ভূমিকম্প হলে করণীয় কি ও বাঁচার উপায়
আরো পড়ুনঃ আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোন আগাম পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়, তাই সঠিক প্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প চলাকালীন সচেতনতাই জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়। ভূমিকম্পের সময় ও আগে পরে করণীয় পদক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
ভূমিকম্প হলে আতঙ্কিত না হয়ে (পড়ে যাও, আড়াল নাও ,ধরে রাখো) নীতি অনুসরণ করুন: শক্ত টেবিলের নিচে লুকানো, জানালার কাছ থেকে দূরে সরুন, কলাম বা বিম ধরুন, আর বের হতে পারলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে খোলা জায়গায় যান, গাড়িতে থাকলে সেখানেই থাকুন, কম্পন থামলে শান্তভাবে বেরিয়ে আসুন ।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ভূমিকম্প হলে করণীয় কি ও বাঁচার উপায়
ভূমিকম্প কি
প্রথমেই শুরু করি, ভূমিকম্প আসলে জিনিসটা কি, সেটা দিয়ে। খুব সোজা বাংলায় বলতে
গেলে, ভূ অর্থ পৃথিবী আর কম্পন মানে কাঁপা। তার মানে হলো, পৃথিবী যখন কাপে, তখন
তাকে ভূমিকম্প বলা হয়। প্রকৃতির নিয়মে বহু অভ্যন্তরের, (মানে মাটির নিচে আর কি)
সৃষ্ট আলোড়ন এর কারনে বহু পৃষ্ঠের কোন কোন অংশ হঠাৎ কেঁপে ওঠে। আর এই কেপে
উঠাকেই আমরা বলি ভূমিকম্প। এই ধরনের কম্পন প্রচন্ড, মাঝারি কিংবা মৃদু এই তিন
ধরনের হতে পারে।
পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। কিন্তু এর বেশিরভাগই মৃদু
কম্পন বলে আমরা সাধারণত টের পাই না। আবার অনেক সময়ই সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
হয়, যেগুলো স্থুল পর্যন্ত আসার আগেই শেষ হয়ে যায়। তাই আমরা সেভাবে ভূমিকম্পের
প্রভাব টের পাই না। তবে সাগরতলে বড় বড় ভূমিকম্প হলে সুনামি হতে পারে। আর এতে
করে প্রচন্ড জলোচ্ছ্বাস হয়। এর ফলে উপকূলীয় লোকজন, সমুদ্রের মাছ ধরতে থাকা
জেলে, বা জাহাজের মানুষজন আর নৌকাগুলো পড়ে ভয়াবহ বিপদে।
বাংলাদেশ, পৃথিবীর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত বলে এদেশে ইদানিং খুব ঘন ঘন
ভূমিকম্প অনুগত হচ্ছে। আর বড় সড়ো ভূমিকম্প হওয়ার আগে মৃদু ভূমিকম্প বেশ ঘন ঘনই
হয়ে থাকে। ১১২ বছর আগে ১৮ ৯৭ সালে এ দেশে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এমন ভয়াবহ
আরেকটি ভূমিকম্পের আশঙ্কাও কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্বের
বিভিন্ন দেশেই ভূমিকম্প হয়। কিন্তু দেশে দেশে মাটির গঠনে ভিন্নতা, টেকটোনিক,
প্লেট, বিল্ডিং কোড, বিল্ডিং স্ট্রাকচার ও বাড়ি বানানোর উপকরণে পার্থক্য থাকায়
ভূমিকম্পের প্রভাব ও তাই দেশ ভেদে ভিন্ন হয়।
ভূমিকম্প কেন হয়
আগেই জেনেছেন, মাটির নিচে সৃষ্ট আলোড়নের কারণে ভূমিকম্প হয়। কিন্তু এই আলোড়নটা
কেন হয়? সেই আদি কালের মানুষেরা মনে করত আমাদের পুরো পৃথিবী বিশাল আকারের
কয়েকটি হাতি ওদের পিঠে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই হাতিরা যখন একটু নড়াচাড়া করে
ওঠে, তখনই হয় ভূমিকম্প। ব্যাপারটা অবশ্য একদিক দিয়ে ঠিকই আছে। শুধু হাতির
