ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা ও ৫টি অপকারিতা
ঢেঁড়সের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনি যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের ঢেঁড়সের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা এবং বেশ কিছু অপকারিতা সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জানাবো।
আরো পড়ুনঃ সরিষা চাষের উপযুক্ত সময় এবং সরিষা চাষে মাটির বৈশিষ্ট্য
সবুজ রঙের এই ছোট্ট সবজি ঢেঁড়সে রয়েছে অনেক ধরনের পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আরো অনেক উপকার করে যার ফলে ঢেঁড়সের ঔষধি গুণাবলী অংশ বলা হয়। চলুন জেনে নিন ঢেঁড়সের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
প্রেজ সূচিপত্রঃ ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা ও ৫ টি অপকারিতা
- ঢেঁড়সের ২০ উপকারিতা
- ঢেঁড়সের পাঁচটি অপকারিতা
- ঢেঁড়স গাছের বৈশিষ্ট্য
- ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ
- ওজন কমাতে ঢেঁড়সের উপকারিতা
- চুলের যত্নে ঢেঁড়সের উপকারিতা
- ত্বকের যত্নে ঢেঁড়সের উপকারিতা
- ঢেঁড়সে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান
- কাঁচা ঢেঁড়স খেলে কি হয়
- ঢেঁড়স ভেজানো পানি খেলে কি হয়
- ঢেঁড়স ভেজানো পানি তৈরির নিয়ম
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা
- ঢেঁড়স খাওয়ার নিয়ম
- ঢেঁড়স খেলে কি অ্যালর্জি
- ঢেঁড়স খেলে কি গ্যাস হয়
- ঢেঁড়স কি শীতকালীন সবজি
- ঢেঁড়সের ভাল জাত কোনটি
- ঢেঁড়স কখন চাষ করে
- প্রতি 100 গ্রাম ঢেঁড়সের কত ক্যালরি থাকে
- গর্ভাবস্থায় ড্যাড়স খাওয়ার উপকারিতা
- ঢেঁড়স খেলে কি কাশি বাড়ে
- শেষ কথা
ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা
ঢেঁড়সের 20 টি উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের জানাবো আজ। ঢেঁড়স কে সাধারণত আমরা এক
ধরনের গুরুত্বহীন সবজি হিসেবে মনে করে থাকি। কিন্তু এই সবজিটি আমাদের অজান্তেই
আমাদের শরীরের নানা ধরনের উপকার করে থাকে। ঢেঁড়সে রয়েছে মহাগুনটা আমাদের শরীরের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে আরো নানা ধরনের উপকার করে থাকে।
যার ফলে ঢেঁড়সকে এক ধরনের মহা ঔষধি গুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কারণ এতে রয়েছে অনেকগুলো অসিলি গুনাগুন। ঢেঁড়সকে অনেক জায়গায় অনেক নামেও ডাকা
হয়। কিছু কিছু জায়গায় ভেন্ডি নামেও পরিচিত। শীতকালে এই সবুজ সবজিটির স্বাদ
অনেক বেশি বেড়ে যায়। এটি মূলত একটি শীতকালীন সবজি হলেও এখন বর্তমানে আমাদের
দেশে সারা বছর চাষাবাদ করা হচ্ছে। আজকে আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আপনাদের
ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতা সম্পর্কে জানাবো চলুন জেনে নিই।
ঢেঁড়সের ২০ টি উপকারিতাঃ
- খারাপ কোলেস্টোরেল কমায়
- মিশক্যারেজ হওয়া প্রতিরোধ করে
- ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে
- শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করে
- চুলের জন্য উপকারী
- কোলন ক্যান্সারের রোগী কমায়
- হজমে সহায়তা করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি কর
- বিষন্নতা দূর করে
- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে
- হার্ড ভালো রাখে
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
- প্রসাদ পায়খানা পরিষ্কার করে
- হাড় মজবুত করে
- উচ্চ রক্তচাপ কমায়
- ফুসফুসে কাশি দূর করে
- ইমিউন সিস্টেমের জন্য উপকারী
- অ্যামেনিয়া বা রক্তশূন্যতা দূর করে
- ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী
- পাচনতন্ত্রের জন্য উপকারী
১। খারাপ কোলেস্টেরল কমায়ঃ ঢেঁড়সে রয়েছে সলিউবল ফাইবার অর্থাৎ আর যা আমাদের
শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত আমাদের রক্তে
থাকা বাজে কোলেস্টরেল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি আমাদের অথর অফ ক্লোরোসিসের
প্রতিরোধ করে।
২। মিস ক্যারেজ হওয়া প্রতিরোধ করেঃ গর্ভাবস্থায় নবজাতকের ব্রণ তৈরি করতে ঢেঁড়স
খুব ভালো অবদান রাখে। এছাড়াও এটি গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক তৈরিতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একি গর্ভবতীদের মিশকারেজ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা
করে।
৩। ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করেঃ ঢেঁড়স এমন একটি সবজি যা আমাদের ত্বকের
বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এটি আমাদের শরীরের কিছু পূর্ণ গঠনে এবং ব্রণ দূরীকরণে
কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
৪। শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করেঃ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আন্টি ইনফর্মেটরি এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা যা এজমা রোগীদের রোগের লক্ষণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে এবং
অ্যাজমা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৫। চুলের জন্য উপকারীঃ ঢেঁড়স আমাদের মাথার খুশকি দূর করে মাথার ত্বককে সুন্দর
করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি আমাদের চুলের জন্য প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে বেশ
কার্যকারী। এক কথায় এটি আমাদের মাথার ত্বকের জন্য অনেক উপকারী।
৬। কোলন ্যান্সারের ঝুঁকি কমায়ঃ ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর অক্সিডেন্ট এর রোজা
আমাদের শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি মেডিকেল এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।। যার ফলে
এটি আমাদের শরীরে কোলন ক্যান্সারের রোগী কমাতে পারে।
৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও
এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৮। হজমে সহায়তা করেঃপ্রচুর পরিমাণ আঁশ যা আমাদের সব হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও
এতে থাকা পেট্রোল আমাদের অন্তরের ফোলা ভাব কমাতে এবং অন্তরের থেকে বজ্র পদার্থ
পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৯। বিষন্নতা দূর করেঃ নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে এটি আমাদের বিষন্নতা দূর করতে শারীরিক
দুর্বলতা কমাতে এবং অবসাদ দূর করে মনকে প্রফুল্ল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে।
১০। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ প্রচুর পরিমাণে বিটাকার রুটিন,, ভিটামিন এ এবং লিউটিন
যা আমাদের চোখের গ্লুকোমা এবং চোখের সানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বেঁচে থাকা
পুষ্টির উপাদান আমাদের চোখের জ্যোতি ভালো রাখতে বেশ কার্যকরী।
১১। হার্ড ভালো রাখেঃ ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ,
ফসফরাস, ভিটামিনের, বি এবং ভিটামিন সি যা আমাদের হৃদপিণ্ডকে দুর্বল হওয়ার হাত
থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে যার ফলে হার্ট সুস্থ থাকে।
১২। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃঢেঁড়শে রয়েছে প্রচুর পরিমানে উপাদান । যা আমাদের
প্রসব পায়খানা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এককথায়
কষ্ট কাঠিন্য সমস্যা দূর করতে কার্যকারী।
১৩। প্রসব পায়খানা পরিষ্কার করেঃ সিদ্ধ করে সেই পানিটা খেলে এটি আমাদের প্রসব
পায়খানা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। প্রসব পায়খানা পরিষ্কার করার জন্য এটি বেশ
কার্যকারী।
১৪। উচ্চরক্ত চাপ কমায়ঃ নিয়মিত ঢেরস খেলে এটি আমাদের উচ্চতা উচ্চ রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ চলছে ভুগছেন
তারা নিজেদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত সবজিতে রাখতে পারেন।
১৫। খুশখুসে কাশি দূর করেঃ ঢেঁড়সের বীজ কাশি দূর করতে বেশ কার্যকরী। সেই
ক্ষেত্রে কয়েকটি কাঁচা দিয়ে রস রোধে শুকিয়ে পাঁচ থেকে ছয় গ্রাম ঢেঁড়সের
শুকনা গড়া এবং চিনি দিয়ে বডি বানিয়ে চুষে চুষে খেলে এটি খুশখুসে কাশি দূর করে।
১৬। হাড় মজবুত করেঃএক প্রকার আঠালো পদার্থ থাকে যা আমাদের হাড়ের জন্য অনেক
উপকারী। এই আঠালো পদার্থ পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন কে উপাদান থাকে যা আমাদের
শরীরে থাকা হারকে মজবুত করে।
১৭। ইমিউন সিস্টেমের জন্য উপকারীঃ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের শরীরে ইউ মিন
সিস্টেমের উন্নতি হয়।
১৮। অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দূর করেঃ প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা আমাদের
হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। যার ফলে নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে আমাদের
রক্তস্বল্পতা দূর হয়। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন কে আমাদের রক্তপাত বন্ধ করতে
করতে ভূমিকা পালন করে।
