আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল চাষ,বাউকুল চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হউন
বাংলাদেশের আবহাওয়া কুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জলাবদ্ধতা হীন যে কোন মাটিতে বাউকুল চাষ করা যায়।এই গাছের জীবনীশক্তি অনেক। অল্প পুঁজি, অল্প জমি এবং অল্প সময়ে বাউকুল চাষ করে সফলতা আনা সম্ভব।
বাউফল চাষের মাধ্যমে এক বিঘা ( ৩০ শতাংশ) জমি থেকে ৬ বছরের সম্ভাব্য ন্যূনতম আয় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব । এছাড়াও বিভিন্ন সাথী ফসল তো আছেই।
পোস্ট সূচিপত্রঃ আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল চাষ, করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হউন
- বাউকুল চাষ
- উদ্ভাবন নিয়ে কিছু কথা
- বাউকুলের পুষ্টি মূল্য ও ব্যবহার
- লাভজনক ফলের চাষ বাউকুল
- বাউকুল বাগান স্থাপনে করণীয়
- জলবায়ু মাটি ও রোপন
- বাউকুলের জমিতে সার ব্যবস্থাপনা
- প্রথম উপরি প্রয়োগ
- বাউকুলের বংশ বিস্তার
- অন্যান্য পরিচর্যা
- টব/অর্ধ ড্রামে বাউকুল চাষ
- বাউল চাষে পোকামাকড় ও রোগবালায়
- প্রতিকার
- শেষ কথা
বাউকুল চাষ
চারা লাগানো প্রথম বছর ছাড়া প্রতিবছর গাছ ছাটার পর জমি ফাঁকা হয়ে যায়। তখন
মৌসুমী সবজি চাষ করে কুল বাগানের বাৎসরিক পরিচর্যা খরচ উঠে নেওয়া সম্ভব। এই সময়
টুকুতে, বেগুন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, ঢেঁড়স, অথবা হাইব্রিড ধনে পাতার চাষ করা
যায়। দক্ষিণ ইশিয়ায় বহুল প্রচলিত, কনক পুরনো গাছের বড়ই জাতীয় ফল। এর কোন
ইংরেজি নাম নেই। বৈজ্ঞানিক নাম Zizyphus mauritiana । এর বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবিত
বিভিন্ন জাত রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ হাঁটুর ব্যাথা দূর করার ঘরোয়া উপায়
কুল বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। টক মিষ্টি স্বাদের জন্য প্রায় সব
বয়সের মানসিকুল পছন্দ করে। বাংলাদেশের আনাচে গান আছে অনেক রকমের ও সাধের ফুল
চোখে পড়ে। তবে সচরাচর যেগুলো চাষ হয় তা হল ঢাকা 90, নারিকেলি, আপেল কুল, তাই
অনকুল ও থাইকুল। এই কুল গুলোর সাথে আর একটি ফুলের নতুন সংশোধন হয়েছে তা হল এফ টি
আই পি বাউকুল ১ । এই কুলটির সৌন্দর্যের মাধুরী মেশানো রূপে গুণে ভরপুর।
সুস্বাদু, সুমিষ্ট, রং,রস,গুন, সুগন্ধ, স্পর্শ ও মাধুরী মেশানোর দৃষ্টিনন্দন এই
ফলটিকে নির্দ্বিধায় বলা চলে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ফল সোমবারের মাঝে এক অনেক
অভিনব অলংকৃত সংযোজন। বাওকুল চাষের আয় ব্যয়ের হিসাবটুকু একটু মিলিয়ে নেয়া
যাক। হে আলোকে নিম্নের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের ছক দেখানো হলো:
এক বিঘা জমিতে কুল চাষ করতে প্রথম বছর চারার দরকার হয় ১১৫ টি। সে ক্ষেত্রে শাড়ি
থেকে শাড়ির দূরত্ব ১২ ফুট এবং সারা থেকে যারা দ্রুত ছয় ফুট। তিন বছর পর দুটি
গাছের মাঝ থেকে একটি গাছ উঠিয়ে ফেলতে হবে এবং গাছের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫ টি।
উপরোক্ত হিসেব অনুযায়ী ছয় বছরে এক বিঘা জমি থেকে নেট লাভ ৭০, ৬২,০০০/- টাকা।
উদ্ভাবন নিয়ে কিছু কথা