জায়গায় প্লেট করতে হবে।
মানে হলো, আমাদের পৃথিবীটা অনেকগুলো প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত। প্লেট মানে কিন্তু
থালা নয়। প্লেটকে আপনারা অনেকে বড় বড় ব্লগ হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। এই
প্লেটগুলো পরস্পরের সঙ্গে গায়ে গায়ে লাগানো। কোন কারনে যদি এই প্লেটের
স্থানচ্যুতি ঘটে বা পরস্পরের বিপরীত দিকে ওরা নড়তে থাকে, তখনই ভূমিকম্প হয়।
এছাড়া আগ্নেয়গিরির অগ্নপাথের সময় ও ভূমিকম্প হয়।
ভূমিকম্পের পরিমাণ
মোটামুটি ১৫০ বছর আগ পর্যন্ত মানুষ শুধু ভূমিকম্প হয়ে গেল, এমনটাই দেখতে পেত,
কিন্তু, কত মাত্রার ভূমিকম্প হল তা জানতে পারত না। এরপরে আবিষ্কৃত হয় ভূমিকম্প
মাপার যন্ত্র। যাকে বলা হয়,সিসমোগ্রাফ বা সিসমোমিটার। এই সিসমোগ্রাফ বা আরো একটি
নামে পরিচিত, তা হচ্ছে- একসিলারোগ্রাফ। ভূমিকম্পের মাত্রা দুই ভাবে পরিমাপ করা
হয়।
তীব্রতা, আর প্রচন্ড তা, বা ব্যাপকতা। ভূমিকম্পের তীব্রতা সাধারণত রিকটার স্কেলে
মাপা হয়। আর রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা পাস এর ওপরে উঠলেই যথেষ্ট বিপদের
আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করা হয়। রিক্টার স্কেলের মাত্রা এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলেই
ভূকম্পের মাত্রা ১০ থেকে ৩০ গুন বেড়ে যায়।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রাঃ
- তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
- ৫ এর বেশি বিপদের সম্ভাবনার ।
- ৬-৬ ব্যাপক।
- ৭-৭.৯ ভয়াবহ।
- ৮ বা এর বেশি অত্যন্ত ভয়াবহ ।
ভূমিকম্পে যা যা ক্ষতি হতে পারে
ভূমিকম্পের ক্ষতির বিষয়টা আসলে ভূমিকম্পের পরিমাপের উপর নির্ভর করে। তীব্রতার
ওপর নির্ভর করে মৃদু মাঝারি আর প্রচন্ড এই তিন ভাগে ভাগ করা যায় ভূমিকম্পকে। যত
বেশি তীব্র হবে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে। অনেক দালান ই ধ্বসে
পড়তে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতি যাই হোক, প্রথম যে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে, কখনোই
আতঙ্কিত হওয়া চলবে না। কারণ আতঙ্কিত হলেই বুদ্ধি আর চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ
পায়। মাথা ঠান্ডা রেখে এবার জেনে নাও, ভূমিকম্পের সময় কি কি করা দরকার।
ভূমিকম্পের আগেই যা করবেন
ভূমিকম্পের সময় কি কি করতে হবে জানার আগে চলেন জেনে নেই, তারও আগে আমরা
সতর্কমূলক কি কি ব্যবস্থা রাখতে পারি। মানে, ভূমিকম্প যখন হওয়ার তখন তো হবেই। এর
আগে আমাদের যা যা করা দরকার, তা হলঃ
১। প্রথমেই আজকের পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। তারপর যা যা করার ব্যাপারে
পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাড়ির সবাইকে আর বন্ধু-বান্ধব কেউ জানাবেন। যারা
জানেনা, তাদের কেউ জানাবেন। তাহলে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে অনেকটাই আমরা রক্ষা
পাবো।
২। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিছু জিনিস আগে থেকেই হাতের কাছে রেখে দেবেন। যেমন ধরেন,
