মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায়
অতিরিক্ত ওজন কেবল দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার কারণই নয়,বরং তা স্বাস্থ্য ঝুকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন মানেই বাড়তি ঝামেলা, সেই সাথে থাকে বিভিন্ন রোগে ভোগার আশঙ্কা।
একদল গবেষক গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে,শারীরিকভাবে ফিট মেয়েদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের মেয়েদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে ৬৬ শতাংশ বেশি। এতে শারীরিক সমস্যা যেমন দেখা দেয়। তেমনি মানসিক চাপ ও হরমোন জনিত নানান জটিলতা তৈরি হয়।
পোস্ট সূচীপত্রঃ মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায়
- ঘরোয়া উপায়ে মেয়েদের ওজন কমানোর কার্যকর পদ্ধতি
- পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের গুরুত
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস পরিকল্পনা
- কিভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তুলবেন
- পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা
- মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
- গ্রিন টি/ ব্লাক কফি পান করা
- চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
- পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন
- শেষ কথা
ঘরোয়া উপায়ে মেয়েদের ওজন কমানোর কার্যকর পদ্ধতি
আজকে রাতে আপনাদের জানাতে চলেছি কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে মেয়েদের ওজন দ্রুত কমানো
সম্ভব এই সম্পর্কে। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।মেয়েরা সাধারণত
পরিশ্রমী হয়ে থাকে। মেয়েরা তাদের সংসারের নানা ব্যস্ততার মধ্যে, নিজেকে সময়
দিয়ে উঠতে পারে না। তবে প্রকৃতপক্ষে আগেকার মেয়েদের তুলনায় বর্তমানের
মেয়েরা ঘরের কাজের পাশাপাশি বাইরের কাজও করছে এবং নিজের শরীরের যত্ন ঠিকঠাক
করে নিচ্ছে।
ওজন কমানোর জন্য ঘরোয়া বিষয়গুলো সাধারণত জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস ও
ব্যায়াম এর উপর নির্ভরশীল। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট না করে
স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পদ্ধতি অনুসরণ করা ভালো।
ঘরোয়া উপায়ে মেয়েদের ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, পর্যাপ্ত জল পান,
নিয়মিত ব্যায়াম ও ভাল ঘুমের সমন্বয় প্রয়োজন। প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার
খাওয়া, চিনি মুক্ত খাবার খাওয়া, প্রতিদিন ৯০০০ কদম হাটা।৭-৮ ঘন্টা
ঘুমানো এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও কার্যকর ভাবে ওজন কমানো
সম্ভব।
মেয়েদের ওজন কমানোর কার্যকর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলঃ
১। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন (যেমন-ডিম, ডাল,মাছ, মাংস,দই) থাকলে পেট অনেকক্ষণ
ভরা থাকে, যা অতিরিক্ত খাবার রোধ করে এবং পেশী গঠনের সাহায্য করে।
২। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং বোটা শস্যজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে।
এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং পেট ভর্তি রাখে, ফলে ক্যালরি গ্রহণ কমে যায়।
৩। চিনি যুক্ত খাবার, মিষ্টি পানীয় এবং ফাস্টফুড ওজন বৃদ্ধি ও নানা রোগের
প্রধান কারণ। এগুলো বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুকুন।
৪। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান। এটি হজম প্রক্রিয়া ঠিক
রাখে।
৫। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। এটি মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া
বাড়াতে সাহায্য করে এবং অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধার ভুল মনে হয়।
