আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি

আরো পড়ুনঃ  ভূমিকম্প হলে করণীয় কি ও বাঁচার উপায়

রজব মাস থেকেই রাসূল (সা,) রমজানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সব ব্যাসতা কমিয়ে আনতেন একে একে। রমজানের পুরো সময়টা ইবাদত- বন্দেগিতে কাটিয়ে দিতেন নির্বিঘ্নে। বছরে একবারও আগমন ঘটে পবিত্র মাহে রমজান মাসের।

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি

তাই দীর্ঘ ১১ মাসের অপেক্ষার পর রমজান মুসলিম মুমিনদের জন্য রহমত, বরকত  ও নাজাত নিয়ে হাজির হয়। রমজানের মহিমায় আলোকিত হয় আকাশ বাতাস। পবিত্র এ মাসে এত বেশি ফজিলত ও নেয়ামত রয়েছে যা অন্য কোন মাসের নেই। আর তাই রমজান মাসের প্রতিটি দিন, ঘন্টা, মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ এ সময় কে সঠিক আমলের সঙ্গে কাটাতে হবে। 

পোস্ট সূচীপত্রঃ পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি 

রমজান উপলক্ষে যাকাত ও দান

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ )রমজানে বেশি বেশি দান করতেন ‌ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  ( রা,) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিব্রাইল (আ,) তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন,( সহিহ বুখারী মুসলিম: ০৬)

তাই রমজানে দানের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। যদিও যাকাত প্রদানের নির্ধারিত কোন মাস নেই। তবু আলেমরা বলেন, রমজানে যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তি অধিক সওয়াবের অধিকারী হতে পারেন।


রমজান মাসে যাকাত ও দান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, কারণ এ মাসে প্রতিটি ভাল কাজের নেকি বহু গুণে বৃদ্ধি পায়, বিশেষত যাকাত ও সদকা সম্পর্কে পবিত্র করে, অভাবীকে সাহায্য করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। যাকাতুল ফিতর ঈদের আগেই পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক এবং এটি দরিদ্রদের ঈদ উদযাপনে সাহায্য করে, যা রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কাজ গুছিয়ে রাখা

রমজান ইবাদতের মাস। তাই রমজানের আগেই যদি পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও পেশাগত কাজগুলো গুছিয়ে রাখা যায়। তবে রমজানে অধিক সময় ইবাদতে মগ্ন থাকা যাবে। বিশেষত নারীরা সাংসারিক কাজ গুছিয়ে রাখলে তারা ইবাদতে বেশি সময় দিতে পারবেন। 

কাজ গুছিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করা, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা এবং প্রতিটি জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যা আপনাকে কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত জীবনে শৃঙ্খলা আনতে, চাপ কমাতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

কুরআন পাঠ করা 

রমজানে মহানবী (সা:) -এর দুটি প্রিয় আমল ছিল কোরআন তেলাওয়াত করতেন । আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা) বলেন, রমজানের প্রতি রাতে জিবরাঈল (আ,) তার সঙ্গে দেখা করতে এবং তারা পরস্পরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। ( সহিহ বুখারী, হাদিস:৬)

কোরআন পাঠ বা তেলাওয়াত ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। প্রতিটি হরফ পাঠের বিনিময়ে ১০ টি নেকি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআন পাঠ করা মানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা। যা ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়

রমজানে মহানবী( সা,) - এর দুটি প্রিয় আমলের মধ্যে একটি ছিল তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। রমজানে নবীজি (সা,) তার পরিবারকে তাহাজ্জুদের জন্য ঢেকে দিতেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা,) বলেন, রমজানের প্রতি রাতেই জিব্রাইল আলাই সালাম তার সঙ্গে দেখা করতেন এবং তারা পরস্পরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শুনাতেন। 

চাঁদের হিসাব রাখাঃ

রাসুলুল্লাহ (সা,) নিজে সাবান মাসের চাঁদের হিসাব রাখতেন এবং অন্যদের উৎসাহিত করতেন। আয়েশা( রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা,) শাবান মাসের খুব হিসাব রাখতেন। এছাড়া অন্য কোন মাসের এত হিসাব করতেন না। এরপর রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন। আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না গেলে সাবান মাস ৩০ দিনে গণনা করতেন, অতঃপর রোজা রাখতেন। ( শুনানি আবু দাউদ হাদিস ২৩২৫) ।