ব্যাটারি চালিত রেডিও, টর্চ লাইট, দুটোর জন্যই অতিরিক্ত ব্যাটারি, বোতলজাত পানি,
শুকনো খাবার, কম্বল, হুইসেল, বৈদ্যুতিক লাইন ও গ্যাসের লাইন বন্ধ করার যন্ত্র।
তোর সব সময় হাতের কাছাকাছি রাখা দরকার। ঘুমানোর সময় ত বিছানায় বালিশের পাশে
রাখতে পারেন।
৩। ভারি ভারি কোন জিনিসকে উপরে ঝুলিয়ে রাখবেন না কিংবা তাকের উপরের দিকে না রেখে
নিচের দিকে রাখবেন। বড় আয়না ও বড় বাঁধানো ছবি এমন জায়গায় ঝোলানো উচিত নয়,
যে জায়গাগুলোতে আপনারা সব সময় শোওয়া বসা করেন।
৪। দাহ্য পদার্থ, যেগুলো আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে, যেমন তেল বা গ্যাসের
কন্টেইনার গুলো নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। নিরাপদ দূরত্ব মানে চুলা, ফারনেস ,ওয়াটার
হিটার, ওভেন এগুলো থেকে দূরে রাখুন।
৫। বড় বড় ল ও লম্বা ফার্নিচার গুলোকে যেমন সেলফ, ফ্রিজ, সোফা এইসব জিনিস দড়ি
দিয়ে বেঁধে রাখবেন, যাতে কম্পোনার সময় তার গায়ের ওপর এসে না পড়ে।
৬। সবার জন্য হেলমেট কিনে রাখতে পারেন। যাতে করে কম্পনের সময় মাথায় হেলমেট পরা
যায়। যদি কোন কিছু ধ্বসে পড়ে তাহলে ক্ষতিটা কম হবে।
৭। বাড়ির সবার সঙ্গে বসে প্ল্যান অফ একশন, ঠিক করতে হবে। মানে ভূমিকম্পের সময়
কি কি করবেন কোথায় আশ্রয় নেবেন, কাকে জানাবেন ইত্যাদি।
ভূমিকম্পের সময় যা যা করবেন
১। যদি আপনি ঘরের ভেতরে থাকেন, তাহলে আমেরিকান রেড ক্রসের পরামর্শ অনুযায়ী,
সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো, ড্রপ কভার হোল্ড অন,বা ডাক কাভার নিতে হবে। এমন ডেক্স
বেছে নিতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় সেই কাভার সহ নড়াচড়া করা যায়। তাদের মতে,
ভূমিকম্পের বিল্ডিং খুব বেশি কলাপস বা ভেঙ্গে না পড়লেও আশেপাশের টুকিটাকি জিনিস
গায়ের উপর পড়ে হেড- নেক - চেস্ট ইনজুরি হতে পারে। তাই এগুলোর হাত থেকে বাঁচার
জন্যই ডেক্স বা এরকম কিছু নিচে কাভার নেওয়া জরুরী।
২। হেলমেট কেনা থাকলে দ্রুত হেলমেট পড়ে নেন।
৩। কখনোই জানালার কাছে কিংবা বড় আয়না ও ভারী ঝুলন্ত কোন কিছুর নিচে আশ্রয়
নেবেন না। ঘরের দেয়ালের পাশেও দাঁড়ানো অনুচিত। যদি একান্তই দাঁড়াতে হয়, তাহলে
বাইরের দিকে যে দেয়াল আছে সেদিকে দাঁড়ান।
৪। যদি বাড়ির কেউ রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে, তাকেও কাভার নিতে হবে। কিন্তু কাভার
নেওয়ার আগে দ্রুত ছোলা নিভিয়ে ফেলতে হবে। কারণ, যদি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তাহলে
আগুন জ্বালানো থাকলে গ্যাস লাইন ফেটে সেই আগুন সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে
পারে।
৫। যদি আপনি বাইরে থাকেন তাহলে খোলা জায়গাতে চলে যাবেন। আশেপাশে বড়
বিল্ডিং ,ব্রিজ, পাওয়ার গ্রিড লাইন, টাওয়ার কিংবা বড় গাছ আছে কিনা দেখে নিন।
এগুলো থেকে যতটা দূরে পারেন থাকেন।
৬। যদি আপনি গাড়ির মধ্যে থাকেন, তাহলে আসতে আসতে গাড়ি থামিয়ে ফেলেন। তারপর
রাস্তায় ধারে গাড়ি থামিয়ে গাড়ির ভিতর অবস্থান করুন। এখানেও একই কথা, বড় কোন
