গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয় কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা
আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে সেটি সবার জন্য খুবই উপকারী। আজকের বিষয়টি হচ্ছে কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। প্রায় সবাই খেয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকের এই শাকের গুনাগুন সম্পর্কে জানে না। এই কলমি শাক বিভিন্ন প্রতিবনে ভরপুর একটা শাক।
তাই যাদের উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে জানা নেই তাদের জন্য এই আর্টিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে এ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নিন উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়
- কলমি শাকের উপকারিতা
- কলমি শাকের অপকারিতা
- কলমি শাকের পুষ্টি উপাদান
- কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক
- কলমি শাকে কি এলার্জি আছে
- কলমি শাকে কি প্রেশার বাড়ে
- কলমি শাকের ঔষধি গুন
- কলমি শাক খেলে কি হয়
- কলমি লতার উপকারিতা
- কলমি শাকের বৈশিষ্ট্য
- কলমি শাকের রেসিপি
- শেষ কথা
গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয় এর সম্পর্কে আমরা এখন বিস্তারিত জানার
চেষ্টা করব। কলমি শাক গ্রাম বা শহরে উভয় জায়গায় প্রচুর পাওয়া যায়। এটি
চাষাবাদে ও ফলে এবং আপনা আপনিও জলাশয়ে জন্মে থাকে। লোক সমাজে বলাবলি
হয়েছে কলমি শাকের উপকারিতা অনেক। সেজন্য আমাদের একটি কমন প্রশ্ন থাকে যে
গর্ববস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়। তাহলে আসুন আমরা জানি। কলমি শাক খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায়।
গর্ভাবস্থায় কর্মে শাক খাওয়া যেতে পারে কারণ এই কলমে শাকে অনেক উপকারী সমৃদ্ধ
পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে। তাই আপনি চাইলেই একজন গর্ভবতী মাকে বা আপনি যদি
গর্ভবতী মা হন, তাহলে এই কলমি শাক খেতে পারেন। কেননা এই শাকে বেশি উপকারিতা
রয়েছে যা এই সময় অনেক উপযোগী। তাহলে আসুন জেনে নিন কি সেই উপকারিতা গুলি।
কলমি শাকের উপকারিতা
প্রিয় পাঠক এ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে। তবে কলমি
শাকের চাহিদা কম থাকলেও এর নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। এই কলমি শাকে বিভিন্ন
ধরনের ভিটামিন রয়েছে যেমন: ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ইত্যাদি । আর এই ভিটামিন
গুলো দেহের জন্য খুবই উপকারী। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কলমে শাকের উপকারিতা
সম্পর্কে।
কলমি শাক লিভার ও হার্ড ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা
দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং দাঁত ও নারীর মজবুত
রাখতে সাহায্য করে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ফাইবার ও
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে
সহায়ক। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং গর্ভাবস্থায় মায়ের
দুধ বৃদ্ধিতে উপকারী।
১। যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে তারা কলমি শাক খেতে পারেন। কারণ এই কলমি শাক
লিভার ভালো রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।
২। এই কলমি শাক বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন সি রয়েছে অনেক। এগুলো
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যার কারণে হৃদরোগ দূরে থাকে।
৩। যেহেতু কলমি শাক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, সেহেতু এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৪। শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য কলমি শাক খুবই কার্যকরী। কারণ কলমি
শাকে রয়েছে ক্যালসিয়াম।
৫। আবার চোখকে ভালো রাখতে ভিটামিন এ খুব প্রয়োজন। তাই চোখকে ভালো রাখতে কলমি
শাক খেতে পারেন। কারণ কলমে সাথে রয়েছে ভিটামিন এ।