তওবাহ ইসতেগফার করা

রমজানের আগের সব গুনাহ থেকে তওবা ইসতেগফার করতে হবে। কোন অন্যায় কারী যদি ভাবে যে, রমজান চলে এসেছে আর আমার সব গুনাহ হয় এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে, বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আগে থেকে তওবা ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরী। আর তাতে আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দার আগের সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দিয়ে  জীবন সুন্দর করে দেবেন এজন্য বান্দা বেশি বেশি পড়বে।আল্লাহু আল্লাহুমমাগফিরলি হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন ।

রমজানের সব উপকারিতা স্মরণ করা

বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কুরআন সুন্নাহই যেসব ফজিলত মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সেসব উপকার পেতে কুরআন সুন্নাহর দিকনির্দেশনা গুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়া। মাস রমজান আসতেছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথার স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এ দোয়াটি বেশি বেশি করা। 

আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন। 

মানসিকভাবে প্রতিজ্ঞা নেওয়া

রমজান মাসে পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জীবনভর যত গুনাহ করেছি এ রমজানে সে সব গুনাহ ও অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরী।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি

আফশোসের বিষয় অনেক সময় পূর্বে প্রস্তুতি না থাকার কারণে রমজান পেয়েও মুমিন মুসলমান পরিপূর্ণ সওয়াব ও ক্ষমা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।। প্রতিজ্ঞা এমনভাবে করো যে চাকরি-বাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য বা নিজের কাজ যেমনই হোক, আমি আমার বিগত জীবনের সবে গুনা থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নেব। আমার প্রতি আল্লাহকে রাজি-খুশি করিয়ে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। 

কাজা রোজা আদায় করা


রমজান শুরু হওয়ার আগে বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়ার কারণে বা সফরের কারণে রমজানের ফরজ রোজা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেয়া। বিশেষ করে মা-বোনদের ভাংতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসে এর সময়ে কাঁচা রোজা আদায় করে নেওয়া উচিত। এতে দুইটি ভালো আমল বাস্তবায়িত হবে। 

প্রথমটিঃ 

বিগত জীবনের কাজা রোজা আদায় হবে। রমজানের রোজা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। 

দ্বিতীয়টিঃ 

সুন্নাতের অনুসরণ হবে। রমজানের আগের মাস সাবানে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। কাজা রোজা আদায় করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণ হয়ে যাবে। 

সাধারণত ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা

আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এর সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জোটে না। কেননা এর ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। তাহলো--

শিরক, থেকে মুক্ত থাকা। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় হীরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তওবা ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা। হিংসা থেকে মুক্ত থাকা। কারো প্রতি কোন বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুষের সব নেক আমলকে সেভাবে জ্বালিয়ে দেয়। যেভাবে আগুন কাটকে জ্বালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভের স্বচ্ছ রাখা।

রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করা

শাবান মাসের 29 তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নত। মুছে যাওয়ার পথে থাকা এ সুন্নতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা। বর্তমান সময়ে চাঁদ দেখা হেলাল কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকা রেওয়াজও পরিণত হয়েছে। আবার অন্য অনেকে মোবাইল বা রেডিও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান। তা থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নতকে জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রাখা। 

যারা রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে তারা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পড়া সেই দোয়াটি পড়বে। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-- হযরত তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ রাদি আল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চাঁদ নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন--
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি

উচ্চারণঃআল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিললাহু আলাইনা বিল আমি ওয়াল ঈমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াততাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়াতারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকা ওয়াল্লাহু। 

অর্থঃ আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালবাসো এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তৌফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক, ( তিরমিজি মিশকাত)
সাবান মাস ধরে রমজানের 

শাবান মাস জুড়ে রমজানের মহড়া চালু করা

রমজান মাসের বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কোরআন অধ্যায়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তওবা করা ইসতেগফার করা। ট্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। ডান সদকা শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন পুরো রমজান জুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

শেষ কথা 

আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের জন্য ১১ ধরনের অগ্রিম প্রস্তুতি সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি উপরের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকারে আসবে।আমার আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে ভালো লাগলে , আমার ওয়েবসাইটের সঙ্গেই থাকুন এবং,লাইক করুন কমেন্ট করুন এবং বন্ধুদের কাছে শেয়ার করবেন, এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ








এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url