ফুলকপি চাষের উপযুক্ত সময় এবং ফুলকপি চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য
আরো পড়ুনঃ টমেটোর পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা
ফুলকপি ব্রাশিকা অলেরাসিয়া প্রজাতির সবজিগুলোর একটি। এটি একটি বার্ষিক ফসল যা বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। ফুলকপিতে যথেষ্ট পরিমাণে সালফার, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ও খনিজ উপাদান রয়েছে।
ফুলকপি শীতের এক প্রধান জনপ্রিয় সবজি হল ফুলকপি। তরকারি বা কারি ও স্যুপ তৈরি করে, বড়া ভেজে ফুলকপি খাওয়া হয়। তবে শীতের সবজি হলেও ফুলকপি এখন গ্রীষ্মকালেও উৎপাদিত হচ্ছে। আসুন জেনে নেয়া যাক ফুলকপির চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য।
পেজ সূচিপত্র সময় এবং ফুলকপির চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য
- ফুলকপি চাষের উপযুক্ত সময়
- ফুলকপি চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য
- জাত পরিচিতি
- ফুলকপির চারা তৈরি
- ফুলকপির চারা রোপন
- ফুলকপি চাষের জমিতে সারের মাত্রা
- ফুলকপি চাষাবাদ পদ্ধতিতে সার পদ্ধতি
- শেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
- জলবায়ু ও মাটি
- বিশেষ পরিচর্যা
- পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা
- রোগ ব্যবস্থাপনা
- ফসল তোলা ও ফলন
- শেষ কথা
ফুলকপি চাষের উপযুক্ত সময়
শীতকালে আমাদের সকলের পছন্দের সবজি হচ্ছে ফুলকপি। ফুলকপি আমরা ছোট বড় সবাই
খেতে খুব পছন্দ করি। আমাদের দেশের কৃষকেরা খুব যত্ন সহকারে ফুলকপি চাষ করে থাকে।
চলুন জেনে নেয়া যাক ফুলকপির চাষের উপযুক্ত সময়।
ফুলকপি চাষের জন্য ভাদ্র - আশ্বিন (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) মাসে বীজ বপন
করতে হয়, এবং কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) মাসে জমিতে
চারা রোপণ করতে হয়। আগাম জাতের ফুলকপি চাষের জন্য জুন থেকে জুলাই মাসেও বীজ বপন
করা যায়।
ফুলকপি চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য
ফুলকপি চাষের জন্য সুনিকাশযুক্ত উর্বর দোয়াশ ও এটেল মাটি সবচেয়ে ভালো । ফুলকপির
জন্য ঠান্ডা ও আদ্র জলবায়ু ভালো। উঁচু জমি যেখানে পানি জমে না এবং সব সময় রোদ
পায় এরূপ জায়গা ফুলকপি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। ফুলকপি চাষের মাটিতে যত
বেশি জৈব পদার্থ থাকবে ফলন ততই ভালো হবে। মাটির অম্লমান বা পি এইচ ৬.০-৬.৫ ফুলকপি
চাষের জন্য উত্তম।
জাত পরিচিতি
এদেশে এখন ফুলকপির ৫০ টিরও বেশি জাত পাওয়া যাচ্ছে। শীতকালেই আগাম, মধ্যম ও নাবি
মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি আবাদ করা যায়। এছাড়া গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী জাত
ও আছে।
চারা তৈরি
ফুলকপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার ১ মিটার পাশে ও
লম্বা ৩ মিটার হওয়া উচিত। সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে ঝুরঝুরা করে
বীজ তলা তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপনের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি
বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টি এস পি, ও 100 গ্রাম এমওপি সার ভালোভাবে
মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিক মত না পারলে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম
পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভালো।
চারা রোপন
বীজ গজানোর ১০ থেকে ১২ দিন পর গজানো চারা দ্বিতীয় বীজ তলায় স্থানান্তর করতে
হয়। চাড়াই ৫ থেকে ৬টি পাতা হলেই তা রোপণের উপযুক্ত হয়। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ দিন
বয়সের চারা রোপন করা হয়। শাড়ি থেকে শাড়ির দূরত্ব দেয়া লাগে ৬০ সেন্টিমিটার।
বা দুই ফুট এবং প্রতি সারিতে চারা থেকে চারা দূরত্ব দিতে হবে ৪৫ সেন্টিমিটার বা
দেড় ফুট। যারা রোপনের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন শিকোর মুচড়ে বা বেঁকে না যায়।
এতে চারার মাটিতে প্রতিষ্ঠা পেতে দেরি হয় এবং বৃদ্ধি কমে যায়।
ফুলকপি চাষের জমিতে সারের মাত্রা
আরে নাম /সারের পরিমাণ/ প্রতি শতকে /প্রতি হেক্টরেঃ
