রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয় - এবং সময়মতো খাওয়ার উপকারিতা

 মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায় 

রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয়? আমাদের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এত দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলেছি । কেউ অফিস থেকে দেরি করে ফেরে, আবার কেউ ফোন বা টিভিতে ব্যস্ত থেকে খাওয়া দেরি করে,কিন্তু জানেন কি রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয়? এটা অনেকেই বোঝেনা দেরি করে খাওয়া শুধু হজমের সমস্যা না বরং শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি কে নষ্ট করে। এখন আমরা জানবো রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয় এবং কেন সময় মত খাওয়া উচিত। 

পোস্ট সূচীপত্রঃ রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয় এবং সময় মত খাওয়ার উপকারিতা

রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয়

রাতে দেরি করে খাওয়া মানে শরীরের প্রাকৃতিক কার্যক্রমের সাথে লড়াই করা। আমাদের শরীর সূর্যাস্তের পর বিশ্রাম মুখী হয়ে পড়ে। হজমের প্রক্রিয়া গুলো কম কাজ করে। রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে এ সময় খাবার খেলে শরীরকে জোর করে কাজ করাতে হয় যার ফলে হজমের গতি কমে যায়। ধীরে ধীরে এটি পাকস্থলীতে এসিড তৈরি করে ফলে গ্যাস তৈরি হয়। রাতে ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খেলে পাকস্থলীতে আটকে থাকে ফলে সকালে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এছাড়াও রাতে দেরি করে খেলে লিভারের ফ্যাট জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তাকে বলা হয় ফ্যাটি লিভার। 

এটি দীর্ঘমেয়াদী ইনসুলিন রেজিস্টার্ড ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি বাড়ায়। রাতে দেরি করে খাওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো শরীরের মেটাবলিসমের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। শরীরের ভেতরের ঘড়ি অনুযায়ী সন্ধ্যার পর শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় ফলে আবার পেটে জমে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া হয়। আমরা অনেকেই রাতে দেরি করে অফিস থেকে ফিরে পাসপোর্ট খেয়ে ফেলি যেমন বার্গার, পিজ্জা, পরোটা, বিরিয়ানি ,সিঙ্গারা ইত্যাদি। এই ধরনের খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। ফলে শরীর এনজাইম সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে দেরি করে খাওয়ার ক্ষতি

গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন রাত দশটার পরে খাবার খাই তাদের মধ্যে ৬০% এর বেশি হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত দেরি করে খাওয়া দাওয়া ভোগ করলে গ্যাস্ট্রিক ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের এটি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাতে দেরি করে খাওয়া শুধু সাধারণ অভ্যাস নয় এটি এখন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। দেরিতে খাওয়া মানে মোটা হওয়া, কিন্তু বিষয়টা আরো গভীর। বিশেষজ্ঞরা যে কিছু লুকোনো ক্ষতি, নিয়ে সতর্ক করেছেন তা জানা জরুরী। 

শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈব ঘড়ি বিঘ্নিত হয়। আমাদের শরীরের ভেতরে একটি ইন্টারনাল ক্লক, থাকে। যা দিনে কাজ রাতে বিশ্রাম এই ছন্দে কাজ করে। কিন্তু আমরা যদি রাত ১০ -১১ টার পর খাই তখন শরীর বিভ্রান্ত হয়ে যায়। এতে হরমোন নিঃসরণ কোষ পূর্ণ গঠন এমনকি প্রাকৃতিক ডিটক্স ব্যাহত হয় । ফলে সকালে ক্লান্তি মাথা ভার এবং মানসিক সচেনতা হারিয়ে যায়। যেন ঘুমিয়ে ওর শরীর বিশ্রাম পায়নি। 