১৯। ডায়াবেটিসের জন্য উপকারীঃ ঢেঁড়সে ইউজিনাল নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে। যা
আমাদের শরীরের চীনের মাত্রা বাড়তে দেয় না ফলে ডায়াবেটিসের ঝুকি কবে।
২০। পাচনতন্ত্রের জন্য উপকারীঃ সাধারণত একটি ভাইবার সমৃদ্ধ সবজি। এতে ব্লুটেন
ফাইবার নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রের জন্য অনেক উপকারী।
এটি আমাদের পেট ফাঁপা এবং পেট ব্যাথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক
কথায় এতে থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের পাচনতন্ত্রের জন্য বেশ কার্যকরী ।
ঢেঁড়সের ৫ টি অপকারিতা
ঢেঁড়সের ৫ টি অপকারিতা সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে ঢেঁড়সের উপকারিতা ও
অপকারিতা আর্টিকালের এই অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমরা জানি আমাদের শরীরের
জন্য অনেক উপকারী এবং পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ সবজি ঢেঁড়স। কিন্তু এটি অবশ্যই
পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে। অতিরিক্ত ঢেঁড়স খেলে এটি আমাদের শরীরের জন্য কিছুটা
ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। চলুন জেনে নিই ঢেঁড়সের ৫ টি অপকারিতা
সম্পর্কে।
- ত্বকের ক্ষত হতে পারে
- কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
- পেটের সমস্যা সৃষ্টি করে
- রক্ত খুব বেশি ঘন হয়ে যায়
- গ্যাস্টিকের সমস্যা হতে পারে
১। তোকে ক্ষত হতে পারে ঢেঁড়স থেকে প্রতি ওলাইটিক মুখ এক ধরনের এনজাইম সংস্পর্শে
আসার কারণে ত্বকের ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
২। কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঢেঁড়সে অক্সালেট নামক এক ধরনের যৌগ
উপাদান রয়েছে। এ উপাদানটি শরীরের অতিরিক্ত মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনিতে পাথর
সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ যদি কিডনির সমস্যায় ভোগে থাকেন তাহলে ঢেঁড়স
এড়িয়ে চলা উত্তম।
৩। পেটের সমস্যা সৃষ্টি করে ঢেঁড়স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ সবজি হয় এটি অতিরিক্ত
মাত্রায় খাওয়া থেকে বিরত থাকায় উত্তম। কারণ এটি অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া
স্ক্যাম এবং অন্তরের প্রধান সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।
৪ রক্ত খুব বেশি ঘন হয়ে যায় ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে যা
আমাদের রক্ত ঘন করতে সাহায্য করে। তাই যারা রক্ত ঘন করার ওষুধ খাচ্ছেন তারা
ঢেঁড়স খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। একসাথে রক্ত ঘন
করার ওষুধ এবং ঢেঁড়সু হয়ে খেলে ইটের শরীরের রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করবে এবং যার
ফলে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
৫। গ্যাস্টিকের সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত মাথায় ঢেঁড়স খেলে হেঁটে গ্যাস্টিকের
সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে পেট ফাঁপা বা পেট ফলে যাওয়ার মত সমস্যা সৃষ্টি
হতে পারে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় না খেয়ে পরিমিত মাত্রা খাওয়ায় উত্তম।
ঢেঁড়স গাছের বৈশিষ্ট্য
ঢেঁড়স গাছের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যদি জানতে চান তাহলে ঢেঁড়সের উপকারিতা ও
অপকারিতা আর্টিকেলের এই অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এই অংশে আমরা আপনাদের
বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানাবো। ঢেঁড়স গাছের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি খুব
সহজেই এটি চিনতে এবং যেকোনো সময় সমাধান করতে পারে বেন চলুন জেনে নেই।
ঢেঁড়স গাছ সাধারণত একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এই গাছ প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা
হয়ে থাকে। এই গাছের পাতা প্রায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং চওড়া হয়ে
থাকে। গাছের পাতায় প্রায় পাঁচ থেকে সাতটি অংশে বিভক্ত থাকে। এই গাছের ফুল হয়
সাধারণত প্রায় চার থেকে ৮ সেন্টিমিটার চওড়া। ফুলের রং প্রায় সাদাটে হলুদ এবং
পাঁচটি পাপড়িতে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি পাপড়ির কেন্দ্রবিন্দুতে লাল এবং গোলাপী
একটি বিন্দু থাকে। ঢেঁড়স ফলটি সাধারণত ক্যাপসুল আকারে অর্থাৎ একটি লম্বা প্রায়
১৮ সেন্টিমিটার হয়। এই ফলের ভেতরের অংশে অসংখ্য বিষ থাকে।
ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ
ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আপনার আছে কি যদি না জেনে থাকেন তাহলে ডান্সের
উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলের এই অংশটুকু আপনার জন্য। ঢেঁড়স অত্যন্ত পুষ্টিকর
একটা সবজি যা বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের ভরপুর এবং স্বাস্থ্য উপকারী একটি খাবার।
এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। চলুন জেনে নির্ধারণ পুষ্টিগুণ
সম্পর্কে।
প্রতি 100 গ্রাম ঢেঁড়সের পুষ্টি উপকারিতাঃ
আমিষ ১.৮ গ্রাম
ভিটামিন সি ১৮ মিলিগ্রাম
খনিজ পদার্থ অর্থাৎ ক্যালসিয়াম প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম
লোহা ১০০ মিলিগ্রাম
এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন, ক্যারোটিন, ফলিক এসিড, থায়ামিন, অ্যামাইনো
এসিড, রিবোফলে বি, নিয়াসিন, অক্সালিক এসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম,
ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন এছাড়াও আরো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানের ভরপুর এই
ঢেঁড়স।
ওজন কমাতে ঢেঁড়সের উপকারিতা
ওজন কমাতে ঢেঁড়সের উপকারিতা সম্পর্কে চিকিৎসকরা কি বলে চলুন জেনে নেই। ঢেরসের
উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলেরে অংশ আমরা আপনাদের ওজন কমাতে ঢেঁড়সের উপকারিতা
সম্পর্কে জানাবো। মূলত আমাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার দুটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে
ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা। ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা সমাধানের ধারস খুব
ভালো কাজ করে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে।
বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং
ফ্যাটের মতো উপাদান যা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আরবি
বিভিন্ন ধরনের গবেষণা থেকে জানা গেছে এতে থাকা ফাইবার আমাদের শরীরের স্থুলতা
কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও বেঁচে থাকায় আন্টি আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে
শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে। তাই বলা যায় ঢেঁড়স ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী একটি
খাদ্য।
চুলের যত্নে ঢেঁড়সের উপকারিতা
চুলের যত্নে ঢেঁড়শ এর উপকারিতা সম্পর্কে জানতে ঢেঁড়সের উপকারিতা ও ঢেঁড়সের
উপকারিতা এই অংশটুকু মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আর্টিকালের এই অংশে আমরা আপনাদের চুলের
যত্নে ঢালসের উপকারিতা সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য জানাবো যা জানলে আপনি নিজেও অবাক
হবেন। কারণ শধুমাত্র আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এমনটি কিন্তু নয় এটি আমাদের
চুলের জন্য অনেক উপকারী। চলুন জেনে নিন চুলের যত্নে ঢেঁড়সের বিভিন্ন ধরনের
উপকারিতা সম্পর্কে।
ঢেঁড়স আমাদের চুলের গোড়া শক্ত করা থেকে শুরু করে এটি আমাদের চুল পড়া কমাতে এবং
নতুন চুল গজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢেড়সে থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের
চুলের জন্য অনেক উপকারী। এটি আমাদের চুলের শুষ্কতা দূর করে চুলকে অনেক বেশি
মুসলিম এবং ঝলমলে করে তোলে। ঢেঁড়সে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান যা আমাদের
মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও এটি আমাদের চুলের
রং কে ফাঁকা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে, চুলের রং স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য
করে। এটি আমাদের চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে পরিচিত।
চুলের আরো একটি বিশেষ সমস্যা হচ্ছে চুল দ্বিমুখী হয়ে যায় ফেটে যাওয়া। চুলের এই
দ্বিমুখী হয়ে ফেটে যাওয়া রোধ করতে ঢেঁড়স বেশ কার্যকরী। তাই যাদের চুল ফেটে
দিমু কি হয়ে যায় তারা নিজেদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ঢেঁড়স রাখতে পারে।
এছাড়াও নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে এটি আমাদের মাথার তালুতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির
যোগান দেয় যার ফলে মাথার তালুর রক্তের সঞ্চালনের পরিমাণ অনেক বেশি বেড়ে যায়,
যার ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। এক কথায় বলা যায় ঢেঁড়স আমাদের চুলের জন্য বেশ
