পদার্থ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা শরীরকে সুস্থ রাখে।
কালাই রুটির পুষ্টিগুণ নিম্নে দেয়া হলো:
১। প্রোটিনঃ এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট আমিষ বা প্রোটিন থাকে, যা বেশি
গঠনের সহায়তা করে ।
২। ফাইবারঃ প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকা এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ।
৩। আইরনঃএতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের সাহায্য করে
।
৪। ভিটামিন বিঃ এটি ভিটামিন বি এর একটি ভালো উৎস ।
৫। খনিস উপাদানঃ এতে ক্যালসিয়াম, জিংক এবং ফসফরাসের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান
রয়েছে ।
৬। কার্বোহাইড্রেটঃ কার্বোহাইড্রেট শরীরের গঠনের মজবুত করে এবং অতিরিক্ত শক্তি
সরবরাহ করে ।
কালাই রুটির স্বাদ
কালাই রুটি সাধারণত মহিলারা বানিয়ে থাকে। আমরা সেই মহিলাদের খালা বলে ডাকি।
খালারা খুব আদরের সাথে সকল লোকদের সাথে খুব ভালো ব্যবহারের সাথে খাবার পরিবেশন
করে থাকে। খালা জানিয়েছেন, মাসকলাইয়ের ডাল আর আতপ চালের আটা দিয়ে তৈরি হয় এই
কালারের রুটি। রুটি দুটি তৈরি করতে আনুমানিক আড়াইশ গ্রাম কালাই আর ১০০ গ্রাম
চালের আটা লাগে।। রুটির একটা পাস হয় নরম, আরেক পাশ হয় কুড়মুড়ে। কালাই রুটির
প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে তা অবশ্যই গরম অবস্থায় খেতে হবে।
খালার দোকানে সর্বদা ভিড় থাকে। একটার পর একটা রুটি সিরিয়াল চলতেই আছে। এক টুকরো
খামের নিয়ে হাতের মাধ্যমে গোল করে পাশেই মাটির উনুনে তৈরি করে ফেলছেন মজাদার
কালাই রুটি। কেউ খাচ্ছেন মরিচ ভর্তা দিয়ে আবার কেউ বেগুন ভর্তা।
কালাই রুটির রেসিপি
প্রথমে মাসকালাই ও আতপ চাল পাঠাতে বা যাতাতে পিষে আটা বানানো হয়। মেশিনে তৈরি
আটা দিয়েও কালার রুটি বানানো গেলেও পাটাই পিষ্ট আটা দিয়ে কালাই রুটি বানালে
স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এর সাথে স্বাদমতো লবণ ও প্রয়োজনীয় পরিমান পানি মিশিয়ে
খামির তৈরি করা হয়।খামির থেকে ছোট বল পরিমাণ আটা নিয়ে গোলাকার করা হয়। এরপর
দুই হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বড় রুটি বানানো হয়। সাধারণত গমের রুটির
চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু এবং বড়। এরপর রুটিটিকে মাটির দাওয়াতের শেখে গরম করা
হয়। রং বাদামি হয়ে গেলে নামে নেওয়া হয়।
আমের শহর, রেশমের শহর কিংবা শিক্ষার নগরী হিসেবে রাজশাহী খ্যাতি তো আছেই, তবে
শীতকালে রাজশাহীর পরিচয় যেন হয়ে ওঠে কালাই রুটির শহর। রাস্তার পাশে মাটির চুলার
ওপর সেকে ছেঁকা হচ্ছে কালাই এর রুটি। গরম গরম সে রুটি চলে আসছে থালায়। আর বাটিতে
আসছে লাল শুকনো মরিচ দিয়ে কষানো ধোয়া ওঠা হাঁসের মাংস অথবা কাঁচামরিচ বেটে তাতে
লবনের সেটে আর কাসুন্দি দেয়া চাটনি কিংবা ঝাল ঝাল বেগুন ভর্তা, উপরে সরিষার তেল
দেওয়া অসাধারণ। প্রিয় পাঠক, কালাই রুটি খাওয়া নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি?