৬। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তারা এই কলমি শাক খেতে পারেন। কলমি শাক খাওয়ার
ফলে এই সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
৭। এই কলমি শাকে ক্যারোটিনের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং আঁশের পরিমাণ একটু
বেশি থাকে। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে।
৮। যেহেতু কলমি শাকে ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি রয়েছে, সেহেতু এইসব টক ও চুলকে
ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৯ । এই কলমি শাকে রয়েছে লোহা, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
থাকে।
১০ । দাঁত ও দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে সাহায্য করে এই কলমি শাক। কারণ কলমি শাকে
রয়েছে ভিটামিন সি, যা দাঁত ও মাড়ির মজবুত করার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।
উপরোক্ত উপকারিতা গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় এই কলমি শাক খেলে।
আর কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে
পারেন।
কলমি শাকের অপকারিতা
এখন আমরা জানার চেষ্টা করব কলমি শাকের অপকারিতা নিয়ে। কলমি শাক যদিও
স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার কিছু সম্ভাব্য
অপকারিতা থাকতে পারে। এখানে কলমি শাকের অপকারিতা কিছু দিক তুলে ধরা হলোঃ
১। কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে আর্টস বা ফাইবার থাকে। অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা,
গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।
২। কলমি শাকের অক্সালেট থাকে যা কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের এই শাক খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা
উচিত।
৩। কিছু ওষুধের সাথে কলমি শাকের উপাদান পারস্পরিক ক্রিয়া করতে পারে, যা ওষুধের
কার্যকারিতা কমাতে বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
৪। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কলমে শাক খাওয়ার ফলে এলার্জি হতে পারে। যেমন
চুলকানি, ত্বকের বা শ্বাসকষ্ট।
৫। যদি কলমি শাক দূষিত পানিতে জন্মায়, তবে তা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
হতে পারে।
৬। কলমি শাক অনেক সময় নাইট্রেট জমা করতে পারে, জা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে
স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সাধারণত, পরিমাণ মতো এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে কলমি শাকের অপকারিতার ঝুঁকি
কমানো যায়। তবে যাদের বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে এসব খাওয়া উচিত।
কলমি শাকের পুষ্টি উপাদান
কলমি শাক ভিটামিন এ ,সি ,বি ১, থায়ামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, এবং
অ্যান্টি এক্সিডেন্ট এ ভরপুর, যা চোখ ভালো রাখে, রক্তস্বল্পতা দূর করে, হজমে
সহায়তা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে জলীয় অংশ অনেক
বেশি, যা সুগার নিয়ন্ত্রণেও উপকারী।
প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান (আনুমানিক,)
- ক্যালোরি ২৯ কিলো ক্যালরি
- প্রোটিন আমিষ ৩ গ্রাম
- জলীয় অংশ ৮৯.৭ গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট ৫.৪ গ্রাম
- ফাইবার খাদ্য আঁশ ২.১ গ্রাম
- ক্যালসিয়াম ৭৩ মিলিগ্রাম
- ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম
- আয়রন লোহো ২.৫ মিলিগ্রাম
- সোডিয়াম ১১৩ মিলিগ্রাম
- পটাশিয়াম ৩১২ মিলিগ্রাম
- ক্যারোটিন ১০.৭৪০ মাইক্রগ্রাম
কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক
কলমি শাকের উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। তবে একটা জিনিসের
ভালো এবং মন্দ উভয় দিক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই কলমে শাক খাওয়ার সময় এই
দিকগুলো বিবেচনায় রাখা উচিত। তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তারা কলমি শাক
খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। আবার কলমি শাক খেলে অনেকেরই
এলার্জির সমস্যাও উদ্ভব হতে পারে। তাই যদি এই সাপ খাওয়ার পর কোন ধরনের সমস্যা
দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
কলমি শাক সাধারণত উপকারী হলেও, এটি দূষিত জল থেকে জন্মালে বিষাক্ত ভারী ধাতু
(যেমন ক্যাডমিয়াম, সীমা,পারদ,) শোষণ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর,
বিশেষত যদি ভালোভাবে পরিষ্কার বা রান্না করা না হয়; এছাড়া অপরিষ্কার কলমে
থাকে পরজীবী সংক্রমণ বা ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিরাপদ তুচ্ছ থেকে
সংগ্রহ ও সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা জরুরী।
আবার অতিরিক্ত কলমি শাক খেলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ডায়রিয়ার
সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এই কলমি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হলেও এই শাকে
রয়েছে ভাইবার যা অনেক সময় অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। কলমি শাক
উপকারী শাক হলেও প্রেসার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুব একটা ভাল কাজ করে না।
অর্থাৎ, এই শাক যদি অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া হয় তাহলে প্রেসার কমে যাওয়ার
সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে সাপ খাওয়ার ফলে যদি কোন
সমস্যা তৈরি হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং কতটুকু খাওয়া প্রয়োজন
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা দুইটাই আছে। কলমি শাকের ক্ষতিকর দিকগুলো হল
যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা এ শাক খেলে পাথর আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই তাদের ইউরিক
এসিডের সমস্যা কিডনির সমস্যা আছে তারা এই শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কলমি শাকে কি এলার্জি আছে
প্রিয় পাঠক উপরের আলোচনার মাধ্যমে জানাতে পেরেছি কলমি শাকের উপকারিতা ও
অপকারিতা সম্পর্কে। এবার আলোচনা বিষয়টি একটু ভিন্ন ধরনের। তাই এবার জানতে হবে
কলমি শাকে কোন এলার্জি আছে কিনা সে সম্পর্কে। এলার্জির বিষয়টি আসলে মানুষ ভেদে
হয়ে থাকে। কারণ এলার্জি সবার হয় না, তবে কোন খাবারে এলার্জি রয়েছে সেই
বিষয়ে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
সাধারণত কলমি শাকে এলার্জির ঝুঁকি খুবই কম, এটি একটি পুষ্টিকর ও উপকারী শাক,
তবে যে কোন খাবারের মতো ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা বা বিরল ক্ষেত্রে কারো কারো
এলার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন তোকে চাকা, চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট, তাই
নতুন করে খেলে অল্প পরিমাণে শুরু করা ভালো। যদি কোন লক্ষণ দেখা দেয় তবে খাওয়া
বন্ধ করতে হবে।
যদি এলার্জির ভয় থাকে তাহলে অধিক পরিমাণে না খেয়ে আগে অল্প পরিমাণে খেয়ে
দেখুন। যদি এলার্জির সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে কলমি শাকে আপনার এলার্জি
রয়েছে। আর যদি না হয় তাহলে কলমি শাক এলার্জি নেই। আর যদি এলার্জির সমস্যা
থাকে তাহলে কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন
এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
কলমি শাকে কি প্রেশার বাড়ে
কলমি শাক সাধারণত প্রেসার বাড়ায় না, বরং এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের
সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম উপাদান রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়াম এর প্রভাব কমে রক্তনালী গুলোকে
শিথিল করতে সাহায্য করে। যার ফলে রক্তচাপ কমে আসে। তবে যেকোনো ধরনের
স্বাস্থ্যগত অবস্থার জন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সব সময়ই শ্রেয়।
কলমি শাকের বৈশিষ্ট্য
কলমি শাক যেমন বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর তেমনি দেহের জন্য খুবই উপকারী। এই কলমি
শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি। এর পাশাপাশি রয়েছে ক্যালসিয়াম। এই
ক্যালসিয়াম থাকার কারণে হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি দেহের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও খুবই ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও যদি কলমি শাক নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এছাড়াও
এই কলমি শাক চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য
গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই কলমি শাকে, যা উপরে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
কলমি শাকের ঔষধি গুন
ফোঁড়া হলে কলমে পাতা একটু আদা সহ বেটে ফোঁড়ার চারপাশে লাগালে ফোঁড়া গলে
যাবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কলমি শাকের সাথে আখের গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে এক
সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। আমাশয় হলেও এই শাক
অনেক কাজ করে। গর্ভাবস্থায় মেয়েদের শরীরে পানি উৎপাদনে সাহায্য করে। কলমি
শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় আছে। একজন গর্ভবতী মহিলার প্রথম তিন মাস
অনুযায়ী দৈনিক শক্তির ১.০৬% পূরণ করে থাকে, দ্বিতীয় তিন মাস অনুযায়ী ০. ৮৬
শতাংশ পূরণ করে এবং শেষ তিন মাস অনুযায়ী ০.৭৬% পূরণ করে থাকে ।
কলমি শাক ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। গর্ভাবস্থায় ভিটামিন সি খুবই
গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন। আমাদের দেশে গর্ভাবস্থায় প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ
রক্তশূন্যতায় ভুগেন। ভিটামিন সি রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রেখে রক্ত
শূন্যতা প্রতিরোধ করে। আবার ভিটামিন সি গর্ভাবস্থায় প্রি একলামশিয়ার মত জটিল
রোগ থেকে রক্ষা করে। ১০০ গ্রাম কলমি শাকে ভিটামিন সি থাকে ৫৫ মিলিগ্রাম।
আবার গর্ভাবস্থায় শিশুর যাবতীয় জন্মগত ত্রুটি সংগ্রহ থেকে রক্ষা করে
ফলিক এসিড। প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে ৫৭ মাইক্রগ্রাম ফলিক এসিড রয়েছে। যা
একজন গর্ভবতী মহিলার দৈহিক চাহিদার ১৪.২৫% পূরণ করে। কলমি শাক
রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। কলমি শাকে আয়রন রয়েছে ১.৬৯ মিলিগ্রাম। ১০০
গ্রাম কলমি শাকের জিংক এর পরিমাণ ০.১৮ মিলিগ্রাম। গর্ভকালীন ক্লান্তি ও
অবসন্নতা রোধ করতে সাহায্য করে জিংক।
কলমি শাক খেলে কি হয়
কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা গর্ভাবস্থায় খুব
গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন। পেটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে এবং
বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পেটে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক
রেখে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে এই শাক
অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। পেটের বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ
করে। কলমি শাক নিয়মিত খেলে পনিদ্রা দূর করা যায়।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা
পোকামাকড় বা মৌমাছি কামড়ালে কলমি শাকের পাতা ডগা সহ রস করে লাগালে যন্ত্রণা
কমে যায়। আবার যদি শিশুদের মায়ের দুধ কম হয় তবে এই শাক খেলে মায়ের দুধ
বৃদ্ধি পায়। হাত-পা বা শরীরে জ্বালাপোড়া করলে কলমি শাকের রসের সাথে দুধ
মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
কলমি লতার উপকারিতা
কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় আছে। কলমি শাকে আছে অনেক অনেক
পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও এটি কাজ করে এবং এর মাঝে
শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া এই থাকে অনেক বেশি
পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে এই শাক অ্যানিমিয়ার রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। কলমি