উপকারী একটি খাদ্য। এটি আমাদের মাথার ত্বকের জন্য খুব ভালো একটি
ময়শ্চারাইজার।
ত্বকের যত্নে ঢেঁড়সের উপকারিতা
আমরা জানি ঢেঁড়স আমাদের শরীরের জন্য এবং চোখের জন্য অনেক উপকারী একটি খাদ্য। এটি
আমাদের ত্বকের জন্য কতটুকু উপকারী সেটি জানলে আপনি অবাক হবেন। ঢেঁড়শ রয়েছে
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা আমাদের শরীরের
টিস্যু তৈরি করতে এবং এটি মোরা মেরামত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও ঢেড়সে থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের ত্বকের তারুণ্য ভাব ধরে রাখতে সাহায্য
করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন যা
আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধান করতে
সাহায্য করে। ঢেঁড়স আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে ব্রণের
সমস্যা দূর করতে এবং সেই সাথে বয়সের দাগ কমাতে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে বেশ
কার্যকারী। ঢেঁড়সে থাকা আন্টি ইনফর্মেটরি উপাদান শুধুমাত্র আমাদের ত্বকের ব্রণ
দূর করতে তা কিন্তু নয় এটি আমাদের ত্বকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলো ধ্বংস করতে
এবং আমাদের ত্বকের প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢেঁড়সে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান
ঢেঁড়সে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হাত
থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। যেমন অক্সিডেন্ট স্টেজ ক্যান্সার, হৃদরোগ, অটোই
মিউন,ডিসঅর্ডার, সহ আরো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হাত থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করতে
পারে। কারণ ঢেঁড়সের খোসা এবং এর বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সিডেন্ট উপাদান।
আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান গুলো আমাদের শরীরে থাকা অক্সিডেটিভ স্টেজ কমাতে
সাহায্য করে। তাই বলা যায় ঢেঁড়সে থাকা এক্স এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের
শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
কাঁচা ঢেঁড়স খেলে কি হয়
কাঁচা ঢেঁড়স খেলে কি হয় তা আপনি জানেন কি। কাঁচা ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং নানা ধরনের খনিজ উপাদান, যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ
উপকারী। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস,
এছাড়াও ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি। যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এই
ঢেঁড়শে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন। ঢেঁড়সে থাকাই এই আয়োডিন আমাদের গলগন্ড
রোগ প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও এটি একটি ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হওয়ায় এটি আমাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশ কার্যকারী। এটি আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন দূর করে
শরীরকে অনেক বেশি কর্মক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের শরীরে
বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হাত থেকে রক্ষা আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত
অথবা কাঁচা ঢেরসের সালাত রাখতে পারেন। এতে করে আমাদের পুষ্টির চাহিদা যেমন পূরণ
হবে ঠিক তেমনি বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
ঢেঁড়স ভেজানো পানি খেলে কি হয়
ঢেঁড়স ভেজানো পানি খেলে কি হয় অর্থাত আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। কারণ এই
ঢেঁড়স ভেজানো পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এবং পুষ্টি উপাদান। যা আমাদের শরীরে
নানা ধরনের উপকার করে থাকে। ঢেঁড়সের উপকারিতা ও অপকারিতা আটিকালের এই অংশ চলুন
জেনে নেই ঢেঁড়স ভেজানো পানি খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে।
১।নিয়মিত ঢেঁড়স ভেজানো পানি খেলে এটি আমাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ
পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
.২।ঢেঁড়স ভেজানো পানি আমাদের হজমে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গধেরসে
৩।ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনা লস এবং লেভনয়েড উপাদান যা আমাদের রক্তে
গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে।
