টেনশন দূর করার ১১ সহজ উপায় অতিরিক্ত টেনশন হলে যা হয়

আপনি কি জানতে চান কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য । কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন এই বিষয়ে এই পোস্টে জানতে পারবেন। আজকে আলোচনা করব কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন তা নিয়ে।

টেনশন-দূর-করার-১১-সহজ-উপায়-অতিরিক্ত-টেনশন-হলে-যা-হয়

অতিরিক্ত টেনশন আমাদের জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কি করতে হবে। তাই আজকের আর্টিকালে বিস্তারিত আলোচনা করব অতিরিক্ত টেনশন থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন তার সম্পর্কে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ টেনশন দূর করার ১১ সহজ উপায়--কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন 

টেনশন দূর করার ১১ সহজ উপায়ঃ

টেনশন বা মানসিক চাপ কমাতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বার্থকর খাবার, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সাথে কথা বলা, শখের কাজ করা এবং মাইন্ডফুলনেস বা মেডিটেশন এর মত কৌশল গুলোর সাহায্য করে: পেটের সমস্যা ও সম্পর্কের অবনতি হতে পারে, যা শরীর ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিচে টেনশন দূর করার সহজ ১১ উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

১।গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন

মানসিক চাপে থাকলে আমরা সাধারণত অগভীর শ্বাস নেই, যা মূলত দুশ্চিন্তা বাড়ায়। উদ্বেগ দূর করার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু নিয়ম আছে-

১। আপনার মধ্যচছদা(ডায়াফ্রাম) পর্যন্ত গভীর একটি নিশ্বাস নিন, যাতে আপনার পাঁজর বিস্তৃত হচ্ছে বলে বোধ হয় ।

২। একবার যখন নিশ্বাস করলো বলে মনে হবে, তখন আরও তিনবার শ্বাস নিন ও ধরে রাখুন। 

৩। এইবার পুরো নিঃশ্বাস ছেড়ে দিন এবং ছোট ছোট আরো ৩ বার  নিঃশ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করুন।

৪। তিন চার বার পুনরাবৃত্তি করুন।


গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন মানে হল ধীরে ধীরে নাক দিয়ে ফুসফুসের নিচের অংশ পর্যাপ্ত বাতাস টেনে নিন (পেট ফুলে উঠবে), তারপর মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে বের করে দিন । যা চাপ কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে, এবং শরীরকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপ, উদ্যোগ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে খুবই কার্যকর, যার যেকোনো সময় যে কোন জায়গায় করা যায়, যেমন- আরাম করে বসুন, এক হাত কেটে ও অন্য হাত বুকে রেখে পেট ফুলিয়ে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন, এভাবে কয়েক মিনিট করুন ।

২।নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম করলে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা যায়, যা<হৃদরোগ<ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও মানসিক চাপ কমায়, শক্তি বাড়ায়, হাড় মজবুত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে: দিনে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাটা বা বাড়িতে স্কোয়াট , পুশ -আপের মতো ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে। যা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

৩। পর্যাপ্ত ঘুমান

পর্যাপ্ত ঘুম (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘন্টা) শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুকি কমাতে, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে অপরিহার্য; ভালো ঘুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন মেনে চলা, সবার ঘর ঠান্ডা ও শান্ত রাখা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরী, যা আপনাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করবে ।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন, এমনকি ছুটির দিনেও ঘুমান। সবার ঘরটি অন্ধকার শান্ত এবং ঠান্ডা রাখুন। ঘুমানোর অন্তত 30 থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বন্ধ করুন। সন্ধ্যায় ক্যাফেইন এবং ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ঘুমানোর আগে বই পড়া বা হালকা গান শোনার মত রিলাক্সি কাজ করুন। ঘুম না এলে জোর করে বিছানায় থাকবেন না, উঠে অন্য কিছু করুন যতক্ষণ না ঘুম আসে। 

৪।স্বাস্থ্যকর খাবার খান

ইতিমধ্যে একি প্রমাণিত যে, জাঙ্ক ফুড আমাদের মনের বিষাদ বাড়িয়ে দেয় (মেদ বহুলতার কথা তো বলাই বাহুল্য) কাজেই খাদ্যাভাসে একটু পরিবর্তন নিয়ে আসুন। আমিষ ও শস্যজাতীয় খাবার আমাদের শক্তি বাড়ায় এবং মানসিকতা পরিবর্তন আনতেও যথেষ্ট উপযোগী। বিজ্ঞানীদের মতে, কাঠবাদাম, সামুদ্রিক মাছ, শাক সবজির মত খাবার মানসিক চাপ দূর করার ভূমিকা রাখে।
 