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হল মাছ ফসলের ক্ষেত্রে আমাদের যতটুকু সফলতা এসেছে সে
তুলনায় ফল উৎপাদন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সফলতা অনেক কম। ফল গাছ উন্নয়ন প্রকল্প,
উদ্যান তত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ দেশের একক ও সব
বৃহৎ ফল গাছের সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছে। এখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতের ফলের
গাছ/জাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, উৎপাদন এবং তার ওপর গবেষণা চালিয়ে দেশ দেশে ব্যবহার
উপযোগী প্রযুক্তি ও জাত উদ্ভাবন ওর সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।
এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্রকল্প, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও ফিলিপাইন, সোমালিয়া,
তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে বেশ কিছু ফুলের জাত সংগ্রহ এবং নির্বাচনের
মাধ্যমে বাওফুল একজাত বাছাই করা হয়। বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামানো
সুরে এই জাতের নামকরণ করা হয়েছে এফটিআইপি বা উপকূল ১। জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন
দিগন্তের সূচনা সম্ভব হোক এই জাতির উদ্ভাবন প্রফেসর ডঃ এম এ রহিম।
বাউকুলের পুষ্টি মূল্য ও ব্যবহার
ফুল সাধারণত পাকা ও টাটকা অবস্থায় খাওয়া হয়। ফুলের জাত ও পরিপক্ক তার বিচারের
খাদ্য মানের কিছুটা তারতম্য হওয়ার স্বাভাবিক। কোন খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
বিভিন্ন খনিজ এবং ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি এর একটি ভালো উৎস হচ্ছে কুল। কুলে
সাধারনত ৮৫.৯ ভাগ পানি, ০.৮ ভাগ আমিষ, ০ .১ ভাগ, ১২.৮ ভাগ লৌহ থাকে। প্রতি ১০০
গ্রাম শ্বাসে ৫৫ ক্যালোরি শক্তি, ৭০ আই ইউ ক্যারোটিন ও ৫০ থেকে ১৫০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি বিদ্যামান।
কুল শুকিয়েও পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য ঘরে রেখে দেওয়া যায়। শুকনো ফুল ডালের
সাথেও বহু ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ফুল দিয়ে আচার, চাটনি, মোরব্বা শরবত
ও জেলি তৈরি করা যায়। তাছাড়া আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্রে কুলের বহুভুজ ব্যবহার
লক্ষ্য করা যায়। কুল গাছে একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র পোকা লালন করে গালা তৈরি করা
যায়।
লাভজনক ফলের চাষ বাউল
বাড়ির আশেপাশে এবং অনেকের অনেক পতিত জমি আছে। যা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে
এর ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। যদি ঐ পতিত জমি ব্যবহারের ব্যাপারে একটু ঠান্ডা
মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলেই এর সমাধান পাওয়া যাবে। আমাদের প্রথমে চিন্তা করতে
হবে কি করে ন্যূনতম খরচ করে, স্বল্পতম সময়ে, সহজ উপায়ে অপেক্ষা কৃত কম
ব্যবস্থাপনায়, নিশ্চিত ও সর্বোপরি লাভজনক চাষ করতে চাই। এর উত্তর খুব সহজ। আর তা
হচ্ছে ফলের চাষ এবং তা অবশ্যই বাউকুলের চাষ।
আরো পড়ুনঃ ভূমিকম্প হলে করণীয় কি ও বাঁচার উপায়