গাছ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, ওভার ব্রিজ, এগুলোর নিচে গাড়ি রাখবেন না।
ভূমিকম্পের পরে যা করবেন
১। প্রথমেই দেখেন কেউ আহত হয়েছে কিনা। আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে
হবে। বেশি আহত হলে হাসপাতালে নিতে হবে।
২। এবার দেখেন বাড়ির কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। যদি বেশি ক্ষতি হয়, তাহলে বাড়ি থেকে
বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণ পর্যন্ত বাড়ির ভিতরে ঢুকবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না
নিরাপত্তা কর্মীরা এসে বাড়িটা কে নিরাপদ বলে ঘোষণা করে।
৩। বাড়ির ভেতর অন্ধকার হয়ে আসলে টর্চ জ্বালান। আগেই ম্যাচ জানাবেন না। কারণ,
গ্যাসের পাইপ ফেটে গেলে সারা বাড়িতে আগুন ধরে যেতে পারে ওই একটা ম্যাচের ঘাটের
জন্যই।
৪। যদি গ্যাসের গন্ধ পান, তাহলে নিশ্চিত ভাবে ধরে নিতে হবে গ্যাস লাইন লিক করেছে।
তাড়াতাড়ি করে দরজা জানালা খুলে দেন। এবার গ্যাসের মিটার বন্ধ করে দেন। তারপর
দুটো আপনার এলাকার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর কে জানান।
৫। যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে আগে মেন সুইচ বন্ধ করেন। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে
আসলে যদি স্পার্ক করে আর যদি গ্যাসলাইন ফাটা থাকে। তাহলে আগুন ধরে যেতে
পারে।
৬। যদি বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসেন। তাহলে ছেড়ে ব্যবহার করবেন। লিফট ব্যবহার না
করাই ভালো।
ধ্বংস স্তূপে আটকা পড়লে
১। ধুলাবালি থেকে বাঁচার জন্য আগে থেকে সঙ্গে রাখা রুমাল, তোয়ালে বা চাদর দিয়ে
নাক মুখ ঢেকে রাখেন।
২। আবারো বলছি, ম্যাচ জানাবেন না। দালান খসে পড়লে গ্যাস লিক হয়ে আগুন ধরে যেতে
পারে।
৩। অযথা চিৎকার করবেন না। চিৎকার করলে যে শুধু ক্ষতি শক্তি ক্ষয় হবে, তাই নয়,
বরং নাকে মুখে ধুলাবালি ঢুকে যেতে পারে। ভালো হয় সঙ্গে একটা হুইসেল রাখতে পারলে।
মানুষজনের অস্তিত্ব টের না পেলে বাঁশি বাজিয়ে নয়তো পাইপ কিংবা অন্য কোন কিছুতে
বাড়ি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করুন।
শেষ কথা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি জেনে নেন। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি যাই হোক, প্রথমে যে
বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, কখনোই আতঙ্কিত হওয়া চলবে না। কারণ আতঙ্কিত হলেই
বুদ্ধি আর চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পায়। মাথা ঠান্ডা রেখে তারপর চিন্তা করতে
থাকবেন, কি কি আপনার করণীয়। আরেকটা ব্যাপার, ভূমিকম্প হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর
আবারও ছোট ছোট আকারে কয়েকটি মৃদু কম্পন হয়ে থাকে। এগুলোকে বলে আফটার শখ বা বড়
ভূমিকম্পের পরের কম্পন। যদি কোন ঘর বাড়ি নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে এই আপনার সহ
কেউ সেগুলো বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

.webp)
.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url