স্বার্থপর খাবার মানে হল তাজা শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, চরবিহীন প্রোটিন, (মাছ ,মুরগি), এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল) খাওয়া, যার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি যোগায়, এবং চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, যার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে ও সুস্থ থাকতে সহায়তা করে ।

স্বার্থপর খাবার খাওয়া সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা বজায় রাখতে প্রতিদিন শাকসবজি খাওয়া উচিত। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য, চরবিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন। চিনি যুক্ত স্ন্যাকস, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া সীমিত করুন। শরীরকে আদ্র রাখতে সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। 

৫।নিজের জন্য সময় বের করুন

নিজের জন্য সময় বের করা মানে নিজের শখ, বিশ্রাম ও আত্ম -উন্নয়নের জন্য কিছু একান্ত মুহূর্ত বের করা, যা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য জরুরী: এর জন্য প্রতিদিনের রুটিনে ছোট ছোট বিরতি রাখা, যা ভালো লাগে (বই পড়া ,গান শোনা ,হাটা,)তা করা। এবং কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। 

নিজের জন্য সময় বের করার কিছু উপায় নিজেকেই বের করে নিতে হবে। প্রতিদিনের কাজের মাঝে 15 থেকে 30 মিনিটের জন্য নিজেকে সময় দিন। সকালে বা রাতে এই সময়টা বরাদ্দ রাখতে পারেন। বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা বা পছন্দের কোন রেস্তোরাঁ একা খেতে যাওয়া ইত্যাদি ।যাতে আপনার মন ভালো থাকে, তাই করুন। 

একটানা কাজ না করে কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নিলে মন ও শরীর সতেজ থাকে। নিজের জন্য এই সময়টুকু খুব জরুরী মনে করুন, কারণ এটি তাপ কমাতে ও নিজেকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করে। নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ভাবুন এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করুন। কিছু কাজ বা দায়িত্ব অন্যের উপর ছেড়ে দিতে শিখুন, যাতে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা যায়। 

এই ছোট্ট ছোট্ট অভ্যাস গুলো আপনাকে ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে রিসার্চ করতে এবং একটি সুস্থ ও ভারসাম্য জীবন যাপন করতে সাহায্য করবে। 

৬।ইন্টারনেট ও ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিন

সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। মানসিক চাপ কমাতে না পারার একটি বড় কারণ হচ্ছে ইন্টারনেট ও টেলিফোন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে না পারা। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে অন্তত এমন কিছু বিষয় থেকে দূরে থাকা যায়, যা আমাদেরকে বিষাদগ্রস্থ করে তোলে। আর তাছাড়া নিজের মূল্যবান সময়গুলো কেউ উপভোগ করা যায় নিজের মতো করে।

ইন্টারনেট ও ফোনের ব্যবহার কমাতে অ্যাপ নোটিফিকেশন বন্ধ করুন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা সীমিত করুন, অফলাইন কন্টেন্ট ডাউনলোড করুন, শুধুমাত্র ওয়াইফাই ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় app মুছে ফেলুন, এবং স্ক্রিনের সময়সীমা সেট করুন। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং বাস্তব জীবনে বই পড়া বা নতুন শক তৈরি করুন, এতে ডিজিটাল আসক্তি কমবে ও মনোযোগ বাড়বে। 

৭।জার্নাল লিখন

জার্নাল লিখন হল ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ রেকর্ড করার একটি প্রক্রিয়া, যা আত্ম প্রতিফলন মানসিক চাপ হ্রাস, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত বিকাশে সাহায্য করে। এটি কোন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেনা; আপনি নোটবুক, ডিজিটাল অ্যাপ বা ভয়েস রেকর্ড ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে ভুল হলেও সমস্যা নেই, কারণ এটি মূলত নিজের জন্য লেখা।জার্নাল লেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বের করা, মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত লেখা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা আপনাকে নিজেকে ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

৮।নেতিবাচক চিন্তা চ্যালেঞ্জ করুন

নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করতে, সেগুলোকে সনাক্ত করুন, প্রমাণ যাচাই করুন এবং সেগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন করুন, যার জন্য মুড ডায়েরি রাখা, প্রশ্ন করা (যেমন প্রমাণ কি? অন্য ব্যাখ্যা কি হতে পারে?) এবং ইতিবাচক কাজে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ।