আমরা অত্যন্ত পরীক্ষিত এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছি বা উপকূল ১ হচ্ছে
প্রশ্নগুলোর উত্তর এবং বর্তমান সময়ের লাভজনক ফলের চাষ। বাউল ফুল ১: গাছ লাগানোর
চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফল পাওয়া যাবে । চার থেকে পাঁচ
মাসের একটি গাছ থেকে কমপক্ষে ১০ কেজি কুল পাবেন। যা থেকে ৫০ টাকা কেজি পাইকারি
মূল্য হিসেবে আই হয় ৫০০ টাকা। এই হিসাবে করে ৪৪৫টি গাছ থেকে দ্বিতীয় বছরে (৩০
কেজি/ গাছ ধরে) আই হবে প্রাইস ৬ লক্ষ টাকা।
বাউকুল ১ বাগান স্থাপনে করণীয়
প্রথমেই আমাদের প্রয়োজন হবে প্রকৃত মাতৃ গাছ সংগ্রহ করা। বংশানুক্রমিক মাতৃগাছ
ছায়া জাতের বিশুদ্ধতা থাকবে না এবং ডাল ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না।। বড় বড়
প্রায় সব নার্সারিতেই এখন বাহু খুলে চারা পাওয়া যায়।
জলবায়ু মাটি ও রোপন
কুল গাছ এর পরিবেশিক উপযোগিতা খুবই ব্যাপক। সাধারণত শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু পল
চাষের জন্য সর্বোত্তম। এতে কোলের ফলন ও গুনাগুন দুই ভাল হয়। অতিরিক্ত আদ্রতা ফুল
চাষের জন্য ভালো নয়। বাওকুল এক সারা বছরই লাগানো যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে লাগানো
উত্তম। গভীর দোআঁশ বা উর্বর মাটি কুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জমি ভালোভাবে
চাষ করে বাউফল ওয়ান এর জন্য ১০ বাই ৭ ফুট এবং চারা থেকে চারা ৭ ফুট দূরত্বে ৩
ফুট বৃত্তাকারে ও ২ ফুট গভীর করে গর্ত করতে হবে
বাউকুলের জমিতে স্যার ব্যবস্থাপনা
বাউফল ১ এর কলম চারা রোপন করার ১৫/২০ দিন পূর্বে গর্তে ২০ থেকে ২৫ কেজি গোবর সার,
২০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম এমওপি, এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।
তবে মাটি খুঁও বর্বর হলে রাসায়নিক সার দেওয়ার দরকার হয় না। রোপনের বছর বর্ষার
আগে ও পরে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম করে টিএসপিও এবং এমওপি সার ও ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার
প্রয়োগ করতে হবে।
তবে গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সার প্রয়োগের পরিমাণও বাড়াতে হবে। একটি
পূর্ণবয়স্ক গাছে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পচা গোবর সার, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম করে টিএসপি
এবং এমওপি সার দ্রব্য, ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং গাছের গোড়া থেকে চারপাশে ৫০ সেমি
বাদ রেখে ওই গাছের ডালপালা যে পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে সে পরিমাণ জমিতে প্রয়োগ করে
ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
এই সময় বর্ষা না থাকলে প্রয়োজনমতো সেচ দিতে হবে। বাউকুল ১ সম্পূর্ণ জৈব
উপায়েও চাষাবাদ করা যায়। বাগান সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। চারা লাগানোর পর
পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে এবং গাছে ফুল আসার আগে উপরে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও
গাছের বৃদ্ধি কমে কম হলে প্রথম প্রয়োগের ৪০ দিন পর গাছ প্রতি 100 গ্রাম ইউরিয়া