ইউরিয়া ১.০-১.২ কেজি ২৫০-৩০০ কেজি
টি এস পি ০.৬-০.৮ কেজি ১৫০-২০০ কেজি
এমওপি ০.৮-১.০ কেজি ২০০-২৫০ কেজি
বোরাক্স ২৮-৪০ গ্রাম ৭.০-১০.০ কেজি
গোবর ৬০-৮০ কেজি ১৫-২০ টন
ফুলকপি চাষাবাদ পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ পদ্ধতি
জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার, পুরো টিএসপি, অর্ধেক এমওপি, এবং বরণ সার প্রয়োগ
করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর সার চারা রোপনের এক সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মাটির
সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর চারা রোপন করে শেষ দিতে হবে। ইউরিয়া এবং বাকি
অর্ধেক এমওপি ও বোরুন সার তিন কি সি তে প্রয়োগ করতে হবে।
প্রথম কিস্তির সার দিতে হবে সারা রোপনের ৮ থেকে ১০ দিন পর। দ্বিতীয় কিস্তির সার
দিতে হবে চারা রোপনের ৩০ দিন পর। এবং শেষ কিস্তির সার দিতে হবে ৫০ দিন পর। তবে
পুরো বোরাকস বা বোরন সার জমি তৈরির সময় দিয়ে দিলেও অসুবিধা নেই। আর শেষ সময়
দিতে না পারলে পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি ও সার দেওয়ার সময় প্রতি ১০
লিটার পানিতে ১০ থেকে ১৫ গ্রাম বরিক্স পাউডার ভুলে পাতায় স্প্রে করে দেয়া যায়।
তবে সকালে শিশির ভেজা পাতায় যেন দানা সার না পরে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ফুলকপির জমিতে শেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
ছাড় দেয়ার পরপরই সেচ দিতে হবে। এছাড়া জমি শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে। জমিতে
পানি বেশি সময় ধরে যেন জমে না থাকে সেটাও খেয়াল করতে হবে। সার দেওয়ার আগে
মাটির আসতর ভেঙে দিয়ে নীলারি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।
জলবায়ু ও মাটি
ঠান্ডা ও আদ্র জলবায়ু ফুলকপি চাষের জন্য ভালো। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে
এমন ধরনের সব মাটিতে ফুলকপি ভালো হয়।
ফুলকপির জমিতে বিশেষ পরিচর্যা
ফুলকপি গাছের সারী মাঝে সার দেওয়ার পর শাড়ির মাঝখানের মাটি তুলে দুপাশ থেকে
গাছের গোড়ায় টেনে দেওয়া যায়। সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা হয়। তবে ফুলকপির ফুল
সাদা রাখার জন্য প্রতি অবস্থায় চারদিক থেকে পাতা টেনে বেঁধে ফুল ঢেকে দিতে হবে।
সূর্যের আলো সরাসরি ফুলে পড়লে ফুলের রং তথা ফুলকপির রং হয়ে যাবে।
পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা
এদেশে ফুলকপির সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হল মাথা খেকো লেদা পোকা। নাবি করে লাগালে
শুরুই পোকা বা ডায়মন্ড বেশি ক্ষতি করে। বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করলে পুষ্প
মঞ্জুরীকে জাপ প্রকার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য পোকার মধ্য ক্রসোডলমিয়া
লেদা পোকা, কালো ও হলুদ বিছা পোকা, ঘোড়া পোকা, ইত্যাদি মাঝে মাঝে ক্ষতি করে
থাকে।
রোগ ব্যবস্থাপনা
ফুলকপির পাতায় দাগ ও কালো পচা রোগ প্রধান সমস্যা। এছাড়া তারা ধ্বংস বা
ড্যাম্পিং অফ, ক্লাব রুট বা গদাই মূল, মজেইক, পাতার আগা পরা ইত্যাদি রোগও হয়ে
থাকে। বরণ সারের অভাবে খুলে বাদামী দাগ পরে ও কান্ড ফাঁপা হয়ে যায়।
ফসল তোলা ও ফলন
আরো পড়ুনঃ ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা ও ৫টি অপকারিতা
সাদা রং ও আটো সাটো থাকতে থাকতেই ফুলকপি তুলে ফেলা উচিত। মাথা ঢিলা ও হলদে ভাব
ধরলে দাম কমে যায়। একর প্রতিফলন 15 থেকে 25 টন, হেক্টরে ৩৫ থেকে ৬০ টন, ফুলকপি
চাষাবাদ পদ্ধতি এর বাইরে আরো কিছু জানার থাকলে আমাদের জানাতে পারেন।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি ফুলকপি চাষের
উপযুক্ত সময় এবং ফুলকপি চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য, সেচ নিষ্কাশন, জমি নির্বাচন, সার
প্রয়োগ, ইত্যাদি সম্পর্কে। আশা করি আজকের আর্টিকেলে আপনারা নিশ্চয়ই জানতে
পেরেছেন এই সকল বিষয় নিয়ে।
আজকে আর্টিকেলটি পরে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে আমাদের ওয়েবসাইটটি
ভিজিট করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আমার দেয়া তথ্য গুলি অনুসরণ করলে
অবশ্যই উপকৃত হবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url