গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়-কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা

সকালে খালি পেটে রসুন ও মধু খাওয়ার উপকারিতা

আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে সেটি সবার জন্য খুবই উপকারী। আজকের বিষয়টি হচ্ছে কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। এই শাক প্রায় সবাই খেয়ে থাকে। কিন্তু অনেকে এই শাকের গুনাগুণ সম্পর্কে জানেনা। এই কলমি শাক বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি শাক।

তাই যাদের উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে জানা নেই তাদের জন্য এই আর্টিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে এ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নিন উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে।

পেজ সূচিপত্রঃ কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা

    ভূমিকা

    অন্যান্য শাকের মত কলমি শাক সবার কাছে খুবই পরিচিত। এই কলমি শাক পানিতে কিংবা ভিজা মাটিতেও জন্মে থাকে। এই শাক সাধারণত পানির ওপর ভেসে থাকে। আর এই কলমি শাক সাধারণত ভাজি করে খাওয়া হয়। এই শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ। তবে অন্যান্য শাকের তুলনায় এই কলমি শাকের কদর খুবই কম। অনেক খাবার রয়েছে যেগুলোর তুলনায় এই কলমি শাকের উপকারিতা অনেক বেশি। এ শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং অন্যান্য উপাদান। এই ভিটামিন গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ইত্যাদি। তবে ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন সি এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।

    আরো পড়ুন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে লেবুর ব্যবহার ও ২০ টি উপকারিতা

    এছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম, লোহা যা দেহের জন্য খুবই উপকারী। এই কলমি শাকে ফাইবার রয়েছে এবং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। এই কলমি শাক বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য রবের ক্ষেত্রে এই কলমি শাক খুবই কার্যকরী। এই কলমি শাক দামে সস্তা হওয়ায় সবাই খেতে পারে। কিন্তু অনেকেই জানে না এরউপকারিতা বা গুনাগুণ সম্পর্কে। তাই উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়তে হবে।

    কলমি শাকের উপকারিতা

    প্রিয় পাঠক এ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে। তবে কলমি শাকের চাহিদা কম থাকলেও এর নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। এই কলমি শাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে যেমন: ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ইত্যাদি। আর এই ভিটামিন গুলো দেহের জন্য খুবই উপকারী। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে।

    কলমি শাক লিভার ও হার্ট ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং দাঁত ও মাড়ি মজবুত রাখতে সাহায্য করে, কারণ এতে প্রচুর ভিটামিন সি, আয়রন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়ক। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং গর্ভাবস্থায় মায়ের দুধ বৃদ্ধিতেও উপকারী।

    ১।যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে তারা কলমি শাক খেতে পারেন। কারণ এই কলমি শাক লিভার ভালো রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে

    ২।এই কলমি শাক বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন সি রয়েছে অনেক। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যার কারণে হৃদরোগ দূরে থাকে।

    ৩।যেহেতু কলমি শাক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, সেহেতু এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য কর

    ৪।শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য কলমি শাক খুবই কার্যকরী। কারণ কলমি শাকে রয়েছে ক্যালসিয়াম।

    ৫।আবার চোখকে ভালো রাখতে ভিটামিন এ খুবই প্রয়োজন। তাই চোখকে ভালো রাখতে কলমি শাক খেতে পারেন। কারণ কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন এ।

    ৬।যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তারা এই কলমি শাক খেতে পারেন। কলমি শাক খাওয়ার ফলে এই সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    ৭।এই কলমি শাকে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং আঁশের পরিমাণ একটু বেশি থাকে। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে।

    ৮।যেহেতু কলমি শাকে ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি রয়েছে, সেহেতু এই শাক ত্বক ও চুলকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    ৯।এই কলমি শাকে রয়েছে লোহা, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

    ১০।দাঁত ও দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে সাহায্য করে এই কলমি শাক। কারণ কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, যা দাঁত ও মাড়ি মজবুত করার ক্ষেত খুবই কার্যকরী।