৪।নিয়মিত ঢেরস ভেজানো পানি খেলে এটি আমাদের হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৫।জাদের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে তারা নিয়মিত ঢেরস ভেজানো পানি খেলে এটি অতিরিক্ত
ওজন কমতে সাহায্য করে
.৬।যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ঢেড় আসবে যেন পানি খেলে এ সমস্যা দূর
হয়।
৭।নিয়মিত ঢেরস ভেজানো পানি খেলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের সমস্যা দূর
করতে সাহায্য করে
ঢেরস ভেজানো পানি তৈরির নিয়ম
ঢেঁড়স ভেজানো পানি তৈরির নিয়ম অনেক সহজ। এই ঢেঁড়স ভেজানো পানি তৈরি করার জন্য
প্রথমে চার পাঁচটি ঢেড়স ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিবেন। এরপর এই কাটা
ঢেঁড়স গুলো একগ্লাস পানিতে সারারাত ভিজে রেখে দিন। সকালে খালি পেটে গুলো থেকে
পানি গুলো খেয়ে ফেলুন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন প্রথমে এটি বেশি পরিমাণে খাবেন না
তাহলে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এটি প্রথমে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প
অল্প করে খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াবেন। তাহলে আর কোন
সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা্
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে থাকা উচিত। আমাদের
বাসায় অথবা অনেক আত্মীয়-স্বজনই ডায়াবেটিস জনিত রোগে আক্রান্ত। তাই ডায়াবেটিস
রোগীদের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা সম্পর্কে জানা থাকলে এটি অনেক উপকারে আসবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢেড়স বেশ উপকারী একটি খাবার। চলুন জেনে নেই ডায়াবেটিস
রোগীদের জন্য কয়েকটি উপকারিতা সম্পর্কে।
- প্রকোপ কন্ট্রোল
- হারের স্বাস্থ্য ভালো করে
- লোকালোরি এবং ফ্যাট যুক্ত
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সংস্কার
১প্রকোপ কন্ট্রোল ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রোটিন থাকায় এটি খাবার
সংলাপ স্থায়ীভাবে সংলাপ করে। যার ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কে সংলাপ
দেখায় এবং রক্তের সুগারের লেভেলকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
২। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো করে ডায়াবেটিস রোগীদের হাড় অনেক বেশি দুর্বল
করে ফেলে। কিন্তু ঢেঁড়সে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম ডায়াবেটিস রোগীদের
হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩। লোক্যালারি এবং ফ্যাট যুক্ত ঢেরস কম ক্যালরি এবং ফ্যাট যুক্ত একটি খাবার। যার
ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৪। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সংস্কার প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস
রোগীদের মুক্তি প্রদান করতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সে থাকা এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢেঁড়স খাওয়ার নিয়ম
ঢেঁড়স খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে সেই অনুযায়ী ঢেঁড়স খেলে ঢেঁড়সের সম্পূর্ণ
পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। ঢেঁড়সে অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবজি হলেও অনেক সময়
রান্নার কারণে এর গুনাগুন কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ঢেঁড়সের সম্পূর্ণ গুনাগুন
বজায় রাখতে এটি সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করতে হবে। তাহলে আর সম্পূর্ণ গুনাগুন
পাওয়া যাবে। চলুন জেনে নে ঢেঁড়স খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে।
১। ঢেঁড়স কাটার আগেই ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এটি কাটার পর আর ধোয়ার প্রয়োজন
নাই। তাহলে সম্পূর্ণ গুণাগুণ পাওয়া যাবে।
২। ছোট ছোট টুকরো করে বা গোল গোল চাকা আকারে কাটতে পারেন। এটি রেসিপি প্রয়োজন
অনুযায়ী কেটে রান্না করতে হবে।
৩। ঢেঁড়স ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করে খেলে এর বুনাগুন অটুট থাকে সেই সাথে হজম
করতে সুবিধা হয়।।
৪। ঢেঁড়স ভাজি করে খেতেও ভালো লাগে। এক্ষেত্রে অবশ্যই তেল, পিয়াজ, রসুন, এবং
অন্যান্য মসলা গল্প পরিমাণ এ দিতে হবে মসলা এবং তেলের পরিমাণ বেশি ও দিলে এটি
খেয়ে উপকারের পরিবর্তে অপকার বেশি হবে।