রাতে দেরি করে খাওয়ার অসুবিধা

অনেকে ভাবে রাতের শুধু এক কাপ নুডুলস ও একটা রুটি খেলাম এতে সমস্যা কি। কিন্তু সমস্যা হয় শরীরের ভেতরের প্রক্রিয়ায়। খাওয়ার পরেই শরীরকে আরাম না দিয়ে সাথে সাথে ঘুমাতে গেলে পাকস্থলী খাবার পচন প্রক্রিয়া করতে পারে না। ভালোমতো যার ফলে অতিরিক্ত গ্যাস এবং মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর খাবার পছন্দ প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে না হয় তাহলে গ্যাসের কারণে বুক ভারি লাগে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের সকালে মাথা ব্যথা বুক জ্বালাতে ও মুখের তিক্ততা দেখা দেয় যা দেরি করে খাবার প্রভাব। 

এছাড়া আপনি যখন দেরি করে খাবার খান আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল ঘড়ি বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় প্রতিদিন একই সময়ে দেরি করে রাতে খাবার খেলে শরীরে প্রতিদিন সেই একই সময়ে ক্ষুধা সিগন্যাল দেয় ফলে রাত জাগা ও দেরি করে খাওয়া একে অপরের অভ্যাসে পরিণত হয়। দেরি করে খাওয়া শুধু হজমের সমস্যা নয় পেটে ঘুম ও মানসিক প্রশান্তির শত্রু। অনেকেই ভাবে আমি তো শুধু হালকা খাবার খেলাম ক্ষতি কি? কিন্তু আসলে ঘুমের ঠিক কিছুক্ষণ আগে খাবার খাওয়া মানে শরীরকে সারারাত বিশ্রাম দিয়ে কাজ করানো ।

আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে রসুন ও মধু খাওয়ার উপকারিতা

রাতের খাবার শেষে সরাসরি ঘুমাতে গেলে খাবার হজম না হয়ে গ্যাস তৈরি হয়। ফলে বুক ভারী লাগে গ্যাস করে সকালে মাথা ব্যথা করে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস শরীরের প্রাকৃতিক সময়সূচিকে নষ্ট করে দেয়।

ওজন বাড়ার ঝুঁকি ও চর্বি জমার কারণ

বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেক অংশে বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে রাতে দেরি করে খায় তাদের শরীরে ক্যালরি পড়ার আর কমে যায় এবং চর্বি জমার হার বেড়ে যায়। কারণ শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি দিনে খাবার হজমে বেশি সক্রিয় থাকে কিন্তু রাতে এই প্রক্রিয়ায় গতি কমে যায়। 

রাতে শরীরের শক্তি খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। তাই এ সময় খাওয়া খাবার শরীরে কাজে লাগে না চর্বি হিসেবে জমা হয়। বিশেষ করে ভাত রুটি মিষ্টি জাতীয় খাবার বা ভাজাপোড়া শরীরে চর্বি জমাতে বেশি সাহায্য করে। তখন আপনি খাওয়ার পর পরই ঘুমিয়ে পড়েন শরীরে হঠাৎ ইন্সুরেন্স এর মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। বিশেষ করে পেট ও কোমরের চারপাশে বেশি চর্বি জমে। আরো একটি গবেষণায় দেখা গেছে দেরি করে খেলে ইনসুলিন সেনসিটিভ কমে যায়। 

মানে শরীর রক্তের চিনি সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে শরীরে গ্লুকোজ বাড়ে এবং শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কে চর্বি হিসেবে জমা করে। রাতে খাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ তাৎক্ষণিক ঘুমিয়ে পড়ে। ফলে শরীর শক্তি ব্যয় প্রায় শূন্য হয়ে যায়। খাবার পড়তে না পেরে জমতে থাকে যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ায়। এছাড়া ঘুমের সময় বিপাকক্রিয়া আরো ধীর হয়। তাই খাবারের হজম অসম্পূর্ণ থেকে যায় যা পরে গ্যাস্টিক আকারে প্রকাশ পায় এবং ফ্যাট স্টোরেজ তৈরি হয়। 