    উপরোক্ত উপকারিতা গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় এই কলমি শাক খেলে। আর কলমি শাকের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

    কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক

    কলমি শাকের উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। তবে একটা জিনিসের ভালো এবং মন্দ উভয় দিক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই কলমি শাক খাওয়ার সময় এই দিকগুলো বিবেচনায় রাখা উচিত। তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তারা কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। আবার কলমি শাক খেলে অনেকেরই এলার্জির সমস্যা উদ্ভব হতে পারে। তাই যদি এই শাক খাওয়ার পর কোন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

    কলমি শাক সাধারণত উপকারী হলেও, এটি দূষিত জল থেকে জন্মালে বিষাক্ত ভারী ধাতু (যেমন ক্যাডমিয়াম, সীসা, পারদ) শোষণ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষত যদি ভালোভাবে পরিষ্কার বা রান্না করা না হয়; এছাড়া, অপরিষ্কার কলমি শাকে পরজীবী সংক্রমণ বা ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিরাপদ উৎস থেকে সংগ্রহ ও সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা জরুরি।

    আবার অতিরিক্ত কলমি শাক খেলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ডায়রিয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এই কলমি শাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হলেও এই শাকে রয়েছে ফাইবার যা অনেক সময় অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। কলমি শাক উপকারী শাক হলেও প্রেশার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুব একটা ভালো কাজ করে না।

    আরো পড়ুন সকালে খালি পেটে রসুন ও মধু খাওয়ার উপকারিতা

    অর্থাৎ এই শাক যদি অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া হয় তাহলে প্রেসার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে শাক খাওয়ার ফলে যদি কোন সমস্যা তৈরি হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং কতটুকু খাওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

    কলমি শাক খেলে প্রেসার বাড়ে না কমে

    কলমি শাক খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় এই বিষয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এই কলমি শাকের ওপর মানুষের তেমন কোন গুরুত্ব নেই। এই কলমি শাকের গুনাগুণ সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এই কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ইত্যাদি। এছাড়াও এই কলমি শাকে বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে কলমি শাক খেলে প্রেসার বাড়ে না কমে এই বিষয়ে। এই কলমি শাক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।

    তবে নিয়ম করে কলমি শাক খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এই কলমি শাকে আরও বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে যেগুলো প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও এই কলমি শাক বিভিন্ন ধরনের রোগের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। সুতরাং কলমি শাক খেলে প্রেসার বাড়ে না কমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

    কলমি শাকে কি ভিটামিন আছে

    কলমি শাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে যা এই অংশে আলোচনা করা হবে। কলমি শাকে কি ভিটামিন আছে এই বিষয়ে জানার জন্য, পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য এই আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ুন। এই কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ভিটামিন সি। কলমি শাক একটি আঁশযুক্ত শাক। এই কলমি শাক সাধারণত ভাজি করে খাওয়া হয়।

    এছাড়া এই শাকে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, লৌহ, পটাশিয়াম ইত্যাদি। এই উপাদান গুলো দেহের জন্য খুবই উপকারী। ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই কলমি শাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন কলমি শাকে কি কি ভিটামিন আছে।

    কলমি শাক খেলে কি হয়

    কলমি শাক খেলে বিভিন্ন ধরনের উপকার মিলে। কলমি শাক কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। এছাড়াও কলমি শাক খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কলমি শাকে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে থাকে।বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও খুবই কার্যকরী এই শাক।

    আবার এমন অনেক রোগী রয়েছে যারা রক্তস্বল্পতায় ভোগে থাকেন। রক্তস্বল্পতা রোগীদের ক্ষেত্রে এই কলমি শাক খুবই উপকারী। কারণ এই কলমি শাকে রয়েছে লৌহ। এছাড়াও কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    অনেকেরই মাথায় খুশকি দেখা যায়। এই মাথার খুশকি দূর করার জন্য কলমি শাক খুবই কার্যকরী। যেহেতু কলমি শাকে আঁশ রয়েছে সেহেতু এটি খাদ্য হজম ও বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকে। উপরোক্ত উপকারিতা গুলো ছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের উপকার হয় এই কলমি শাক খেলে।