৬। খাবারে ৩০ মিনিট আগে একগ্লাস জল পান করলে পেট কিছুটা ভরে যায় এবং খাবারের
পরিমাণ কমে।
৭। সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম জলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া
যায়।
৮। সবুজ চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।
৯। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য । ঘুম কম হলে শরীর কেমন হরমোন তৈরি
হয় যা ক্ষুদা বাড়িয়ে দেয়।
১০। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাটা একটি সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের গুরুত্ব
পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত
জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে যারা পর্যাপ্ত ঘুমান না, তাদের মধ্যে ওজন বাড়ার
সম্ভাবনা অনেক বেশি। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে
এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।তাই, প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা
ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
ঘুমের ঘাটতি শরীরের কটিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।, যাও ওজন
বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ঘুম ভালো হলে মন শান্ত থাকে এবং খাদ্যভাস ও
নিয়ন্ত্রণে থাকে। এবং যাদের ঘুমের সমস্যা হয় তারা এই সমস্যা দূর করতে তালবিনা
খেতে পারেন। কারণ তালবিনা না মানসিক শান্তি ও ঘুমের জন্য দারুন উপকারি।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পরিকল্পনা
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু আমাদের
জানতে হবে আমাদের শরীরের জন্য কোন খাবারটি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যকর।চলুন আজকে
আমরা এই পর্বে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ভ্যাস পরিকল্পনা সম্পর্কে জানব। স্বার্থপর
খাদ্যবাস পরিকল্পনায় ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম ও মাছকে প্রাধান্য
দিন।
যা আঁশ, প্রোটিন ও ভিটামিন সরবরাহ করে: প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং
প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন, যা হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরী।
একটি সুষম প্লেট তৈরি করুন যেখানে অর্ধেক ফল ও সবজি থাকবে, এবং প্রোটিন ও শস্য
উৎসও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেমন- ওটস, ব্রাউন রাইস,ডিম, চিকেন,ও ডাল।
একটি নমুনা খাদ্য পরিকল্পনাঃ
১ ।সকালের নাস্তাঃ ওটস/ ডালিয়া/লাল আটার রুটি, সাথে ফল (কলা/ ভেরি) ও বাদাম।
সিদ্ধ ডিম, গ্রীক দই বা পনির। পানীয় জল, গ্রিন টি বা ভেষজ চা।
২। দুপুরের খাবারঃ লাল চালের ভাত বা রুটি, সাথে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি (পালং
শাক, ব্রকলি) ও ডাল। মাছ/ মুরগি/ ডিম/ পনির (প্রোটিনের উৎস) । সালাদ,(শসা,
টমেটো) ।
৩। বিকালের নাস্তাঃ বাদাম, ফল (আপেল) হুমাস ও সবজি, অথবা সেদ্ধ ডিম।
৪। রাতের খাবারঃ হালকা খাবার, সবজি ও ডাল দিয়ে সুপ, বা হালকা সবজি
ভাজি/তরকারি, রুটি বা অল্প ভাত।
কিভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলবেন
স্বাস্থ্যকর খাদ্য ভাস গড়ে তুলতে প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য,ডাল ও
প্রোটিন খান, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন,
নিয়মিত ব্যায়াম করুন, চিনি ও লবণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং মন দিয়ে খাবার খাওয়ার
অভ্যাস করুন। ডায়াবেটিস, হৃদ রোগের মত দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য
করবে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া: প্রোটিন খিদে কমাতে সাহায্য করবে এবং এটি বেশির
গঠনে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, মুরগি,ডাল,চিয়া সিড,দই, ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ
খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। আধুনিক সকল গবেষণা ও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে
ওজন কমাতে ব্যাপক জনপ্রিয় চিড়া সিড।
চিয়া সিড এর জনপ্রিয়তার জন্য বাজারে আজকাল অনেক ভেজাল ও ধুলাবালি যুক্ত চিয়া
সিট পাওয়া যায়। ওজন কমাতে অবশ্যই ভালো মানের চিয়া সিড বেছে নেওয়া জরুরী।ফিট
ফর লাইফ আপনাকে প্রিমিয়াম মানের চিয়া সিড এর নিশ্চয়তা দিচ্ছে। যারা ওজন
কমাতে চান তারা অবশ্যই চিয়া সিট ব্যবহার করতে পারেন।
অভ্যাস গড়ে তোলার কৌশলঃ
১। ধীরে ধীরে শুরু করুনঃ কঠোর ডায়েটের পরিবর্তে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন
আনুন, যেমন চিনি কমানো বা ব্যায়াম যোগ করা।
২। সচেতন ভাবে খানঃ খাবার উপভোগ করুন, ধীরে ধীরে খান এবং কখন পেট ভরেছে তা
বুঝুন । খাবার সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের সামনে কম থাকুন।
৩। পুষ্টির উৎসঃ আঁশ যুক্ত খাবার ( শাক,ডাল, গোটা শস্য) খান, যা হজম পেট ভরার
জন্য ভালো।
৪। ব্যায়ামঃ প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাটা, যোগ ব্যায়াম বা সাইক্লিং করুন।
৫। পর্যাপ্ত ঘুম ও চাপ নিয়ন্ত্রণঃ ভালো ঘুম এবং মানুষের চাপ কমানোর অভ্যাস ও
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের অংশ ।
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা
আমরা অনেক মেয়েরাই আছি যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে চায় না। এবং
বিভিন্ন কাজের মধ্যে পড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার সময়ও হয়ে ওঠে না।
যার কারনে আমরা মেয়েরা ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়ে যাই। ডিহাইড্রেশন শুধু শরীরের
জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি আমারও আপনার ওজন কমানোর প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত করবে।
আর মেয়েদের সবচেয়ে ভালো উপায় ওজন কমানোর জন্য খাওয়ার আগে পানি পান করা। তাই
চেষ্টা করুন সব সময় কাছে একটি পানির বোতল রাখার এবং সময়মতো পানি পান করার।
পানি আমাদের দেহের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে, এবং শরীরের অতিরিক্ত
ক্যালরির ধরাতে সাহায্য করবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করার সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য, যার শরীরের তাপমাত্রা
নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহন, বর্জ্য নিষ্কাশন এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সাধারণত, প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ২-৩ লিটার বা ৮-১০ গ্লাস (ওজন ও কর্মদক্ষতা
অনুযায়ী পরিবর্তিত) জল প্রয়োজন, যা অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও আসে, এবং ধীরে
ধীরে ও নিয়ম মেনে পান করা উচিত। বিশেষত খাবারের মাঝে বিরতি দিয়ে।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক
স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত
ঘুমানো, সামাজিক যোগাযোগ রাখা এবং চাপ কমাতে সব পূরণ করার জরুরী। যা শরীর ও
মনকে সুস্থ রাখে এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করে। প্রয়োজনে
পেশাদার সাহায্য নেওয়া উচিত।ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেক মেয়েদের মানসিক চাপ বা
স্ট্রেস বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর বিভিন্ন বাধা মেয়েদের হরমোনের বৃদ্ধি
ঘটাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা হলো সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন যাপনের অপরিহার্য অংশ,
যা ওজন নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ঋতু রোগের ঝুকি কমানো, পেশি ও
হার শক্তিশালী করা এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