ঘুম ও হজমে দেরি করে খাওয়ার প্রভাব

যখন আপনি রাতে দেরি করে খান তখন আপনার শরীর ঘুমের মধ্যে হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম হয় না পরের দিন শরীর ক্লান্ত ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। দেরি করে খাওয়া ঘুমের হরমোন মেটাটোনিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। ফজার ফলে ঘুম হাল্কা হয়ে যায়, অনেক সময় দুঃস্বপ্ন দেখা, হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া অথবা সারারাত জেগে থাকা এসবই রাতে দেরি করে খাওয়ার সরাসরি প্রভাব। রাতে দেরি করে খাওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ঘুমের মান নষ্ট হওয়া। 

খাওয়ার পর শরীরে রক্ত প্রবাহ পাকস্থলীতে বেশি ট্রেন্ডিভুক্ত হয় ফলে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং ঘুম হালকা হয়ে পড়ে। ফলে আপনি হয়তো ৭ -৮ ঘন্টা ঘুমালেও ঘুম টা ফ্রেশ মনে হয় না।। এছাড়াও দেরিতে খেলে মেলাটোনিন নামের ঘুমের হরমোন সঠিক ভাবে নিঃসৃত হতে পারে না। এই হরমোন ঘুমের গভীরতা ও মান নির্ণয় করে। যখন এটি কমে যায় তখন হঠাৎ দু- স্বপ্ন বা ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। রাতে দেরি করে খেলে কটি সল লেভেল হাই হয়ে যায় ।

ত্বক ও মানসিক অবস্থার অবনতি

রাতে দেরি করে খাওয়া মানে শরীরকে হজমে ব্যস্ত রাখা যার ফলে শরীরে ডিটক্স প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় লিভার ও কিডনি শরীর থেকে টক্সিক পরিষ্কার করে কিন্তু তখনও যদি শরীর খাবার হজমে ব্যস্ত থাকে তাহলে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাহত হয়। ফলাফলস্বরূপ ত্বকের টক্সিন জমে মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চোখের নিচে কালো দাগ, নিস্তেজ ত্বকের কারণ হয়। মানুষের দিক দিয়েও প্রভাব পড়ে যেমন মন খারাপ থাকা, সারাদিন শরীর দুর্বল লাগা, এবং ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্ত লাগা। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও শক্তি, স্মৃতিশক্তি তেও প্রভাব পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা রাত জেগে খায় তাদের স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা ২০ থেকে ৩০% পর্যন্ত কমে গেছে কারণ মস্তিষ্ক বিশ্রামের সময়ও কাজ করতে ব্যস্ত থাকে। এমনকি পরের দিন কমে যায় যা ছাত্রছাত্রী বা চাকরিজীবীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মানসিক চাপ ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। দেরি করে খাওয়া মানে দেরিতে ঘুমানো এতে করতেসল হরমোন বেড়ে যায় যা শরীরের স্টারেস তৈরি করে। 

রাতে দেরি করে খাওয়ার শুধু ভেতরে নয় শরীরের বাইরের বাইরে ও তার প্রভাব পড়ে। খাবার ঠিক মতো হজম না হলে শরীরের ভেতরে টক্সিন জমা হয়। যার ফলে ত্বকে ব্রণ দেখা দেয় চামড়ার কালার অবনতি হতে পারে। চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে যায় ঘুমের ব্যাঘাতের কারণ। সব সময় ক্লান্তি লাগার ফলে অলসতা বেড়ে যায় এবং কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। সময় মত খেলে শরীর খাবারের ক্যালরি ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে কিন্তু রাতে দেরি করে খাওয়ার ফলে শরীর খাবারকে সঠিকভাবে ভেঙে ক্যালরি সঞ্চয় করতে পারে না। এবং শরীরে কাজে লাগাতে পারে না যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সময় মত খাবার খাওয়া এবং সমস্যার সমাধান করতে পারে কারণ এতে ঘুম ভালো হয় এবং শরীর রিল্যাক্স ফিল করে। 

দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের উপায়

  • প্রতিদিন খাবার সময় নির্ধারণ করুন যেমন রাত সাতটার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করা ।
  • মোবাইল টিভি বা সিরিজ দেখার আগে খাবার খেয়ে নিন 
  • ঘুমের অন্তত দুই ঘন্টা আগে খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন 
  • রাতের খাবার দেরি হলে ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন যেমন সুপ, সালাত, বা ফল খান 
  • যদি কাজ বা পড়াশোনার জন্য দেরি হয়ে যায় তাহলে বিকেলে হালকা নাস্তা খেয়ে নিন 
  • রাতে ক্ষুধা লাগলে পানি বা হারবাল চা খান 
  • প্রতিবার খাবারের সাথে একটু প্রোটিন রাখার চেষ্টা করি যেন বারবার ক্ষুধা না লাগে 
  • সব সময় একটা ব্যালেন্স খাবার ডায়েট রাখার চেষ্টা করুন 
  • সব সময় শুধু ভাত বা রুটি খেয়ে থাকার চেয়ে খাবারের প্লেটের শাকসবজি মাছ মাংস ডিম সবকিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন এতে পেট ভরবে বারবার ক্ষুদা লাগবে না।
  • রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিপ দেখা বন্ধ করুন 
  • খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি দেখবেন না এতে করে মাত্র অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে নিজের অজান্তে 

প্রতিদিন এভাবেই খাবারের নিয়ম চালিয়ে যান তাহলে সাতদিন পর থেকে আপনার শরীর নিজের আগেই খোদার সিগনাল দেবে 

সঠিক সময়ে খাওয়ার উপকারিতা ও জীবন যাত্রার ভারসাম্য

রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয় তা রাতে সময় মত খাবার খাওয়ার শরীরের জন্য আশ্চর্যজনক ভাবে উপকারী যখন আপনি প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খান তখন আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল ঘড়ি সঠিক নিয়মে কাজ করে। এছাড়াও সকালে ঘুম থেকে উঠলে শরীর ভালো থাকে। অনেক এনার্জিটিক মনে হয়। মেজাজ ফুরফুরে থাকে, ত্বক  উজ্জ্বল হয়, মনোযোগ ও বাড়ে। শরীর যখন বুঝে যায় সে কখন খাবার পাবে তখন হরমোনের ব্যালেন্স সঠিক থাকে। যখন আপনি সময় মত খান তখন শরীরের হজম প্রক্রিয়া ঘুম মেজাজ সবকিছু ভারসাম্য থাকে। 

এতে খাবার ভালোভাবে হজম হয় এবং শরীর শক্তি পায় সারাদিনের কাজের জন্য। অন্যদিকে নাস্তা দেরিতে করলে বাবা দিলে শরীরের গ্লুকোজ লেভেল কমে যায় ফলে ক্লান্তি মাথা ঘোরা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত দুপুর ও রাতের খাবার সময় মত খাওয়ার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে। যখন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে খাবার খাওয়া হয় তখন শরীর বুঝে নাই কখন খাবার আসছে এবং সে অনুযায়ী ক্যালোরি ব্যবহার হয়। 

আমার মত খাবার খেলে শরীর ফ্যাট জমিয়ে রাখে, কারণ সে খোদার সংকট অনুমান করে। বিশেষ করে রাতে দেরি করে খেলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না যা ওজন বৃদ্ধি ও গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। সময় মত খাবার খেলে হরমোন ও ইনসুলিনদের ব্যালেন্স ঠিক থাকে। যারা নিয়মিত সময় মত খাবার খায় তাদের রক্তে সরকার আর মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে পাশাপাশি ঘুম ভালো হয় কারণ শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বাধাপ্রাপ্ত হয় না।