৫। ঢেঁড়সের বিভিন্ন ধরনের কারী বা তরকারি রান্না করা হয়। এছাড়াও এটি মাছ বা
মাংসের সাথে রান্না করে খেতেও বেশ দারুন লাগে।
৬। কচি কচি ছোট ছোট টুকরো টুকরো করে কেটে এতে সামান্য বিট লবণ এবং সামান্য মরিচ
মিশিয়ে সালাত করেও খাওয়া যায় এতে পুষ্টি বেশি পাওয়া যায়।
৭ বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য ঢেঁড়সের সুপ তৈরি করে তাদেরকে খাওয়ানো হয়
ঢেঁড়সের সুদ খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনি এর পুষ্টিগুনে অনেক বেশি ।
৮ ডেরসের খোসার প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে তাই এটি খোসা সহ হয় ভালো।
ঢেঁড়স খেলে কি এলার্জি হয়
ঢেঁড়স খেলে কি এলার্জি হয় এটি সম্পর্কে জেনে নেই। ডান্স আমাদের স্বাস্থ্যের
জন্য অনেক উপকারী একটি সবজি হলেও এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এলার্জির প্রবণতা
বাড়িয়ে তুলতে পারে। যাদের অতিরিক্ত পরিমাণে এলার্জির প্রবণতা রয়েছে তাদের
এলার্জি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে ঢেঁড়স খাওয়ার জন্য। তবে এলার্জিজনিত সমস্যা
থাকলেও এটি অনেক উপকারী একটি সবজি। যাদের অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে তারা এসব জি
কিছুটা অল্প পরিমাণে খাবেন। আর এলার্জির পরিমাণ বেশি হলে অবশ্য ঢেঁড়স খাওয়া
বন্ধ করে দিবেন। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ঢেঁড়স খেলে কি গ্যাস হয়
আরো পড়ুন টমেটোর পুষ্টিগুণ ও দশটি স্বাস্থ্য উপকারিতা ঢেরস আমাদের শরীরের জন্য
অনেক উপকারী খাদ্য হলো এটি অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা
সৃষ্টি করতে পারে। ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যার ফলে বেশি পরিমাণ
ঢেঁড়স খেলে এটি পেটে গ্যাস উৎপাদন করতে পারে যার ফলে পেটের সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষ করে এটি সবজিটি শিশু এবং বয়স্কদের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া মোটেই
ঠিক নয়। শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঢেড়শ সাবধানতার সাথে অল্প পরিসরে খাওয়াতে
হবে। তাহলে আর কোন সমস্যা সৃষ্টি হবে না ।অতিরিক্ত সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের
পরামর্শ নিবেন।
ঢেঁড়স কি শীতকালীন সবজি
ঢেঁড়স কি শীতকালীন সবজি এটি সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে আজকের এই অংশটুকু
পড়ুন। ঢেঁড়স মূলত একটি শীতকালে শীতকালীন সবজি। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায়
সারা বছর ঢেঁড়স চাষ করা হয়। ঢেঁড়সের বিভিন্ন জাত বের হওয়ায় এটি সারা বছর চাষ
করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এটি শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত।
ঢেঁড়রসের ভালো জাত কোনটি
ঢেঁড়সের ভাল জাত কোনটি অনেকেই জানতে চান। কারণ অনেক মানুষ বাড়ির আশেপাশে থাকা
জায়গায়, টবে, অথবা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করে থাকে। তবে ঢেঁড়সের ভাল জাত কোনটি এটি
সম্পর্কে ভালো মত ধারণা না থাকলে ঢেঁড়সের ফলন ভালো হয় না বা অনেক পরিশ্রম করেও
কাঙ্খিত মালের ফলন পাওয়া যায় না। তাই ঢেঁড়সের উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলের
এই অংশে আমরা আপনাদের ঢেঁড়সের সবচেয়ে ভালো জাত সম্পর্কে জানাবো চলুন জেনে নেই।
ঢেঁড়সের সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে দামি জাত হচ্ছে হাইব্রিডস বা সুপার সুমি
ঢেঁড়স। এই জাতটি আমাদের দেশে সারা বছর চাষাবাদ করা হয়। সুপার সুমি এই জাতের
বৃষ্টি মূলত সুমি জাতের একটি উন্নত সংস্কার। আপনি জানলে অবাক হবেন যে এই জাতের
বৃষ্টি উচ্চ তাপমাত্রায় ভাইরাস সহনশীল এবং এটি উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল। এই ফল
পরিপক্ক হওয়ার পরেও প্রায় দুই থেকে তিন দিন সতেজ, চকচকে এবং কচি ভাব থাকে। এটি
মূলত অনেক ভালো মানের একটি ঢেঁড়সের জাত।
ঢেঁড়স কখন চাষ হয়
টে রস কখন চাষ করে এটি সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত তথ্য জানা থাকলে আপনি খুব সহজে
ঢেঁড়স চাষ করতে পারবেন। আর ব্যারো চাষের সময় জেনে ঢেঁড়স চাষ করলে ফলন ভালো
হবে। চলুন জেনে নেই বাংলাদেশে কখন ঢেঁড়স চাষ করা হয় সেটি সম্পর্কে। সাধারণত
আমাদের এই বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসে এই ঢেঁড়স গাছ লাগানো
হয়।
তবে এটি শুধু ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসেই লাগানো হয় তা কিন্তু নয় এটি