নিশ্চিত করে। এর জন্য জিমে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়, বরং প্রতিদিন ১০ মিনিটের
হালকা ব্যায়াম, যেমন, হাটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, স্কোয়াট,পুশ - আপ বা
যোগব্যায়াম যথেষ্ট।
নিয়মিত ব্যায়ামের উপকারিতাঃ
১। ওজন নিয়ন্ত্রণঃ মেটাবলিজম উন্নত করে এবং চর্বি জমতে বাধা দেয় ।
২। রোগ প্রতিরোধঃ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি - কাশি ও অন্যান্য
সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
৩। হাড় ও পেশীঃ হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং পেশিকে শক্তিশালী করে, যা
অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমায়।
৪। হৃদপিণ্ডঃ হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে এবং মৃত রোগের ঝুঁকি কমায় ।
৫। মানসিক স্বাস্থ্যঃমানসিক চাপ কমায়, মন ভালো রাখে এবং মস্তিষ্কের
কার্যকারিতা বাড়ায়।
৬। দীর্ঘায়ুঃ গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর
করে দিতে পারে।
গ্রিন টি/ ব্লাক কফি পান করা
আজ কালের দ্রুতগামী জীবনযাত্রায় সকালের পানীয় হিসেবে কফি ও চা প্রচলিত হলেও,
সম্প্রতি গ্রিন টি তার স্বতন্ত্রতার কারণে মানুষের নজর কেড়েছে। সুগন্ধ, স্বাদ
এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী উপাদানের কারণে এটি কেবল মানসিক প্রশান্তি দেয়
না, বরং সকালের শক্তি বৃদ্ধিতেও কার্যকর। একজন লেখক সম্প্রতি ৩০ দিন ধরে গ্রিন
টি নিয়মিত পান করে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা দেখায় ছোট পরিবর্তনও জীবনে
বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি একটি কফি-চা হাইব্রিড হিসাবে বিবেচনা করেন। তিনি কফি ভালোবাসেন- ল্যাটে,
ক্যাপুচিনো বা হ্যাজেলনাট আইসড কফি- এবং কালো চা বা ম্যাচা ল্যাটেও আগ্রহী।
তবে গ্রিন টি কখনো তার প্রধান ক্যাফেইন উৎস ছিল না। ৩০ দিনের এই পরীক্ষার
সময়, তিনি সকালে এক কাপ গ্রিন টি এবং বিকেলে আরেকটি পান করতেন। এই অভ্যাসের
ফলে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, কফির তুলনায় তার সকালগুলো অনেক কম চাপপূর্ণ এবং
শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
কফি সকালের জন্য শক্তি যোগায়, কিন্তু অনেক সময় এটি উদ্বেগ এবং মানসিক চাপও
বাড়ায়। অন্যদিকে, গ্রিন টি এর প্রাকৃতিক ক্যাফেইন, সুগন্ধ এবং স্বাদের
সংমিশ্রণ মানসিক চাপ হ্রাস করে এবং দিন শুরুতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এনে দেয়।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন অনুযায়ী, আট আউন্স গ্রিন টিতে প্রায় ৩০–৫০
মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে কফিতে একই পরিমাণে থাকে ৮০–১০০ মিলিগ্রাম।
তাই কফি তুলনায় গ্রিন টি অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ সকালের অভিজ্ঞতা দেয়।গ্রিন
টিতে থাকা এল-থিয়ানিন, একটি প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড, মস্তিষ্কের
কার্যকারিতা উন্নত করে। এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক সতর্কতা
বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কমমাত্রার ক্যাফেইনের সঙ্গে এল-থিয়ানিন মিললে মনোযোগ,
স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। গ্রিন টি দৈনন্দিন কাজকর্মে
আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করে। কফি খাওয়ার পর যে ‘মস্তিষ্কের কুয়াশা’ অনুভূত
হত, তা গ্রিন টি খেলে কমে।
শরীরের জন্যও গ্রিন টি অত্যন্ত উপকারী। কফি অনেক সময় হজমে সমস্যা সৃষ্টি
করে, তবে গ্রিন টি পলিফেনল এবং ক্যাটেচিন সমৃদ্ধ থাকার কারণে অন্ত্রের জন্য
শান্তিদায়ক। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র্যাডিকাল নিরপেক্ষ করে,
প্রদাহ কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক।লেখক বিশেষ
করে উল্লেখ করেছেন, খালি পেটে কোনো ধরনের ক্যাফেইন পান না করার অভ্যাসও তার