শাক বসন্তের প্রতিশোধক হিসেবেও কাজ অনেক কাজ করে।
কলমি শাকের বৈশিষ্ট্য
কলমি এক প্রকারের অর্ধ জলজ উদ্ভিদ যা আমরা শাক হিসেবেই খেয়ে থাকি। এতে রয়েছে
প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আঁশ, হিমোগ্লোবিন সহ আরো বিভিন্ন উপাদান। কলমি শাকের
প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে ১৯ কিলো ক্যালরি শক্তি। যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের
দৈনিক শক্তির সৈন্য০.৭৬% অভাব পূরণ করে থাকে। এবং একজন প্রাপ্ত মহিলার দৈনিক
শক্তির সৈন্য দশমিক ০.৮৩% অভাব পূরণ করে থাকে । তাছাড়া কলমি শাকের রয়েছে
শর্করা ৩.১ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ২.১ গ্রাম, আমি ২ .৬ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ গ্রাম,
সোডিয়াম ১১৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩১২ মিলিগ্রাম,
জিংক ০.১৮ মিলিগ্রাম।
কলমি শাকের রেসিপি
কলমি শাক রান্নার অনেক সহজ ও সুস্বাদু রেসিপি আছে, যেমন কলমি শাক ভাজি (রসুন
ও পাঁচফোড়ন দিয়ে), চচ্চড়ি (আলু, বেগুন ও অন্যান্য সবজি দিয়ে) অথবা
চিংড়ি/শুঁটকি দিয়েও রান্না করা যায়, যা ভাত বা রুটির সাথে দারুণ লাগে। এর
জন্য শাক ভালোভাবে ধুয়ে কেটে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, হলুদ, লবণ দিয়ে
ভাজি বা চচ্চড়ি তৈরি করা হয়।
কলমি শাক ভাজি (সহজ রেসিপি)
উপকরণঃ
১। ১ আটি কলমি শাক মোটা ডাটা ফেলে শুধু পাতা ও নরম অংশ নিতে
হবে।
২। সরিষার তৈল ২ টেবিল চামচ
৩। পাঁচফোড়ন ১/২ চা চামচ
৪। শুকনো মরিচ ১-২ টি
৫। রসুন কুচি ৩-৪ কোয়া
৬ । পেঁয়াজ কুচি ১ টি
৭ । কাঁচা মরিচ কুচি স্বাদ মতো
৮ । লবণ স্বাদমতো
প্রণালীঃ
১। কলমি শাকের শক্ত ডাটা ফেলে, পাতা ও নরম অংশ ভালো করে ধুয়ে কুচি করে
নিন।
২। কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।
৩। ফোড়ন ফুটতে শুরু করলে রসুন কুচি ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালী হওয়া
পর্যন্ত ভাজুন।
৪। এবার কুচি করা শাক, কাঁচামরিচ ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মাঝারি আছে
রান্না করুন। ৭ থেকে জল বেরোবে, সেই জলে সেদ্ধ হবে।
৫। জল শুকিয়ে সাত নরম হয়ে এলে নামে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।
কলমি শাক চচচড়ি ( ডাল/ মাছ/ মাংস ছাড়া)
উপকরণঃ
১। কলমি শাক ১ আঁটি কুচি করা
২। আলু একটি ছোট করে কাটা
৩। বেগুন ১ থেকে ২ টি ছোট করে কাটা
৪। পেঁয়াজ একটি কুচি করা
৫। রসুন দুই গোয়া থেঁতো করা
৬। কাঁচামরিচ দুই থেকে তিনটি মাঝখান দিয়ে (চেরা )
৭। হলুদ গুঁড়া এক চা চামচ
৮। পাঁচফোড়ন এক থেকে দুই চা চামচ
৯ । সরষের তেল এবং লবণ স্বাদমতো
প্রণালীঃ
১ । কড়াইতে তেল গরম করে আলু ও বেগুন ভেজে তুলে নিন ।
২ । একই তেলে পাঁচফোড়ন ও কাঁচা মরিচ ফোড়ন দিন
৩ । পেঁয়াজ ও থেঁতো করার ওষুধ দিয়ে ভাজুন
৪ । হলুদ ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে কুচি করা কলমি শাক ও ভাজা আলু বেগুন দিয়ে
দিন
৫ । অল্প জল ছিটিয়ে ঢেকে রান্না করুন যতক্ষণ না শাক ও সবজি সিদ্ধ হয় এবং জল
শুকিয়ে মাখামাখা হয়ে আসে।
আরো পড়ুনঃ বিড়াল কামড়ালে কয়টি ভ্যাকসিন দিতে হয়
শেষ কথা
পরিশেষে, কলমি শাককে মানুষ কদর না করলেও এর উপকারিতা রয়েছে অনেক। আর এই
আর্টিকেল থেকে আমরা সহজে বুঝতে পারলাম কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা
সম্পর্কে। এর পাশাপাশি এই আর্টিকেল আলোচনা করা হয়েছে কলমি শাকে কি ভিটামিন
রয়েছে, কলমি শাক খেলে এলার্জি হয় কিনা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে।
আশা করি উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন এবং এই আর্টিকেল পড়ে
উপকৃত হয়েছেন। যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি বেশি বেশি শেয়ার
করে দিন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন, ভালো
থাকুন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url