যখনই কোন নেতিবাচক চিন্তা আসবে, সেটিকে চিহ্নিত করুন। একটি মুড ডায়েরি রাখতে পারেন যেখানে চিন্তা ও অনুভূতির রেকর্ড রাখবেন। নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন: সবচেয়ে খারাপ কি ঘটতে পারে তা ভেবে দেখুন এবং সেটি কতটা বাস্তবসম্মত তা যাচাই করুন । একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত চিন্তা তৈরি করুন, যা নেতিবাচক চিন্তার বিপরীত। যেমন, আমি সব সময় ব্যর্থ হই"এর বদলে"আমি কিছু কাজে ব্যর্থ হলেও অন্য কাজে সফল হই" ।

৯।প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন

প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানে মানসিক শান্তি, স্ট্রেস কমানো এবং সুস্থ জীবন যাপন করা, দা আমাদের চারপাশে থাকা গাছপালা, নদী ,পাহাড়, প্রাণী ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে আসে: এটি শুধু উপভোগের বিষয় নয়। বরং আমাদের বেঁচে থাকা ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য, কারণ প্রকৃতিই অক্সিজেন, জল ও খাদ্যের যোগান দেয় এবং জীবনের কঠিন মুহূর্ত গুলো মোকাবিলায় সাহায্য করে। 
টেনশন-দূর-করার-১১-সহজ-উপায়-অতিরিক্ত-টেনশন-হলে-যা-হয়
প্রকৃতির বিশালতাকে অনুভব করলে মন শান্ত হয় এবং বিছন্নতা কমে, যা আধুনিক জীবনের চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রকৃতির সাথে সময় কাটালে শরীর সুস্থ থাকে, যা সন্ন্যাসীদের ধ্যান ও শান্তির খোঁজ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। প্রকৃতি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জল, মাটি ও খাদ্য সরবরাহ করে। মহান আল্লাহর সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্য, গ্রহ ,নক্ষত্র ,পাহাড় ,পর্বত ,নদী-নালা ইত্যাদি আমাদের স্রষ্টার মহত্ব ও কুদরতের নিদর্শন স্মরণ করিয়ে দেয়। যা ঈমানকে শক্তিশালী করে। 

১০।নতুন কিছু শিখুন

নতুন কিছু শেখা মানে নিজেকে সমৃদ্ধ করা, যা কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে উন্নতির চাবিকাঠি; এর জন্য প্রতিদিন অল্প সময় দেওয়া, নতুন কৌশল ব্যবহার করা (যেমন: জিজুয়ালাইজেশন, গেমিফেকেকেশন) এবং ভুল থেকে শেখার মানসিকতা রাখা জরুরী, যা আপনাকে বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করবে । প্রতিদিন অল্প সময়ে নিয়ে কিছু শিখুন, এতে বিষয়টা সহজ মনে হবে। 

কঠিন বিষয় ক শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন বোঝা হিসেবে নয়।শেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। যা শিখছেন তা মানসিকভাবে কল্পনা করুন এতে মনে রাখা সহজ হয়। নিয়মিত অনুশীলন করলে নতুন দক্ষতা আয়ত্ত করার সহজ হয়। ভুল করতে ভয় পাবেন না ভুল গুলোই শেখার সেরা মাধ্যম। কঠিন বিষয় কে শেষা শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন বোঝা হিসেবে নয়।। কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আরও উপযুক্ত ও দক্ষ প্রমাণ করতে সাহায্য করে।

১১।মনের অস্থিরতা দূর করার উপায় খুঁজুন

আপনাকে দুশ্চিন্তা গ্রাস করতে থাকলে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন অথবা বাড়ির ছাদ থেকে দৃষ্টি প্রসারিত করুন। গবেষণায় পাওয়া গেছে, নতুন ভ্যানটেজ পয়েন্ট (যেখান থেকে বৃষ্টি ফেলে অনেক কিছু দেখা যায়) অথবা আকর্ষণীয় স্থানে ভ্রমণ নিষ্ফল চিন্তার প্রক্রিয়া ধ্বংস করতে যথেষ্ট । আপনার মনের বিক্ষোভটা দূর করতে নতুন কোন শখেও ব্যস্ত হতে পারেন। যেমন ,দৌড়ানো, নিত্য করা, কাপড় বোনা অথবা কোন যন্ত্র সম্পর্কে জানা। দুশ্চিন্তা যত বেশি বেড়ানোর চেষ্টা করবেন, মনের অশান্তি তত কমে যাবে। আপনার শক্তিকে ইতিবাচক ভাবনায় প্রবাহিত করার একটি ভাল উপায় হল কোন বিশেষ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা।