পেটের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে।
গ্রিন টি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। এতে থাকা ক্যাফেইন এবং
ক্যাটেচিন শরীরের বিপাক বৃদ্ধি করে এবং ফ্যাট জারণে সাহায্য করে। বিশেষত
ইজিসিজি ফ্যাট জারণ বাড়ায়, যার ফলে শরীর ফ্যাটকে শক্তি হিসেবে আরও দক্ষভাবে
ব্যবহার করতে পারে। লেখক দিনে তিন কাপ গ্রিন টি পান করে লক্ষ্য করেছেন, এটি
সারাদিন শক্তি দেয় এবং হজমেও সহায়ক হয়েছে।
৩০ দিনের এই অভ্যাসের ফলাফল শুধুই শক্তি বা হজমে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের
স্বচ্ছতা এবং স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গ্রিন টিতে থাকা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ইজিসিজি প্রদাহ কমায়, যা ত্বককে উজ্জ্বল এবং
স্বাস্থ্যবান রাখে।গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি ব্রণজনিত প্রদাহ কমাতে এবং
ইউভি ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়ক।গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন এবং
এল-থিয়ানিনের সমন্বয় মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও বাড়ায়। এটি সতর্কতা এবং
মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, তবে কফির মতো উদ্বেগ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে না।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আলঝাইমারসহ নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের বিরুদ্ধে
সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রদান করতে পারে।লেখকের অভিজ্ঞতার আলোকে ৩০ দিনের এই
অভ্যাসের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিম্নরূপ: বিপাক বৃদ্ধি, ওজন নিয়ন্ত্রণ,
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নতি, মানসিক চাপ হ্রাস, শক্তি বৃদ্ধি, ত্বকের
স্বাস্থ্য উন্নতি, হজমে সহায়তা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুবিধা, দীর্ঘমেয়াদি
স্বাস্থ্য উন্নতি এবং প্রাকৃতিক উদ্দীপনা।
লেখক বলেন, ছোট একটি পরিবর্তন- প্রতিদিন এক বা দুই কাপ গ্রিন টি-
দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি বৃদ্ধি করতে পারে। গ্রিন টি কেবল
একটি পানীয় নয়, বরং এটি সচেতন ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ, যা ধীরে ধীরে
মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।
গ্রিন টি ও ব্ল্যাক কফি দুটোই স্বাস্থ্যকর, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং ওজন
কমাতে সহায়ক; তবে এদের মধ্যে পার্থক্য আছে: কফিতে ক্যাফেইন বেশি, যা দ্রুত
মেটাবলিজম বাড়ায়, আর গ্রিন টি-তে এল-থিয়ানিন থাকে যা মনোযোগ ও শান্তভাব আনে,
তাই সকালে কফি আর বিকেলে গ্রিন টি পান করা যেতে পারে, অথবা দুটোই পরিমিত
পরিমাণে পান করা যেতে পারে, কারণ উভয়ই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
গ্রিন টিঃ
১।উপকারিতাঃ এতে ক্যাটেচিন ও এল-থিয়ানিন থাকে যা বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়, চর্বি
কমাতে সাহায্য করে, মানসিক একাগ্রতা বাড়ায় এবং চাপ কমায়।
২।ক্যাফেইনঃ কফির তুলনায় কম ক্যাফেইন থাকে, যা একটি মৃদু ও দীর্ঘস্থায়ী
প্রভাব ফেলে।
৩।কখন পান করবেনঃ বিকেলে বা সন্ধ্যায় ভালো, ক্যাফেইনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে
রাখতে।
ব্ল্যাক কফিঃ
১।উপকারিতাঃ উচ্চ ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা দ্রুত শক্তি দেয়,
মেটাবলিজম বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২।ক্যাফেইনঃ গ্রিন টির তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি ক্যাফেইন থাকে, যা তাৎক্ষণিক
সতর্কতা ও শক্তি যোগায়।
৩।কখন পান করবেনঃ সকালে দিন শুরু করতে খুবই উপকারী, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
কোনটি ভালো?