প্রয়োগ করতে হবে।
প্রথম উপরি প্রয়োগ
গাছ প্রতি ইউরিয়া ৫০ গ্রাম, এমওপি ৫০ গ্রাম এবং খোল ৫০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে
গাছের ছয় ইঞ্চি দূরত্ব রিং প্রয়োগ করে হালকা নিড়ানি দিয়ে মাঠের মাটির সাথে
মিশিয়ে দিতে হবে। গাছপতি ইউরিয়া ১০০ গ্রাম, এমওপি ৫০ গ্রাম, টিএসপি ২০০গ্রাম,
একসাথে মিশিয়ে গাছের ছয় ইঞ্চি দূরতে প্রয়োগে হালকা নিরানি দিয়ে মাটির
সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
বাউ কুলের বংশ বিস্তার
ফলের গুনাগুন রক্ষার জন্য বাউফল ১ কুড়ি সংযোজন ও জোড় কলমের মাধ্যমে বংশবিস্তার
করা যায়। প্রতিবছর কুল উঠানোর পর মার্চ মাসের শেষের দিকে গাছগুলোর আকার অনুসারে
তিন থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় মূল কাণ্ডটি রেখে সব ডালপালা সেঁটে দিতে হবে এবং
বাগানের মাটি হাল্কা করে কুপিয়ে প্রথমবার জমি তৈরির মতো গোবর ও অন্যান্য সার
পরিমাণ মতো প্রয়োগ করে তৈরি করে দিতে হবে।
অন্যান্য পরিচর্যা
বর্ষাকালে পানি নিকাশ ও খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ প্রদান করা দরকার। এছাড়া কুল
গাছের সাধারণত নতুন গজানোর চলতি বছরের প্রশাখায় ফল ধরে, তাই কুলগাছের বৃদ্ধি ও
পরিমিত ফল ধারণের জন্য অঙ্গ ছাটাই একটি অতীত জরুরি ও অত্যাবশক কাজ। সময়মতো ও
সঠিক জায়গায় ঝাঁটায় না করলে আপনার বাগান নষ্ট হয়ে যেতে পারে কলম চারা মাটিতে
লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কলমচারার জোড়া কৃত অংশের নিচে কোন ডালপালার না
গজায়।
অর্থাৎ চোরাকৃত অংশের নিচের অপ্রয়োজনীয় ডাল সবসময় কেটে পরিষ্কার করে
রাখতে হবে। মার্চের শেষ দিকে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় মূল কাণ্ড রেখে বাকি ডাল
কেটে ফেলতে হবে। কাটা অংশটিতে আলকাতরা দিয়ে দিতে হবে। এরপর কর্তিত গাছে প্রচুর
পরিমাণে নতুন কুসি বের হবে। এরপর মাটি থেকে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতা পর্যন্ত নতুন
কুসি কেটে দিতে হবে। এতে ওপরের অংশের শাখা প্রশাখা ছাতার মতো আকার ধারণে করবে এবং
গাছ ঝগড়া হবে।
ফলন্ত গাছের বেলায় প্রতিবছর মৌসুমী ফল সংগ্রহের পর ফল ধারণকারী দলসমূহ
ঘোড়ার দিক ৪০ থেকে ৫০ সেমি রেখে কেটে ফেলতে হবে। তবে কুল চাষে ভালোভাবে লক্ষ্য
রাখতে হবে যে, ফুল বাগানের মধ্যে বা আশেপাশের কোন জংলি বড়ই না থাকে। কেননা এগুলো
পাউডারই মিল ডিউ রোগের জীবাণু ও প্রফলের মাছি পোকার পোশাক হিসেবে কাজ করে।
টব/অর্ধড্রামে বাউকুল চাষ
গ্রামের বাউকুল ১ এর চাষ সফলভাবে করা যেতে পারে। মাটির তৈরি টপ অথবা অর্ধ গ্রামে
সমপরিমাণ মাটি ও পচা গোবর সার (অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক পঁচা গোবর সার) ভালোভাবে
মিশিয়ে টপ অর্ধ /ড্রামে নিয়ে চারা কলম লাগাতে হবে। এজন্য কোন রাসায়নিক
সার দেওয়ার প্রয়োজন নাই। তবে গাছের নতুন কচি পাতা বের হয়ে তা পরিপক্ক হওয়ার
পর ২ থেকে ৩ টি ট্যাবলেট সার (সিলভার ম্যাক্স /সিভামিকস ফোর্ট) গাছের গোড়া থেকে
পাঁচ থেকে সাত সেমি দূরে মাটির পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমি গভীরে পুতে দিতে হবে। তবে