বর্তমানে সীমিত আকারে প্রায় সারা বছর চাষ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতি হেক্টর
জমিতে প্রায় 45 কেজি বীজ বপন করা হয়। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এরকম
উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হয়। ডেরশ চাষের জন্য জমিতে ৫ থেকে ৬ বার চাষ দিয়ে
এবং মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হয়। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করলে এবং জমিতে ভালো
মানের অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ঢেঁড়সে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যকারী গুনাগুন বীজ
বপন করলে তবেই ফসল ভালো হয়।
প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে কত ক্যালরি থাকে
অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ঢেঁড়সে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যকারী গুনাগুন। প্রতি ১০০
গ্রাম ঢেঁড়সে রয়েছে ৯০.১৭ গ্রাম জলীয় অংশ, প্রায় ১.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ,
প্রায় ৩৩ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি, প্রায় ১.৬০ গ্রাম আঁশ, এবং প্রায় 2.0
গ্রাম আমিষ রয়েছে। এছাড়াও আরো নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ভরপুরে ঢেঁড়স।
গর্ভাবস্থায় ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে প্রতিটা গর্ভবতী মেয়েরা জানতে
চান, গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মা পুষ্টিকর খাবার নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকে। কারণ
গর্ভবতী মা গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খেলে এটি গর্ভবতী মা এবং গর্ভে থাকা
সন্তান উভয়ের জন্য অনেক উপকারী। গর্ভে থাকা শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি
দেওয়া প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের উচিত। তাহলে একটি সুস্থ এবং মেধাবী বাচ্চা
পৃথিবীতে আসবে। চলুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় ডে রস খাওয়ার বেশ কয়েকটি উপকারিতা
সম্পর্কে।
১। ঢেঁড়স একটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি গর্ব অবস্থায় গর্ভবতীদের
হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে যার ফলে পেটের সমস্যা দূর হয়।
২। গর্ভাবস্থায় কুষ্ঠ কানেক্টর সমস্যা দূর করতে কার্যকারী একটি সবজি।
৩। ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি যা একজন
গর্ভবতী মা এবং শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৪। ঢেঁড়স একটি আয়রনসমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি গর্ব অবস্থায় গর্ভবতী মায়ের
এমোনিয়ার সমস্যা দূর করতে এবং রক্তশূন্যতা ঝুঁকি কমাতে বেশ কার্যকারী।
৫। ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, অক্সিলিক এসিড, আয়রন,
ফোলেট, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যার গর্ভাবস্থায় মা এবং শিশু উভয়ের জন্য
অনেক উপকারী।
৬। ঢেঁড়স একটি খনিজ সমৃদ্ধ খাবার হয় এটি গর্ভাবস্থায় অনেক উপকারী একটি
সবজি।
৭। ওলেটকে গর্ভাবস্থায় অনেক মূল্যবান এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাবার হিসেবে
গণ্য করা হয়। কারণ এটি ব্রণ নির্মাণে এবং স্বাস্থ্যসম্মত নিকোটিনিক এসিডের
তৈরিতে অনেক প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আর এই ঢেঁটাসে প্রচুর পরিমাণে ফুল থাকায়
এই গর্ভবতী মায়েদের জন্য অনেক উপকারী।
ঢেঁড়স খেলে কি কাশি বাড়ে
ঢেঁড়স খেলে কি কাশি বাড়ে যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা রয়েছে বা একটুতেই কাশি হয়
তারা জানতে চান। জেনে থাকা ভালো ডেড়স খেলে কাশি হয় না। বরং এটি নিয়মিত খেলে
খুসখুসে কা সেজন্য অনেক উপকারে হয়। তাই যাদের খুশখুসে কাশি হয় তারা নিয়মিত
তাদের খাদ্য তালিকায় এই ঢেঁড়স সবজিটি রাখতে পারেন।
শেষ কথা
আজকে রাতে গেলে আমরা আপনাদের উপকারিতা ও অপকারিতার শহরে পুষ্টিগুণ ঢেঁড়সের
খাওয়ার নিয়ম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা গর্ভাবস্থায় দেড়শ এর
উপকারের জন্য পানি খাওয়ার উপকারিতা সহ আরো অনেক অজানা বিষয় সঠিক তথ্যের মাধ্যমে
জানানোর চেষ্টা করেছি। আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়লে
আপনি দেড়শ সম্পর্কে অনেক উপকারী তথ্য জানতে পারবেন। আশা করি আর্টিকেলটি আপনার
অনেক উপকারে আসবে।

.webp)

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url