দেরি করে খাওয়া বন্ধ করে সময় মত খাওয়া শুরু করলে শরীর আরো সক্রিয় হয় এনার্জি বাড়ে এবং দীর্ঘ মেয়েদের মানসিক শান্তি ফিরে আসে। নিয়মিত একই সময়ে খাবার খাওয়া মানসিক শান্তি আনে। আপনি আর অস্বস্তি বোধ করবেন না বরং দিনটা শুরু হবে একটি ইতিবাচক এনার্জি দিয়ে। অবশেষে সঠিক নিয়মে খাওয়া মানে শুধু শারীরিক নয় মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিয়মিত সময় মতো খাবার গ্রহণ করলে মন ভালো থাকে মনোযোগ বাড়ে। কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় , সুতরাং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে নাস্তা দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এটি কেবল স্বাস্থ্য রক্ষা করে না দীর্ঘ মেয়েদের আমাদের জীবনধারাকে আরো সুগঠিত শক্তিশালী ও সুখী করে তোলে। 

রাতে দেরি করে খাওয়া ও হার্টের ঝুঁকি

আরো পড়ুনঃ গরম দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার ২০ টি উপকারিতা ও  ৫ টি অপকারিতা 

রাতে দেরি করে খাওয়া শুধু মাত্র অর্জন বা হজমের সমস্যা নয়। হার্টের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। যখন আমরা ঘুমের সময়ও খাবার হজম করি তখন শরীরকে অতিরিক্ত রক্ত সরবরাহ করাতে হয় হজম প্রক্রিয়ার জন্য। এর ফলে হার্ট কে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। যদি এই প্রক্রিয়া নিয়মিত হয়ে যায় তাহলে হৃদপিন্ডের সাত বাড়ে। রক্ত ওঠানামা করে এবং হার্টবিট অস্বাভাবিক হতে পারে। 

অনেকে মনে করে, আমি তো হালকা খাবারই খাই তাতে যাই কি যায় আসে। কিন্তু সত্যি বলতে রাতে দশটার পর খাবার হাল্কা হলেও এটি শরীরের জন্য অতিরিক্ত কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা রাত দশটার পরে খায় তাদের হৃদপিণ্ডের ঝুঁকি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ পার্সেন্ট বেশি। রাতে দেরি করে খেলে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারেঃ 
  • হার্ড অ্যাটাক বাই স্টকের ঝুকি বুদ্ধি 
  • রক্তচাপ বা অস্বাভাবিক হার্টবিট 
  • রক্তের কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়া
তাই হৃদরোগের যোগ রোগের ঝুকি কমাতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। ঘুমের অন্তত দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে খাবার শেষ করা। রাতের খাবার ভারী হলে হালকা খাবার খেয়ে নাও যেমন সালাদ ও স্যুপ, রাতের খাবারের পরে হালকা হাটা বা ইস্ট্রেসিং করলে হাট ভালো থাকে। প্রতি অন্তত সপ্তাহে দুইদিন কার্ডিও বা হালকা এক্সারসাইজ হার্ডের চাপ কমায়। ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করলেও দীর্ঘ মেয়েদের হাটে ভালো থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

রাতে দেরি করে খাওয়া ডায়াবেটিস ও লিভারের ক্ষতি

রাতে দেরি করে খাওয়া শুধু ওজন বাড়ায় না এটি ডায়াবেটিস ও লিভারের গতির জন্য দায়ী। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রাতের খাবার হজমের আগে ঘুমালে শরীর ইনসুলিন কার্যকারিতা কমে যায়। ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ না করলে গ্লুকোজ সঠিক ভাবে ব্যবহার হয় না এবং শরীরে জমে থাকে ধীরে ধীরে এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের পরিণত হতে পারে। 

লিভারের ক্ষতি

লিভার সারারাত শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে। কিন্তু ভারী খাবার খেলে লিভারকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে করে লিভারে ফ্যাট জমা হয় যাকে বলে ফ্যাটি লিভার। লিভারের এনজাইম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী লিভার ডিশ অর্ডার হতে পারে। বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিসের দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। গবেষণায় দেখিয়েছে যে রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে রাতের সময় শরীর তৈরির ক্ষমতা কমে যায়।