১।ওজন কমানোর জন্যঃ দুটোই কার্যকর। কফি তাৎক্ষণিক মেটাবলিজম বাড়ায়, গ্রিন টি
দীর্ঘমেয়াদে সাহায্য করে।
২।সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যঃ দুটোই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং কোষের ক্ষতি
প্রতিরোধ করে।
সিদ্ধান্তঃ
দুটি ভিন্ন কারণে উপকারী। সকালে কফি আর বিকেলে গ্রিন টি পান করলে উভয়র সুবিধাই
পাওয়া যায়, বা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,
কারণ এগুলো স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়; এর
পরিবর্তে তাজা ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য ও বাদাম খান, চিনিযুক্ত পানীয় বর্জন করুন
এবং বাড়িতে রান্না করা খাবারকে প্রাধান্য দিন, যা আপনাকে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায়
রাখতে ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
১।চিনি এড়ানোর উপায় পানীয়ঃ কোমল পানীয়, ফলের রস, এবং মিষ্টি শরবত বাদ দিয়ে
জল পান করুন, অথবা লেবুর রস বা তাজা ফলের টুকরো মেশান।
২।জলখাবারঃ মিষ্টি বিস্কুট, চিপস, বা ক্যান্ডির বদলে বাদাম, বীজ, ফল বা দই খান।
৩।প্রধান খাবারঃ সস, স্যুপ বা রেডিমেড খাবারে লুকানো চিনি থাকে, তাই লেবেলে দেখে
নিন বা বাড়িতে রান্না করুন।
৪।মিষ্টির বিকল্পঃ ডেজার্ট হিসেবে মিষ্টি ফল, খেজুর বা অল্প পরিমাণে ডার্ক
চকলেট খান।
৫।প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানোর উপায় নিজেই রান্না করুনঃ বাইরে খাওয়ার চেয়ে
বাড়িতে রান্না করা খাবার নিরাপদ, কারণ এতে উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৬।উপকরণ পরিবর্তন করুনঃ প্রক্রিয়াজাত শস্যের (যেমন সাদা আটা) পরিবর্তে গোটা
শস্য (যেমন লাল আটা, ওটস) ব্যবহার করুন।
৭।তাজা খাবার বেছে নিনঃ প্যাকেটজাত খাবারের বদলে তাজা ফল, সবজি, মাছ, মাংস ও
ডিম খান।
৮।কৃত্রিম উপাদান বাদ দিনঃ কৃত্রিম রং, ও স্বাদযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৯।কেন এড়িয়ে চলবেনস্বাস্থ্য ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে
ওজন বাড়ে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিছু
ক্যান্সার হতে পারে।
১০।পুষ্টির অভাবঃ এই খাবারগুলোতে ক্যালোরি বেশি কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ
কম থাকে।
১১। শারীরিক প্রভাবঃ এগুলো পেটে গ্যাস, ফোলাভাব এবং শরীরে জল জমার কারণ হতে
পারে।
পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া
পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, কারণ এগুলো
ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও আঁশে ভরপুর, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগ,
স্ট্রোক, কিছু ক্যান্সার ও হজমের সমস্যা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
করে। প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও ফলমূল যেমন - গাজর, পেঁপে, পেয়ারা, কলা,
সবুজ শাক, লেবু ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পুষ্টি, ভিটামিন ও মিনারেল
দরকার। আপনার যদি চলাফেরা করা বা কাজ করার মতো শক্তি না থাকে তাহলে আপনি
সুস্থভাবে বেঁচে থাকবেন কী করে। এজন্য চাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল ও সবজি
খাওয়া।আমাদের বর্তমান প্রজন্ম বাইরের তৈলাক্ত খাবার বা জাঙ্ক ফুড খেতে বেশি
পছন্দ করে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে হবে না যে, তাজা ফল ও সবজির কি পরিমাণ দরকার
আমাদের শরীরের জন্য। অপর্যাপ্ত ফল বা সবজি খেলে অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে
পারে। আসুন জেনে নিই সেই সমস্যাগুলো সম্পর্কে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক সবজি এবং ফলমূল না খেলে আপনার শরীরে ভিটামিনের অভাব থেকে
যেতে পারে। যা পরবর্তীতে বড় ধরনের রোগ আকারে দেখা দেয়। জন হপিংস ইউনিভার্সিটির
একটি গবেষণায় বলা হয় যে, মাত্র ১১ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ভালোভাবে
বাঁচার জন্য সবজি ও ফল খান।মিনারেল বা খনিজ আসে মূলত সবজি থেকে। আমরা যদি খাদ্য
তালিকা থেকে সবজিকে এড়িয়ে চলি তাহলে শরীরে মিনারেলের ঘাটতি হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ফল ও সবজি থেকে দূরে
থাকেন তাদের শারীরিক বৃদ্ধিও কম।
বেশিরভাগ শাকসবজি খাবার হজম করতে সাহায্য করে। কারণ শক্ত আঁশযুক্ত খাবার সহজে
হজম হতে চায় না। সবজি সেই খাবারগুলোকে হজম করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিবেলার
খাদ্য তালিকায় শাকসবজি রাখা উচিত। সকালে এবং দুপুরে খাওয়ার পরে ফল খাওয়া উচিত।
সকালে নাস্তার সঙ্গে ফলের জুস খুবই উপাদেয় খাবার।
তাজা শাকসবজি এবং ফলমূল ক্যান্সারের সেল ধ্বংস করতে সহায়তা করে। কিন্তু আপনি
যখন এই শাকসবজি এবং ফলমূল থেকে দূরে থাকেন তখন আপনার শরীরে ক্যান্সারের সেল বা
কোষ বাসা বাধতে পারেশাকসবজি না খেয়ে শুধুমাত্র শক্ত আঁশ জাতীয় খাবার খেলে আপনার
ওজন বেড়ে যাবে তর তর করে। এছাড়া তৈলাক্ত খাবার বা জাঙ্ক ফুডের কারণেও ওজন
বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি করে শাকসবজি এবং ফলমূল খানতৈলাক্ত
বা জাঙ্ক ফুড আপনার রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে না। বরং বেশির ভাগ
ক্ষেত্রে এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। রক্তচাপের মাত্রা ঠিক রাখতে চাইলে শাকসবজি
এবং ফলমূল খেতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম মানে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য নিয়মিত
শরীরচর্চা করা, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ঝুঁকি কমায়, পেশী ও হাড়
শক্তিশালী করে এবং চাপ কমিয়ে ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে; এর জন্য হাঁটা, জগিং,
সাইক্লিং, সাঁতারের মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম এবং স্কোয়াট, পুশ-আপের মতো পেশী
শক্তিশালী করার ব্যায়াম সপ্তাহে ১৫০ মিনিট বা তার বেশি করা উচিত, যা সামগ্রিক
স্বাস্থ্য উন্নত করে।
আমাদের সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা কতোটা প্রয়োজন তা আমরা জানি। তবে
সঠিক নিয়ম না জেনে ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে ফলাফল উল্টো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মানে, ভালোর চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে পারে।
শরীর-মন সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে হলে আমাদের ব্যায়াম করার নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে
শুরু করতে হবে।
যেমনঃ
১।শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন নির্ধারন করুন।
২।ব্যায়াম এর শুরুতেই আপনার ওজন, বিএমআই ইত্যাদি লিখে রাখুন, কেমন উন্নতি
হচ্ছে তা প্রতিমাসে খেয়াল করুন।
৩।ভরপেট খাবার খেয়ে ব্যায়াম করা যাবে না। খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর ব্যায়াম
করুন।
৪।খুব টাইট পোশাক পরে ব্যায়াম করা ঠিক না। হালকা ঢিলেঢালা আরামদায়দ পোশাক পরে
ব্যায়াম করুন
৫।প্রথমেই ভারী ব্যায়াম করা ঠিক নয়। আগে ১০ মিনিট ওর্য়াম আপ করে নিন।
৬।ব্যায়াম করার সময় নিঃশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।কখনও খুব কষ্ট
করে নিঃশ্বাস নেবেন না।
৭।যে কোনো ধরণের শারীরিক কষ্ট বা অসস্তি হওয়া মাত্র ব্যায়াম থামিয়ে দেবেন