কালাই রুটি পরিবেশন
কালাই রুটির সাথে সাধারণত বেগুন ভর্তা, শুকনো মরিচ ভর্তা, বট, পেঁয়াজ ভর্তা,
মাংস ভুনা ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এসবের সাথে রুটিন টুকরো ছিঁড়ে গরম গরম
খাওয়া হয়। আলাই রুটি সাধারণত গরম গরম পরিবেশন করা হয় এবং এর সাথে বিভিন্ন
ভর্তা, মাংসের তরকারি,গুড় বা দই দিয়ে খাওয়া হয়। পরিবেশনের সময় রুটি ছিড়ে
ভর্তা বা মাংসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়।
আমের শহর, রেশমের শহর কিংবা শিক্ষার নগরী হিসেবে রাজশাহী খ্যাতি তো আছেই, তবে
শীতকালে রাজশাহীর পরিচয় যেন হয়ে ওঠে কালাই রুটির শহর। রাস্তার পাশে মাটির চুলার
ওপর সেকে ছেঁকা হচ্ছে কালাই এর রুটি। গরম গরম সে রুটি চলে আসছে থালায়। আর বাটিতে
আসছে লাল শুকনো মরিচ দিয়ে কষানো ধোয়া ওঠা হাঁসের মাংস অথবা কাঁচামরিচ বেটে তাতে
লবনের সেটে আর কাসুন্দি দেয়া চাটনি কিংবা ঝাল ঝাল বেগুন ভর্তা, উপরে সরিষার তেল
দেওয়া অসাধারণ। প্রিয় পাঠক, কালাই রুটি খাওয়া নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি?
কালাই রুটির জনপ্রিয়তা
কালাই রুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার,
যা এখন উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা সহ ঢাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি পুষ্টিকর,
সুস্বাদু, এবং গরম হাঁস/ গরুর মাংস, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, এবং সরিষার তেল দিয়ে
পরিবেশিত হয়। এর জনপ্রিয়তার কারণ এর পুষ্টিগুণ এবং মুখরোচক স্বাদ, যা ভোজন
রসিকদের কাছে ব্যাপক আকর্ষণ সৃষ্টি করছে।
পালায় রুটির আদি উৎস চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মার চরাঞ্চলে এবং এটি একটি ঐতিহ্যবাহী
খাবার যা বর্তমানে শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, পুরো রাজশাহী বিভাগ এবং ঢাকাতেও
জনপ্রিয়তা লাভ করছে। মাসকলাই ও চালের আটা দিয়ে তৈরি একটি পুষ্টিকর খাবার। যা এর
স্বাদ ও পুষ্টি গুণে ভজন রসিকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে
মাছ ভাত ডাল এর মত একটি বহুল পরিচিত খাবার এবং শীতকালে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি
পায়।
গরম কালাই রুটির সাথে হাঁস ও গরুর মাংস, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, যেমন বেগুন ভর্তা,
পিয়াজ ভর্তা, শুকনো লাল মরিচের ভর্তা এবং সরিষার তেল দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
রাজশাহী শহরে প্রায় সব জায়গায় কালা রুটির দোকান চোখে পড়ে। এবং রাজশাহীর মতো
শহরে বড় রেস্তোরাও গড়ে উঠেছে এটি এই রুটি কে কেন্দ্র করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
রাজশাহী, নওগাঁ বগুড়া ও গাইবান্ধার মত জেলায় এই রুটির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।যা
এর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।
কালাই রুটির দাম
কালাই রুটির দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যেই হয়। তবে কোন কোন স্থানে বিশেষ কালাই
রুটি বানানো হয়, যার মূল্য ৬০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।পদ্মার উজান থেকে প্রতিবছর
বানের পানির সঙ্গে প্রচুর পলিমাটি আসে। শীতের শুরুতে নদীতে জেগে উঠে চর। সেই চরের
উর্বর পলি মাটিতে প্রায় পরিচর্যা ছাড়াই ফলে মাসকলায়। এই কালাই দানা পিছে আটা
করে তার সঙ্গে চালের আটা মিশিয়ে কালাই রুটি তৈরি হয়। এ রুটি ৬ থেকে ৭ ঘন্টা
পেটে থাকে। সেজন্যই এটি জনপ্রিয়তা পায়। বহু শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের খাবার
হিসেবে শহরের ফুটপাতে এর রুটি বিক্রি শুরু হয়। পাকিস্তান আমলের রাজশাহী শহরের ৪
আনায় এ রুটি পাওয়া যেতে বলে জানান মাহবুব সিদ্দিকী।
শেষ কথা
আমাদের রাজশাহী শহরে কালাই রুটির জনপ্রিয়তা বেশ। গ্রাম থেকে রাজশাহী শহরে আসতে
হবে ভাবতেই, মনে পড়ে যায়,কালাই রুটির কথা, পকেটে যত কম টাকা থাকুক না কেন,কালাই
রুটি খাওয়ার টাকা থাকবেই। রাজশাহী শহরে আসবো অথচ কালাই রুটি খাব না তা কি হয়।
আজকে রাতে গেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কালের রুটি এবং
কালের রুটির বৈশিষ্ট্য। কেন বিখ্যাত রাজশাহীর কালাই রুটি, কালাই রুটির পুষ্টিগুণ,
কালাই রুটির উপকরণ, কালাই রুটির স্বাদ, আরো অনেক কিছু। আশা করি আজকের আর্টিকেল
সম্পন্ন করে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকারী আসতে পেরেছি। আমার আর্টিকেল পড়ে যদি
আপনাদের ভালো লাগে,
.webp)

.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url