    কলমি শাক সাধারণত উপকারী হলেও, এটি দূষিত জল থেকে জন্মালে বিষাক্ত ভারী ধাতু (যেমন ক্যাডমিয়াম, সীসা, পারদ) শোষণ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষত যদি ভালোভাবে পরিষ্কার বা রান্না করা না হয়; এছাড়া, অপরিষ্কার কলমি শাকে পরজীবী সংক্রমণ বা ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিরাপদ উৎস থেকে সংগ্রহ ও সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা জরুরি

    উপরের আলোচনার মাধ্যমে আমরা জেনেছি কলমি শাকের সমস্ত গুনাগুণ সম্পর্কে। কলমি শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ এবং বিভিন্ন ধরনের উপাদান যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু অনেকেই এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা নেই বলে এই কলমি শাককে অবহেলা করে থাকে। এছাড়াও এই শাক বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কলমি শাক দুর্বলতাকে সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে। তবে গর্ভকালীন সময়ে কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

    কলমি শাকে কি এলার্জি আছে

    প্রিয় পাঠক উপরের আলোচনার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্ক। এবার আলোচনার বিষয়টি একটু ভিন্ন ধরনের। তাই এবার জানতে হবে কলমি শাকে কোন এলার্জি আছে কিনা সেই সম্পর্কে। এলার্জির বিষয়টি আসলে মানুষ ভেদে হয়ে থাকে। কারণ এলার্জি সবার হয় না। তবে কোন খাবারে এলার্জি রয়েছে সেই বিষয়ে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।

    সাধারণত কলমি শাকে অ্যালার্জির ঝুঁকি খুবই কম, এটি একটি পুষ্টিকর ও উপকারী শাক, তবে যেকোনো খাবারের মতো ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা বা বিরল ক্ষেত্রে কারও কারও অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন ত্বকে চাকা, চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট; তাই নতুন করে খেলে অল্প পরিমাণে শুরু করা ভালো, যদি কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তবে খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

    যদি এলার্জির ভয় থাকে তাহলে অধিক পরিমাণ না খেয়ে আগে অল্প পরিমাণ খেয়ে দেখুন। যদি এলার্জির সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে কলমি শাকে আপনার অ্যালার্জি রয়েছে, আর যদি না হয় তাহলে কলমি শাকে অ্যালার্জি নেই। আর যদি এলার্জির সমস্যা থাকে তাহলে কলমি শাক খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