অতিরিক্ত টেনশন হলে যা হয়ঃ

অতিরিক্ত টেনশন হওয়ার আগে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের কিছু পরিবর্তন আসে। যে পরিবর্তনগুলো দেখলে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন যে আপনি অতিরিক্ত টেনশনে ভুগছেন। আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন অতিরিক্ত টেনশন হলে সর্বপ্রথম যেটা হয় তা হলো প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে। মাথাব্যথার পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয়, অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রচুর পরিমাণে ঘুম আসে আবার অনেকের ক্ষেত্রে একদম ঘুম আসে না। 

খাবার খাওয়ার রুচি কমে যায়, সব সময় অন্যমনস্ক হয়ে থাকে। কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। এরকম নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। যার মাধ্যমে সহজে বুঝতে পারবেন যে আপনি অতিরিক্ত টেনশনে ভুগছেন। কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন সেই বিষয়ে এজন্যই অবশ্যই জানা দরকার। নিম্নেতা আলোচনা করা হলো: 

১।টেনশন দূর করার খাবার

মানব দেহের সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে, দেহকে সুস্থ ও সকল রাখতে নিয়মিত পুস্তিকার খাবারের কোন বিকল্প হতে পারে না। অর্থাৎ শরীরকে সুস্থ, সবল, স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রধান ওষুধ হলো পুষ্টিকর খাবার। তেমনি কিছু খাবার আছে যা খাবার গুলো অতিরিক্ত টেনশন দূর করতে পারে। তেমনি কিছু খাবার হল পালং শাক, গাজর, টক দই, সবুজ শাক-সবজি, বেরি জাতীয় ফল, বাদাম, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার ইত্যাদি। 

এই খাবারগুলো হাইপার টেনশন দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া আরো আছে রসুন। রসুনের মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকলে আপনার মানসিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 

২।কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন

অতিরিক্ত টেনশন আমাদের শরীরের জন্য খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন কারণে আমরা প্রতিনিয়ত টেনশনের মধ্যে পড়ে যাই। কিন্তু কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন সেই বিষয়ে অবশ্যই জানা থাকতে হবে। 
  • অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজের লাইফস্টাইল বা জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে হবে।
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে।
  • সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • একাকীত্ব পরিহার করে আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। 
  • বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে তাহলে টেনশন হবে না।
  • মেডিটেশন করতে হবে ।তাহলে মস্তিষ্ক শান্ত থাকবে।
  • সকল প্রকার মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। 
  • বাস্তব ভিত্তিক চিন্তাভাবনাই মনঃনিবেশ করতে হবে। 
  • অতীতের কোন কিছু ভেবে মন খারাপ করা ঠিক নয় 
  • যে কাজগুলো করতে ভালো লাগে সেই কাজের সময় দিতে হবে 
  • নিজ নিজ ধর্ম শস্য বেশি করে করতে হবে। 
তাহলে জানতে পারলেন কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন সেই বিষয়ে। এই কাজগুলো করলে ওর সহজেই অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাল্লাহ। 

৩।অতিরিক্ত টেনশন হলে শরীরে কি কি ক্ষতি হতে পারে

অতিরিক্ত টেনশন হলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা হল হার্ট অ্যাটাক। অতিরিক্ত টেনশনের ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যার ফলে ব্রেন স্টোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমরা ওপরে আলোচনা করেছি কিভাবে অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পাবেন সেই সম্পর্কে। অতিরিক্ত টেনশন করার কারণে শরীরের স্থলতা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। 

টেনশন-দূর-করার-১১-সহজ-উপায়-অতিরিক্ত-টেনশন-হলে-যা-হয়

অতিরিক্ত টেনশন করলে মস্তিষ্কের ওপর অনেক চাপ পড়ে যায়। এবং ফ্রিতে রোগীর সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার অতিরিক্ত টেনশন করার ফলে দেহের স্বাভাবিক ওজন হ্রাস পায়। অতিরিক্ত টেনশন করার ফলে মাথা ব্যথা হয় এবং সেই সাথে চোখে ব্যথা হয়। ফলে আস্তে আস্তে চোখের ক্ষতি হয়। 

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, আজকে রাতে গেলে আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি টেনশন দূর করার এগারো সহজ উপায় এবং অতিরিক্ত টেনশন করলে যা হয়,এই বিষয় সম্পর্কে। আমরা আশা করি আপনারা বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। উপরের পুরো আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়লে আশা করছি আপনারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সম্পর্কে জানতে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন অথবা আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন, এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এতক্ষণ আমার দের ওয়েবসাইটের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url