সকাল অথবা সন্ধা যখনই হোক প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করুন।
৮।সব বয়সের মানুষের জন্যই নির্দিষ্ট ব্যায়াম রয়েছে।
৯।প্রয়োজনে চিকিৎসক এবং প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।
১০।গর্ভবতীদের জন্য কিছু ব্যায়াম রয়েছে, এগুলো নিয়মিত করলে আপনি থাকবেন
মানসিক চাপমুক্ত এবং আপনার শরীরও থাকবে সুস্থ্।
১১।মন খারাপ নিয়ে ব্যায়াম করতে যাবেন না। প্রথমে মন ভালো করুন, আনন্দ নিয়ে
ব্যায়াম করুন।
১২।ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে আমরা যদি নিয়মিত কিছু ব্যায়াম, শরীর চর্চা বা
শারীরিক পরিশ্রম না করি।
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায়
রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সচেতন
ভাবে খাওয়া, ছোট প্লেট ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, প্রোটিন ও
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ( শাক,ফল,ডিম ) বেশি খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত ও
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও
সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরী। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে অনিয়ন্ত্রিত
খুধা কমে,যা বেশি খাওয়ার প্রবণতা রোধ করে।
যেভাবে খাবারের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করবেনঃ
১। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান এবং খাওয়ার সময় অন্য কোন কাজ (যেমন টিভি
দেখা) থেকে বিরত থাকুন।
২। ছোট প্লেট বা বাটি ব্যবহার করলে কম খাবার নিলেও পেট ভরা মনে হয়, যা
মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায়।
৩। খাবার শুরুর ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করলে ক্ষুধা কিছুটা কমে
যায়।
৪।ডিম,মাছ,ডাল,ছোলা, শাকসবজি, ফলমূল, বেশি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে
ও ক্ষুধা কম লাগে।
৫। কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, ভাজা খাবার,চিপস,কেক, পেস্ট্রি, এড়িয়ে
চলুন।
৬। সঠিক সময়ে খাবার খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে না এবং অনিয়ন্ত্রিত
খাওয়া এড়ানো যায়।
৭। শারীরিক কার্যকলাপ ও ভালো ঘুম খাবারের লোড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য
করে।
৮। আপনি যা খাচ্ছেন তাতে কত ক্যালরি আছে সে সম্পর্কে ধারণার এখন এবং
ব্যালেন্স করার চেষ্টা করুন।
শেষ কথা
আজকে আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর
ঘরোয়া উপায়। আপনারা যদি পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন আশা
করি আর্টিকেলটি পড়ে কিছুটা হলেও আপনারা উপকৃত হবেন। মেয়েদের জন্য ওজন
নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য
বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন। তাই আপনি
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম, সঠিক খাদ্যাভাস, মানুষের চাপ কমানো, নিয়মিত
ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার মাধ্যমে সহজেই ওজন কমাতে
পারেন।
আমাদের এই ব্লক পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন এবং আপনার
পরিচিতদের মাঝে যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, পাশাপাশি নিজের টাইমলাইনে
শেয়ার করে রাখতে পারেন। নিজের সুস্থতা ও নিজের পরিবারের সুস্থতার জন্য
আমাদের সাথেই থাকুন, কারণ স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন
আমরা আপনাদেরকে সে বিষয়ে সম্পর্কে সাপোর্ট দিয়ে কাজ করে যাব
ইনশাআল্লাহ।


.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url