তাই দেরিতে খাওয়া খাবার রক্তে সরকারের মাত্রা হঠাৎ বাড়ায় যা নিয়মিত হলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যায়। ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করা সমস্যা নাই এটি হাট, লিভার, কিডনি এবং চোখের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রথম ধাপ হলো খাবার ও জীবনধারা। রাতের খাবার ৭ থেকে ৮ এর মধ্যে শেষ করা এবং পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া এবং ব্যায়াম ও হাঁটার মাধ্যমে শরীরকে সক্রিয় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শাকসব্জি পুরনো শস্য কম চিনি এবং পর্যাপ্ত পানি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরী। বিশেষ করে পরিবারে যারা ডায়াবেটিস রোগী আছে বা ওজন বেশি। সতর্কতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মিলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রাতে দেরি করে খাওয়া বন্ধ করার শুধু ওজন কমায় না বরং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। রাতে ফাস্টফুড অতিরিক্ত তেল ভাজা মিষ্টি জাতীয় খাবার এগুলো ঝুকি আরো বাড়ায়। ডায়াবেটিস ও লিভার এর ওপর প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস ও লিভারের মতো অসুখ থেকে মুক্তি পেতে বা যৌগিক কমাতে কিছু কাজ করা যেতে পারে যেমন 
  • রাতে খাবার সহজ ও হালকা রাখুন 
  • প্রোটিন যুক্ত খাবার খান যেন রাতে বারবার ক্ষুধা না লাগে 
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগলে পানি বা সালাদ খান 
  • প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একদিন মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খেলে সার্বিক ঝুঁকি কমায়

রাতে দেরি করে খাওয়া বন্ধে মোটিভেশন ও পরিবর্তন

এত দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন আমরা জানি, যে রাতে দেরি করে খেলে কি কি ক্ষতি হয় মনে হলেও মোটিভেশন থাকলে সহজ। প্রথমে লক্ষ্য স্থির করা প্রয়োজন। 

আরো পড়ুনঃ ছেলেদের ত্বক ভালো রাখার উপায় 

  • রাতে খাবারের আগে এলার্ম দিয়ে রাখলে মনে পড়বে খাবার শেষ করতে হবে 
  • রাতের ক্ষুধা লাগলে পানি ,হারবাল চা ,কফি ,বা ফল খাওয়া উচিত। 
  • প্রতিদিন নিজের অগ্রগতি খাতায় লিখলে প্রেরণা বাড়বে 
  • প্রতি সপ্তাহে নিজেকে উপহারস্বরূপ নিজের পছন্দের খাবারটা খেতে দেওয়া 
  • কেউ সাথে থাকলে অভ্যাস পরিবর্তন করার সহজ হয়ে যায় যেমন মা-বাবা যদি সাথে থাকে। 

ছোট ছোট পরিবর্তন ধাপে ধাপে করলে রাতে দেরি করে খাওয়া বন্ধ করা সম্ভব এর মাধ্যমে 

  • শরীর সুস্থ থাকবে 
  • ঘুমের মান ভালো হবে 
  • এনার্জি বাড়বে 
  • মন ভর করে থাকবে এবং চাপ কমবে 
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে 
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে 
  • ফ্যাটি লিভার হোওয়ার সম্ভাবনা কমবে 
  • হৃদ রোগের ঝুকি কমবে 
  • সারাদিন অনেক প্রোডাক্টিভ কাটবে 
  • স্ট্রোক করার ঝুঁকি কমে যাবে 
  • সব কম হবে ফলের চুল ভালো থাকবে। 
  • নিয়মিত একই সময়ের খাওয়ার ফলে শরীরের বায়োলজিক্যাল ঘড়ি ঠিক থাকবে 
  • শরীরের রক্তের শর্করার মান ঠিক থাকবে 

এভাবে শুধু মানুষের শারীরিক নয় মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে উঠলে রাতে দেরি করে খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীর মন দুটোই ভালো থাকে। 

শেষ কথা 

প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি রাতে দেরি করে খেলে কি ক্ষতি হয় এবং সময়মতো খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করছি আজকের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে আপনারা কিছুটা হলে উপকৃত হয়েছেন। এমন আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গে থাকুন এবং ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 




 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url