    কলমি শাকের রেসিপি

    কলমি শাক রান্নার অনেক সহজ ও সুস্বাদু রেসিপি আছে, যেমন কলমি শাক ভাজি (রসুন ও পাঁচফোড়ন দিয়ে), চচ্চড়ি (আলু, বেগুন ও অন্যান্য সবজি দিয়ে) অথবা চিংড়ি/শুঁটকি দিয়েও রান্না করা যায়, যা ভাত বা রুটির সাথে দারুণ লাগে। এর জন্য শাক ভালোভাবে ধুয়ে কেটে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, হলুদ, লবণ দিয়ে ভাজি বা চচ্চড়ি তৈরি করা হয়।
    কলমি শাক ভাজি (সহজ রেসিপি)
    উপকরণঃ
    ১।কলমি শাকঃ ১ আঁটি (মোটা ডাঁটা ফেলে শুধু পাতা ও নরম অংশ)
    ২।সর্ষের তেলঃ ২ টেবিল চামচ
    ৩।পাঁচফোড়নঃ ১/২ চা চামচ
    ৪।শুকনো লঙ্কাঃ ১-২টি (ভাঙা)
    ৫।রসুন কুচিঃ ৩-৪ কোয়া
    ৬।পেঁয়াজ কুচিঃ ১টি মাঝার
    ৭।কাঁচা মরিচ কুচিঃ স্বাদমতো৮।লবণঃ স্বাদমতো
    প্রণালীঃ
    শাক প্রস্তুতঃ কলমি শাকের শক্ত ডাঁটা ফেলে, পাতা ও নরম অংশ ভালো করে ধুয়ে কুচি করে নিন।
    ফোড়নঃ কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা ফোঁড়ন দিন।
    ভাজাঃ ফোঁড়ন ফুটতে শুরু করলে রসুন কুচি ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
    শাক রান্নাঃ এবার কুচি করা শাক, কাঁচা মরিচ ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। শাক থেকে জল বেরোবে, সেই জলেই সেদ্ধ হবে।
    জল শুকানোঃ জল শুকিয়ে শাক নরম হয়ে এলে নামিয়ে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।
    কলমি শাক চচ্চড়ি (ডাল/মাছ/মাংস ছাড়া)
    উপকরণঃ
    ১।কলমি শাকঃ ১ আঁটি (কুচি করা)
    ২।আলুঃ ১টি (ছোট কিউব করে কাটা)
    ৩।বেগুনঃ ১/২টি (কিউব করে কাটা)
    ৪।পেঁয়াজঃ ১টি (কুচি)
    ৫।রসুনঃ ২ কোয়া (থেঁতো করা)
    ৬।কাঁচা মরিচঃ ২-৩টি (চেরা)
    ৭।হলুদ গুঁড়াঃ ১/২ চা চামচ
    ৮।পাঁচফোড়নঃ ১/২ চা চামচ
    ৯।সর্ষের তেল, লবণ: স্বাদমতো
    প্রণালীঃ।
    ১।কড়াইতে তেল গরম করে আলু ও বেগুন ভেজে তুলে নিন।
    ২।একই তেলে পাঁচফোড়ন ও কাঁচা মরিচ ফোঁড়ন দিন।
    ৩।পেঁয়াজ ও থেঁতো করা রসুন দিয়ে ভাজুন।
    ৪।হলুদ ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে কুচি করা কলমি শাক ও ভাজা আলু-বেগুন দিয়ে দিন।
    ৫।অল্প জল ছিটিয়ে ঢেকে রান্না করুন যতক্ষণ না শাক ও সবজি সেদ্ধ হয় এবং জল শুকিয়ে মাখা মাখা হয়ে আসে। 

    কলমি শাকের বৈশিষ্ট্য

    আরো করুন বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ২০ টি  ঘরোয়া উপায় 

    কলমি শাক যেমন বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর তেমনি এটি দেহের জন্য খুবই উপকারী। এই কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি। এর পাশাপাশি রয়েছে ক্যালসিয়াম। এই ক্যালসিয়াম থাকার কারণে হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও খুবই ভূমিকা রাখে।

    এছাড়াও যদি কলমি শাক নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এছাড়াও এই কলমি শাক চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য গুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই কলমি শাকে, যা উপরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

    কলমি শাকের ইংরেজি নাম 

    কলমি শাককে ইংরেজিতে সাধারণত Water Spinach বলা হয়, তবে এটি River Spinach, Water Morning Glory, Swamp Cabbage, বা Kangkong (বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়) নামেও পরিচিত। এটি একটি জনপ্রিয় শাক যা বিভিন্ন নামে পরিচিত হলেও, Water Spinach বা Kangkong সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়.

    শেষ কথা

    পরিশেষে, কলমি শাককে মানুষ কদর না করলেও এর উপকারিতা রয়েছে অনেক। আর এই আর্টিকেল থেকে আমরা সহজে বুঝতে পারলাম কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। এর পাশাপাশি এই আর্টিকেল আলোচনা করা হয়েছে কলমি শাকে কি ভিটামিন রয়েছে, কলমি শাক খেলে এলার্জি হয় কিনা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে।

    আশা করি উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন এবং এই আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয়েছেন। যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি বেশি বেশি শেয়ার করে দিন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url