টব অথবা অর্ধ ড্রামে গাছে প্রয়োজন অনুসারে নিয়মিত সেচি ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা
রাখতে হবে।
পোকামাকড় ও রোগ বালাই ব্যবস্থা
মাছি পোকা, শুয়া কীড়া শাসালো ও পাকা কুলের শাঁসের মধ্যে ঢুকে শ্বাস খেতে খেতে
আর ্ট আটি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অনেক সময় আক্রান্ত ফল পচে যায়। শুয়াপোকা কুচি
পাতা থেকে শুরু করে বয়স্ক পাতাকে অনেক সময় গাছকে নিষ্প্রাণ করে ফেলে। লাক্ষা
পোকা কুচি বিটপে প্রথমে আক্রান্ত করে। পরবর্তীতে সাদাটে লাল পোকা গুলো দ্বারা
শাখা প্রশাখা আক্রান্ত হয়ে শুকাতে থাকে। উপরোক্ত এর পোকা গুলো দমনের জন্য দেশি
ডিমবুস প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি প্রয়োগ করে সহজেই দমন করা যায়।
এছাড়া কুল গাছের সাদা মাছি পোকার আক্রমণও লক্ষ্য করা যায়। এজন্য 10 গ্রাম লিটার
হারে ডিটারজেন্ট পাউডার স্প্রে করে এই পোকা সহজেই দমন করা যায়। বাউকুল গাছে
সাধারণত পাওডারী মিল্ক ডিউ ও ফলের প্রচলন রোগ দেখা যায়। এ রোগ দমনের জন্য এক
পারসেন্ট বৈদ্য মিশ্রণ বা কোম্পানিও প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ভালোভাবে
মিশিয়ে প্রতি সাত থেকে দশ দিন অন্তর দুই তিন দুই থেকে তিনবার স্প্রে করে এই রোগ
দমন করা যায়।
কুল গাছে বর্তমানে যে রোগটি সবচেয়ে মারাত্মক ভাবে আক্রমণ লক্ষ্য করা যায় তা হল
সঠিক মোল্ড রোগ অর্থাৎ পাতা ও কাণ্ডে কালো স্পট পরে। এজন্য ডিটারজেন্ট পাউডার ১০
গ্রাম লিটার দিয়ে পাতা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে এ থেকে এ রোগ দমন করা যেতে
পারে। ভালো যত্ন করলে বাউ কুল এক জাতের এক বছরের গাছ থেকে একর প্রতি 6 থেকে 7
হাজার কেজি ফল পাওয়া যায়। যথেষ্ট প্রতিকূলতা সহনশীল ফুল গাছ সাধারণত বিছা পোকা,
লাল ক্ষুদ্র মাকড়সা, কাণ্ড ও ফল ছিদ্রকারী পোকা ও এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা
আক্রান্ত হয়।
প্রতিকার
ভিসা পোকা ও অন্যান্য পাতা খেকো পোকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিশ জাতীয়
কীটনাশক মিশিয়ে সব গাছে স্প্রে করে দিতে হবে। মাকড়সা দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রতি
লিটার পানিতে ২ টাফগড় সাথে দুই গ্রাম মিশিয়ে সাথে স্পেস করতে হবে। কাণ্ড গোপালী
পোকার আক্রমণ হলে প্রতি লিটার এক মিলিমারে ছাইপার মেথিন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে
করতে হবে। ছত্রাক ছত্রাকের আক্রমণ হলে প্রতি লিটার পানিতে কারবেন গাজন এবং দুই
গ্রাম মেইনকোজেন ভালোভাবে মিশে সমস্ত গাছের স্প্রে করতে হবে। এছাড়া অধিক ফলনের
জন্য ফুলে লিটনের বা এগনাল এবং ভালো মানের পিজিআর ব্যবহার করুন।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, আজকে আর্টিকেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল
চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়।আশা করি উপরের পুরো আর্টিকেলটি
মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন, আপনাদের ভালো লাগাই আমাদের
কাম্য। এমন আরো তথ্য মুলক আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন, এবং
লাইক কমেন্ট শেয়ার করুন, এতোক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url